বাংলা নিউজ > ভাগ্যলিপি > পিতৃতীর্থ গয়ায় পিণ্ডদানের গুরুত্ব অপরিসীম, বলছে গরুড় পুরাণ ও বায়ু পুরাণ
গরুড় পুরাণে বর্ণিত আছে যে, পৃথিবীর সমস্ত তীর্থের মধ্যে গয়া সর্বোত্তম।
গরুড় পুরাণে বর্ণিত আছে যে, পৃথিবীর সমস্ত তীর্থের মধ্যে গয়া সর্বোত্তম।

পিতৃতীর্থ গয়ায় পিণ্ডদানের গুরুত্ব অপরিসীম, বলছে গরুড় পুরাণ ও বায়ু পুরাণ

  • রামায়ণের সময় থেকেই শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের জন্য গয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র মনে করা হয়।

নিজের পুত্র ও পরিজনদের কাছ থেকে অন্ন-জলের প্রত্যাশায় গয়ায় ফল্গু নদীর তীরে উপস্থিত হন পূর্বপুরুষরা। রামায়ণের সময় থেকেই শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের জন্য গয়াকে সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র মনে করা হয়। মনে করা হয় গয়ায় যে কোনও সময় পিণ্ডদান করা যায়। এখানে কোনও কালই নিষিদ্ধ নয়। এমনকি অধিকমাস, জন্মদিন, বৃহস্পতি ও শুক্র অস্ত হলে, বৃহস্পতি সিংহ রাশিতে থাকলেও গয়ায় পিণ্ডদান করা যায়।

তবে গয়ায় পিণ্ডদানের ক্ষেত্রে সেই ৬টি মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যখন সূর্য মেষ, কন্যা, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীন রাশিতে থাকে। এই সময় ত্রিলোকে বসবাসকারীদের জন্য পিণ্ডদানের অধিক গুরুত্ব থাকে। প্রতিবছর ভাদ্র পূর্ণিমা থেকে আশ্বিন অমাবস্যা পর্যন্ত পিতৃপক্ষ হয়। পিতৃপক্ষের সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য গয়া প্রসিদ্ধ।

মৃত্যুর পর থেকে জন্মের আগে পর্যন্ত মানুষের তরণ-তারণ যে তিনটি কর্মের মাধ্যমে হয়, সেগুলি হল শ্রাদ্ধ, পিণ্ডদান ও তর্পণ। ভারতের নানান তীর্থস্থান ও নদী তীরে পিণ্ডদান করা হলেও শাস্ত্র মতে, গয়াই পিণ্ডদানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান।

গরুড় পুরাণে বর্ণিত আছে যে, পৃথিবীর সমস্ত তীর্থের মধ্যে গয়া সর্বোত্তম। আবার বায়ু পুরাণ মতে গয়ায় এমন কোনও স্থান নেই যা তীর্থ নয়। মৎস্য পুরাণে গয়াকে পিতৃতীর্থ বলা হয়। গয়ায় যেখানে যেখানে পূর্বপুরুষদের স্মৃতিতে পিণ্ড অর্পণ করা হয়, তাকে পিণ্ডবেদী বলা হয়ে থাকে। প্রচলিত আছে যে, প্রথমে গয়া শ্রাদ্ধে ৩৬৫টি পিণ্ডবেদী ছিল। তবে বর্তমানে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০-এ। এর মধ্যে শ্রী বিষ্ণুপদ, ফল্গু নদী ও অক্ষয়বটকে বিশেষ মনে করা হয়। গয়া তীর্থের মোট পরিমাপ ৫ ক্রোশ বা প্রায় ১৬ কিলোমিটার। এই পরিসীমার মধ্যেই গয়ার পিণ্ডবেদী বিরাজমান। গয়ায় শ্রাদ্ধ করলে সমস্ত মহাপাতক নষ্ট হয়ে যায়। গয়ায় শ্রাদ্ধের ফলে ১০১ কুল ও সাত প্রজন্ম তৃপ হয়।

অন্য দিকে নানান পুরাণে উল্লিখিত আছে যে, গয়ায় এলেই ব্যক্তি পিতৃঋণ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। গরুড় পুরাণ অনুযায়ী পিতৃপক্ষের দিনে সমস্ত জ্ঞাত-অজ্ঞাত পূর্বপুরুষ নিজ নিজ পরিজন, বিশেষত পুত্রের কাছ থেকে অন্ন-জলের প্রত্যাশায় ফল্গুর তীরে এসে উপস্থিত হন এবং আপনজনদের আশীর্বাদ দেন। দেবতারাও গয়ায় পিণ্ডদান করেছেন। এখানেই দশরথের পিণ্ডদান করেন রাম। 

শ্রীমদ্দেবী ভাগবত অনুযায়ী তিন প্রকারে পুত্রের পুত্রতা সিদ্ধ হয়- জীবন্ত অবস্থায় বাবার আজ্ঞা পালন, মৃত্যুর পর তাঁর শ্রাদ্ধে প্রচুর ভোজন করানো ও গয়ায় পিণ্ডজান করা। ব্যক্তি যেখানেই শ্রাদ্ধ করুক না-কেন, তাঁদের সংকল্প হয়-‘গয়ায়াং দত্তমক্ষয়্যমস্তু’ অর্থাৎ, এটি গয়ায় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করুন। নানান অর্থে গয়াকে মধ্য ক্ষেত্রের মহাধাম বলা হয়েছে, অর্থাৎ যা চার দিকের ধামের কেন্দ্রে শোভা পায়।

গয়ায় পিতৃকর্ম করলে পূর্বপুরুষদের অক্ষয় তৃপ্তি লাভ হয়। 

বন্ধ করুন