বাংলা নিউজ > ভাগ্যলিপি > এই একাদশী পালনে মেলে অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্য, জানুন ২৪টি একাদশীর গুরুত্ব
পদ্মিনী একাদশী ব্রত সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ করে।
পদ্মিনী একাদশী ব্রত সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ করে।

এই একাদশী পালনে মেলে অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্য, জানুন ২৪টি একাদশীর গুরুত্ব

  • একাদশী ব্রত পালন করলে সমস্ত পাপ থেকে ব্যক্তি মুক্তি পেতে পারে। এমনকী পূর্বজন্মেরও পাপস্খলন সম্ভব এই ব্রত পালন করলে।

হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, একাদশী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিথি। মনে করা হয়, এই ব্রত পালন করলে সমস্ত পাপ কাজ থেকে ব্যক্তি মুক্তি পেতে পারে। এমনকী পূর্বজন্মেরও পাপস্খালন সম্ভব এই ব্রত পালন করলে। 

বছরে ২৪টি একাদশী হয়। অধিকমাস থাকলে ২৬টি একাদশী দেখা যায়। একাদশী ব্রতে বিষ্ণুর আরাধনা করা হয়। নিয়ম মেনে এই ব্রত পালন করলে ব্যক্তির সমস্ত কষ্ট দূর হয়, পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। জেনে রাখুন, বছরে কত রকম একাদশী পালিত হয় ও প্রত্যেকটি একাদশীতে উপোস করলে কী ফল লাভ করা যায়।

  • একটি মাসে দুটি একাদশী আসে। চৈত্র মাসে কামদা ও বরুথিনী একাদশী। বরুথিনী একাদশী করলে ব্যক্তির সমস্ত পাপ নষ্ট হয়। আবার কামদা একাদশী করলে মোক্ষ লাভ ঘটে।
  • মোহিনী ও অপরা একাদশী ব্রত বৈশাখ মাসে পালন করা হয়। মোহিনী একাদশী করলে বিবাহ সম্পর্কিত সমস্ত বাধা দূর হয়। অপরা একাদশী পাপমুক্তি ঘটায় ও জীবনে আনন্দ নিয়ে আসে।
  • জৈষ্ঠ্য মাসে নির্জলা একাদশীর গুরুত্ব অপিরীসম। মনে করা হয় এই একাদশী ব্রত করলে সমস্ত ব্রত পূর্ণ হয়ে যায়, সমস্ত কাজে সিদ্ধি লাভ সম্ভব হয়। এই মাসে যোগিনী একাদশী ব্রত হয়। এর ফলে পারিবারিক সুখ লাভ সম্ভব হয়।
  • আষাঢ় মাসে দেবশয়নী ও কামিকা একাদশীর দিন ধার্য। দেবশয়নী একাদশীর ব্রত রাখার ফলে পারিবারিক কলহের অবসান হয়। আবার কামিকা একাদশী মোক্ষ প্রদান করে।
  • শ্রাবণ মাসের পুত্রদা একাদশী ব্রত পুত্র লাভের জন্য অত্যন্ত শুভ ফলদায়ক। আবার অজা একাদশী পালন করলে ধন সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা দূর হয়।
  • ভাদ্র মাসের পরিবর্তনী একাদশীও অত্যন্ত শুভ ফলদায়ক। এই একাদশী সমস্ত দুঃখ নাশ করে। আবার ইন্দিরা একাদশী ব্রত করলে পিতৃপুরুষরা স্বর্গ লাভ করেন।
  • আশ্বিন মাসে পাপাংকুশা ও রমা একাদশী পালিত হয়। পাপাংকুশা একাদশী ব্রত পালন করলে ব্যক্তির সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি ঘটে। এই একাদশী ধন, সম্পদ প্রদান করে। আবার রমা একাদশী ব্রত করলে সুখ-ঐশ্বর্য লাভ হয়।
  • প্রবোধিনী ও উৎপন্না একাদশী কার্তিক মাসে আসে। প্রবোধিনী একাদশীকে দেবউঠনি একাদশীও বলা হয়। এই ব্রত করলে দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি হয়। আবার উৎপন্না একাদশী ব্রত করলে পিতৃপুরুষরা তৃপ্তি লাভ করেন। এই একাদশী ব্রত এক হাজার বাজপেয় যজ্ঞের সমান ফল দেয়।
  • মাঘশীর্ষ মাসে মোক্ষদা ও সফলা একাদশী হয়। মোক্ষদা একাদশী এক দিকে যেমন মোক্ষ দান করে, অন্যদিকে সফলা একাদশী ব্রত পালন করলে সমস্ত কাজে সাফল্য লাভ সম্ভব। এই একাদশীর ব্রত অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান ফল লাভ করা যায়।
  • শ্রাবণ মাসের মতোই পৌষ মাসেও পুত্রদা একাদশী থাকে। আবার পৌষ মাসে ষটতিলা একাদশী ব্রত পালন করলে দুর্ভাগ্য দূর ও দরিদ্রতা থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব হয়।
  • মাঘ মাসে জয়া ও বিজয়া একাদশী ব্রত পালিত হয়। মনে করা হয়, জয়া একাদশী ব্রত পালন করলে ব্রহ্মহত্যার মতো পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিজয়া একাদশী সমস্ত ধরণের কঠিন সমস্যা থেকে ব্যক্তিকে মুক্ত করে।
  • ফাল্গুন মাসে আমলকী ও পাপমোচিনী একাদশী ব্রত হয়। আমলকী একাদশী ব্রত রোগমুক্তি ঘটায়। আবার পাপমোচিনী একাদশী ব্যক্তির পাপ নাশ করে।
  • প্রতি তৃতীয় বছর অধিকমাস হয়। সে সময় অতিরিক্ত দুটি একাদশী পালিত হয়। পদ্মিনী (কমলা) ও পরমা একাদশী। পদ্মিনী একাদশী ব্রত সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ করে। এই ব্রত পালন করলে যশ-কীর্তি লাভ হয়। পরমা একাদশীর দিন উপোস রাখলে ধন-বৈভবের অভাব হয় না।

বন্ধ করুন