হিন্দু ধর্মে এমন কয়েকটি উপায় রয়েছে, যা পালন করলে অবসাদ ও নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা দূর হতে পারে।
হিন্দু ধর্মে এমন কয়েকটি উপায় রয়েছে, যা পালন করলে অবসাদ ও নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা দূর হতে পারে।

লকডাউনে অবসাদ? জানুন শান্তি-শক্তি সঞ্চারের ৫ উপায়

  • মহামারীর খবরে অনেকের মনেই অবসাদ। হিন্দু ধর্মে এমন কয়েকটি উপায় রয়েছে, যা পালন করলে অবসাদ ও নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা দূর হতে পারে।

করোনা ভাইরাসের জেরে দেশজুড়ে লকডাউন। এই সময় এই মহামারী সংক্রান্ত খবরে অনেকের মনেই অবসাদ এবং নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা দানা বাঁধছে। পরিস্থিতি এমন যে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে হিন্দু ধর্মে এমন কয়েকটি উপায় রয়েছে, যা পালন করলে অবসাদ ও নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা দূর হতে পারে। জানুন কি সেই পাঁচটি উপায়।

সূর্য নমস্কার- সূর্য সৃষ্টির শক্তির স্রোত। সূর্যের মাধ্যমে শুধু প্রকৃতি নয়, মানুষ-সহ সমস্ত প্রাণীর শরীরে প্রাণশক্তির সঞ্চার হয়। প্রতিদিন সূর্য উদয়ের সময় ঘুম থেকে উঠে, স্নান সেরে সূর্যকে জলের অর্ঘ্য দিন এবং সূর্য নমস্কারের অন্তত 12 টি আবৃত্তি করুন। প্রত্যেকটি আবৃত্তিতে 12টি অবস্থা এবং তার 12টি মন্ত্র হয়। সেই মন্ত্রোচ্চারণ করে সূর্য নমস্কার করলে নিজের মধ্যে অদ্ভুত শক্তির সঞ্চার অনুভব করবেন। এমনকি এর ফলে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

ওম-এর জপ- ওম-কে ব্রহ্মান্ডের প্রথম ধ্বনি বলা হয়। দিনের যে কোনও সময় শুধু 11 মিনিটের জন্য ওম উচ্চারণ করলে নেগেটিভ এনার্জি দূর হয়। সেই সঙ্গে নিজের চারপাশে একটি নিরাপত্তা বলয় অনুভব করবেন, যা আপনাকে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা এবং শক্তি দেয়। পরিবারের সকল সদস্য মিলে ওম জপ করলে, এর থেকে যে কম্পন উৎপন্ন হয় তা অত্যধিক লাভদায়ক। এ ক্ষেত্রে পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য নির্দিষ্ট দূরত্বে, আসন বিছিয়ে, পা মুড়ে বসুন। চোখ বন্ধ, কোমর সোজা এবং হাতের চিন মুদ্রা বানিয়ে দুই হাঁটুর ওপর রেখে জপ করুন। 11 মিনিট পর্যন্ত একসঙ্গে এক স্বরে জপ করুন।

ধুনো দেওয়া- হিন্দু ধর্মে ঔষধীয় সামগ্রীযুক্ত ধুনো দেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। যজ্ঞ, হোম ইত্যাদিতে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধিত ঔষধি, জরি-বুটি ব্যবহার করা হয়। যজ্ঞ বা হোমের ধুয়ো কীটাণু নষ্ট করে পরিবেশ শুদ্ধ করতে পারে। বাড়িতে নিয়মিতভাবে ধুনো দিলে পরিবেশ শুদ্ধ হয় এবং মনে ভালো বিচার আসে। বাড়িতে ধুনো দেওয়ার সামগ্রী না-থাকলে কর্পূর জ্বালিয়ে তাতে ঘি এবং চালের আহুতি দিতে পারেন। যে কোনও দেব-দেবীর স্মরণ করে 11 বা 21 বার এই আহুতি দিতে পারেন। যেমন, ওম নমঃ শিবায়, ওম গং গণপতেয় নমঃ, ওম নমো নারায়ণায়, ওম দুং দুর্গায়ৈ নমঃ ইত্যাদি।

গাছপালার যত্ন- গাছপালাকে হিন্দুধর্মে অত্যন্ত পূজনীয় মনে করা হয়। বেশ কয়েকটি ব্রত-উৎসবে গাছপালার পুজো করা হয়। লকডাউনের কারণে আপনার মনে যদি নেগেটিভ এনার্জি সঞ্চার হয়ে থাকে, তাহলে কিছু সময় গাছপালার সেবা করুন। প্রত্যেকের বাড়িতে তুলসী গাছ থাকে। নিয়মিত তুলসী গাছে জল অর্পণ করুন এবং সন্ধ্যে নাগাদ প্রদীপ জ্বালান। এর ফলে আপনার মন ভালো থাকবে। তুলসীর সেবা করলে, বিভিন্ন গ্রহদোষ দূর হয় এবং বিষ্ণুর কৃপা লাভ করা যায়।

ধ্যান- ধ্যান অত্যন্ত কঠিন প্রক্রিয়া। নিজের মন একটি স্থানে কেন্দ্র করে ধ্যান করা সহজ নয়। কিন্তু কিছু সোজা প্রক্রিয়ার সাহায্যে কিছুক্ষণ ধ্যানের অবস্থায় বসতে পারেন। এর জন্য বাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, হাওয়া-বাতাস যুক্ত, নিরিবিলি স্থানে সুখাসনে বসুন। চোখ বন্ধ করে নিজের মনকে দুই ভ্রুর মাঝখানে স্থির করার চেষ্টা করুন। এ সময় বাইরের অন্য কোনও চিন্তা-ভাবনা মনে দানা বাঁধতে দেবেন না। তা করতে না-পারলে ফোনের স্পিকারে ওম-এর উচ্চারণ শুনুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি ধ্যানমগ্ন হবেন।

বন্ধ করুন