বাংলা নিউজ > ভাগ্যলিপি > devuthani ekadashi : দেবউথ্থানী একাদশীতে ওঠেন ভগবান বিষ্ণু,জেনে নিন, একাদশীর তিথি মহাত্ম্য ও শুভ সময়

devuthani ekadashi : দেবউথ্থানী একাদশীতে ওঠেন ভগবান বিষ্ণু,জেনে নিন, একাদশীর তিথি মহাত্ম্য ও শুভ সময়

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দেব উথ্থানী একাদশীর দিন যোগ নিদ্রা থেকে জেগে ওঠেন ভগবান বিষ্ণু।  

devuthani  ekadashi : দেব উথ্থানী একাদশী কবে পড়েছে ?  জেনে নিন দেব উথ্থানী একাদশীর উপবাসের নিয়ম বিধি।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, দেব উথ্থানী একাদশীর দিন যোগ নিদ্রা থেকে জেগে ওঠেন ভগবান বিষ্ণু।এই দিন থেকে সমস্ত ধরণের শুভ কাজ শুরু হয়। হিন্দু ধর্মে দেবু উথ্থানী একাদশীর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

প্রতি মাসের শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কার্তিক শুক্লপক্ষের একাদশীকে দেব উথ্থানী একাদশী বলা হয়। এই দিনে ভগবান বিষ্ণু চার মাস ঘুমের পর জেগে ওঠেন। এর পরেই শুরু হয় শুভকাজ। আষাঢ় মাসের দেবশয়নী একাদশীর দিন, ভগবান বিষ্ণু ৪ মাসের জন্য যোগ নিদ্রায় যান। দেব উথ্থানী একাদশীর দিনে ভগবান বিষ্ণুর যোগ নিদ্রা শেষ হয়। যে বিশেষ দিনে ভগবান বিষ্ণু যোগনিদ্রা ত্যাগ করেন তা দেব উথ্থানী একাদশী বা প্রবোধনী একাদশী নামে পরিচিত। ২০২২ সালে দেব উথ্থানী একাদশী কখন সে সম্পর্কে জানুন।

পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, চতুর্মাস ১০ জুলাই অর্থাৎ দেবশয়নী একাদশী থেকে শুরু হয়েছে। চতুর্মাস চার মাস থাকে। এ বছর দেব উত্থানী একাদশী পড়ছে ৪ নভেম্বর শুক্রবার। ০৩ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিট থেকে একাদশী তিথি শুরু হচ্ছে। যেখানে একাদশীর সমাপ্তি হবে ৪ ঠা নভেম্বর সন্ধ্যা ৬.০৮ মিনিটে। এমন পরিস্থিতিতে উদয় তিথি অনুযায়ী ৪ নভেম্বর দেব উত্থানী একাদশী পালিত হবে।

দেব উত্থানী একাদশীর তাৎপর্য

একাদশীর উপবাস অন্যান্য উপবাসের তুলনায় একটু বেশিই কঠিন। মহাভারতের পৌরাণিক কাহিনীতেও একাদশীর গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, একাদশীর উপবাসের প্রভাবে পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও এই উপবাস পালন করলে ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ পাওয়া যায়। মৃত্যুর পরেও মোক্ষ লাভ হয়।

একাদশী পূজার সামগ্রী সূচি: শ্রীবিষ্ণুর চিত্র অথবা মূর্তি, ফুল, নারকেল, সুপারি, ফল, লবঙ্গ, ধূপ, দীপ, তুলসী দল, চন্দন, মিষ্টান্ন।

একাদশী পূজা বিধি

একাদশী তিথির হিন্দুধর্মে বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। একাদশী তিথির দিন ভগবান বিষ্ণুর বিধিবিধানের সঙ্গে পুজো করা হয়। মনে করা হয় যে এরকম করলে যেকোন রকম মনস্কামনা পূর্ণ হয়। সকালবেলায় স্নান করে শুদ্ধ বসনে দীপ জ্বালিয়ে ভগবান বিষ্ণুর গঙ্গা জল দিয়ে অভিষেক করতে হবে। ভগবান বিষ্ণুকে ফুল এবং তুলসী দল অর্পণ করতে হবে।  সম্ভব হলে এই দিন ব্রত রাখা উচিত।পূজা শেষে ভগবানের আরতি করতে হবে।বিশেষ করে এই ব্রতর জন্য চাল, গম, উরদ বা মাস কলাইয়ের ডাল, ছোলা, যব এবং মসুর ডাল প্রভৃতি একাদশীর একদিন আগে থেকে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।

বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে যে, ভগবানকে শুধু সাত্বিক জিনিসের ভোগ দেওয়া উচিত। ভগবান বিষ্ণুর ভোগে অবশ্যই তুলসী পাতা দিতে হবে। মনে করা হয় যে বিনা তুলসিতে ভগবান বিষ্ণু কোনদিনই ভোগ গ্রহণ করেন না। এইদিন ভগবান বিষ্ণুর সাথে মা লক্ষ্মীরও পুজো অবশ্যই করা উচিত এবং এই দিন যত বেশি সম্ভব ভগবানের ধ্যান করা উচিত। এই উপবাসে বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করলে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায়, এর পাশাপাশি রাত জেগে ভগবান বিষ্ণুকে স্মরণ করা উচিত। দ্বাদশী তিথিতে, সকালে ব্রাহ্মণদের খাদ্যশস্য দান এবং দক্ষিণা প্রদান ও অন্নভোজন করিয়ে এই উপবাসের সমাপ্তি হয়।এই উপবাসের প্রভাবে ভক্ত বৈকুণ্ঠ ধাম লাভ করেন। 

 

 

বন্ধ করুন