বাংলা নিউজ > ভাগ্যলিপি > Karwa Chauth 2021: রবিবার করওয়া চৌথ, জেনে নিন বিভিন্ন শহরের চন্দ্রোদয়ের সময়, পুজোর নিয়ম, ব্রত
রাতে পূর্ণ চন্দ্রোদয়ের পর চালুনির মধ্যে দিয়ে চাঁদ দেখুন, তার পর নিজের স্বামীকেও সেই চালুনি দিয়ে দেখুন।
রাতে পূর্ণ চন্দ্রোদয়ের পর চালুনির মধ্যে দিয়ে চাঁদ দেখুন, তার পর নিজের স্বামীকেও সেই চালুনি দিয়ে দেখুন।

Karwa Chauth 2021: রবিবার করওয়া চৌথ, জেনে নিন বিভিন্ন শহরের চন্দ্রোদয়ের সময়, পুজোর নিয়ম, ব্রত

করওয়া চৌথ। এটি বিবাহিত মহিলাদের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করে এদিন নির্জলা থেকে উপবাস ও পুজো করেন মহিলারা। সন্ধেবেলা শিব পরিবারের পুজো করে চন্দ্র দর্শন ও চন্দ্রকে অর্ঘ্য দিয়ে উপবাস ভঙ্গ করেন।

২৪ অক্টোবর করওয়া চৌথ। এটি বিবাহিত মহিলাদের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করে এদিন নির্জলা থেকে উপবাস ও পুজো করেন মহিলারা। সন্ধেবেলা শিব পরিবারের পুজো করে চন্দ্র দর্শন ও চন্দ্রকে অর্ঘ্য দিয়ে উপবাস ভঙ্গ করেন। চন্দ্র দর্শন ও অর্ঘ্য প্রদান ছাড়া এই পুজো পূর্ণ হয় না। তাই এদিন চন্দ্রোদয়ের অধীর অপেক্ষায় থাকেন বিবাহিত মহিলারা। তবে ভারতের বিভিন্ন শহরে চন্দ্রোদয়ের সময়ও ভিন্ন ভিন্ন। এখানে বিভিন্ন শহরে চন্দ্রোদয়ের সময়, পুজোর নিয়ম, ব্রতকথা ইত্যাদি জেনে নিন।

পুজোর নিয়ম

সকালে উঠে স্নানের পর শিব ও পার্বতীর সামনে ব্রতর সংকল্প করুন। নির্জলা না সাধারণ ব্রত করবেন, তা সংকল্পের সময় মনে মনে বলে দিন। সন্ধেবেলা পুজোর সময় চন্দ্র, শিব, পার্বতী, কার্তিকেয় ও গণেশের এক সঙ্গে থাকা ছবির পুজো করুন। ষোড়শোপচার নিয়ম অনুযায়ী পুজো করুন। তার পর নিজের স্বামীর দীর্ঘায়ু ও নিরোগী হওয়ার কামনা করুন। একটি তামা বা মাটির পাত্রে চাল, বিউলি ডাল, সিঁদূর, চুড়ি, টিপ ইত্যাদি, টাকা রেখে শ্বাশুড়ি বা বয়সে বড় কোনও বিবাহিত মহিলাকে দিন। তার পর তাঁর পা ছুয়ে আশীর্বাদ নিন। রাতে পূর্ণ চন্দ্রোদয়ের পর চালুনির মধ্যে দিয়ে চাঁদ দেখুন, তার পর নিজের স্বামীকেও সেই চালুনি দিয়ে দেখুন। চন্দ্রকে অর্ঘ্য দিয়ে আরতী করুন। এর পর স্বামীকে তিলক করে তাঁর আশীর্বাদ নিন। তাঁর পর স্বামীর হাতে জল পান করে উপবাস ভঙ্গ করুন।

চন্দ্রোদয়ের সময়

কোলকাতা- ৭টা ৩৬ মিনিট।

মুম্বই- ৮টা ৪৭ মিনিট।

দিল্লি- ৮টা ০৮ মিনিট।

নয়ডা- ৮টা ০৭ মিনিট।

বেঙ্গালুরু- ৮টা ৩৯ মিনিট।

লখনৌ- ৭টা ৫৬ মিনিট।

পাটনা- ৭টা ৪২ মিনিট।

গোরখপুর- ৭টা ৪৭ মিনিট।

মথুরা- ৮টা ০৮ মিনিট।

আগরা- ৮টা ০৭ মিনিট।

সাহারানপুর- ৮টা ০৩ মিনিট।

রামপুর- ৮টা।

ফার্রুখাবাদ- ৮টা ০১ মিনিট।

বরেলী- ৭টা ৫৯ মিনিট।

ইটাওয়া- ৮টা ০৫ মিনিট।

জৌনপুর- ৮টা ৫২ মিনিট।

আলীগঢ়- ৮টা ০৬ মিনিট।

জয়পুর- ৮টা ১৭ মিনিট।

দেহরাদুন- ৮টা।

করওয়া চৌথের ব্রতকথা

পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী ইন্দ্রপ্রস্থপুরের একটি শহরে বেদশর্মা নামক এক ব্রাহ্মণ থাকত। তাঁর সাত ছেলে ও বীরাবতী নামক এক মেয়ে ছিল। একটি মাত্র মেয়ে হওয়ায় সকলের প্রিয় ছিল বীরাবতী। তাঁর বিয়ের বয়স হওয়ায় এক ব্রাহ্মণ পুত্রের সঙ্গে বীরাবতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর নিজের বাপের বাড়ি আসে সে। সেই দিনটি ছিল করওয়া চৌথ। বিয়ের পর প্রথম বার স্বামীর দীর্ঘায়ুর জন্য উপবাস রেখেছিল বীরাবতী। কিন্তু সে তৃষ্ণা ও ক্ষুধা সহ্য করতে না-পেরে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়। 

সাত ভাই বোনের কষ্ট দেখতে পারে না। চালুনির মধ্যে প্রদীপ রেখে গাছের আড়াল থেকে বোনকে দেখায়। বীরাবতীর জ্ঞান ফিরলে তাঁকে বলে যে চন্দ্রোদয় হয়ে গিয়েছে, সে যাতে ছাদে গিয়ে চাঁদ দেখে নেয়। চন্দ্র দর্শন করে পুজো করে ভোজনের জন্য বসে পড়ে সে।

খাবারে প্রথম গ্রাসে চুল ছিল, দ্বিতীয় গ্রাসে হাঁচি দেয় সে। তৃতীয় গ্রাসে শ্বশুরবাড়ির তরফে ডাক পায়। তার পরই সে ছুটে শ্বশুরবাড়ি যায় এবং সেখানে নিজের স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখে। স্বামীকে দেখে ব্যাকুল হয়ে কাঁদতে শুরু করে বীরাবতী। তাঁর অবস্থা দেখে ইন্দ্রের স্ত্রী ইন্দ্রাণী বীরাবতীকে সান্ত্বনা দিতে পৌঁছয়। বীরাবতীকে তাঁর ভুল বোঝান ইন্দ্রাণী। পাশাপাশি করওা চৌথ-সহ পুরো বছর চৌথের উপবাস করার পরামর্শ দেন তিনি। বীরাবতী এমনই করেন এবং তাঁর ব্রতর পুণ্য প্রভাবে স্বামীর পুনর্জীবন লাভ করে।

এদিন যা করবেন ও যা করবেন না

  • সূর্যোদয়ের আগে উঠে সর্গী খাওয়ার পর সারাদিন আর কিছুই খাবেন না। চাঁদকে অর্ঘ্য দিয়ে জল গ্রহণ করুন।
  • পুজোর সময় কালো, সাদা বা নীল রঙের বস্ত্র পরবেন না। এদিন লাল, গোলাপী, হলুদ ইত্যাদি রঙের কাপড় পরা উচিত।
  • উপবাসের দিন স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করবেন না। অপশব্দ ব্যবহার করবেন না।
  • কাউকে সাদা কাপড়, সাদা মিষ্টি, দুধ, চাল, দই বা সাদা জিনিস দান করবেন না।

বন্ধ করুন