বাংলা নিউজ > ভাগ্যলিপি > Laxmi Puja 2021: জানেন আশ্বিন পূর্ণিমার লক্ষ্মীপুজো কেন কোজাগরী?
কোজাগরী শব্দটির উৎপত্তি ‘কো জাগতী’ থেকে।
কোজাগরী শব্দটির উৎপত্তি ‘কো জাগতী’ থেকে।

Laxmi Puja 2021: জানেন আশ্বিন পূর্ণিমার লক্ষ্মীপুজো কেন কোজাগরী?

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করেন এবং নিজের ভক্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশীর্বাদ দেন।

আশ্বিন মাসের শেষ পূর্ণিমায় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করা হয়। চলতি বছর ১৯ ও ২০ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজো। ১৯ তারিখ সন্ধেবেলা পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে এবং শেষ হবে ২০ তারিখ রাতে। তাই এবার ২ দিনের লক্ষ্মী পুজো। 

বাংলার প্রতিটি ঘরে সারা বছর ধরে লক্ষ্মীপুজো করা হয়ে থাকে। কিন্তু আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কোজাগরী নামের মধ্যেই এর গুরুত্ব লুকিয়ে। এদিন ভক্তের বাড়ি এসে বিরাজ করেন লক্ষ্মী এবং অঢেল ধন-সম্পত্তির আশীর্বাদ দিয়ে যান।

কেন কোজাগরী বলা হয়

কোজাগরী শব্দটির উৎপত্তি ‘কো জাগতী’ থেকে। এর আক্ষরিক অর্থ ‘কে জেগে আছো?’ কথিত আছে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করেন এবং নিজের ভক্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশীর্বাদ দেন। এ ক্ষেত্রে বাড়ির দরজা খোলা থাকলে তবেই সেই গৃহস্থে প্রবেশ করে ধনের দেবী। কারও বাড়ির দরজা বন্ধ থাকলে, তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মী প্রবেশ করেন না ও সেখান থেকে ফিরে চলে যান। এ কারণে লক্ষ্মীপুজোর রাতে জেগে থাকার রীতি প্রচলিত আছে। সারা রাত জেগে লক্ষ্মী আরাধনাই এই পুজোর বিশেষত্ব। আবার প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, শরৎ পূর্ণিমার রাতে যে জেগে অক্ষক্রীড়া অর্থাৎ পাশা খেলেন, লক্ষ্মী তাঁকে ধনসম্পদ দান করেন। শুধু তাই নয়, মনে করা হয় যে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন অন্যের বাগান থেকে ফল বা শস্য চুরি করলে লক্ষ্মী তাঁদের আশীর্বাদ দেবেন। প্রচলিত আছে, 

'নিশীথে বরদা লক্ষ্মীঃ জাগরত্তীতিভাষিণী।

 তস্মৈ বিত্তং প্রযচ্ছামি অক্ষৈঃ ক্রীড়াং করোতি যঃ।।' নানান রূপে লক্ষ্মী:

এদিন লক্ষ্মীর মূর্তি পুজো তো করা হয়েই। পাশাপাশি আরও নানান ভাবে লক্ষ্মীকে কল্পনা করে তাঁর পুজো করা হয়। যেমন- 

  • আড়ি লক্ষ্মী। এ ক্ষেত্রে ধান ভর্তি ঝুড়ির ওপর কাঠের লম্বা দুটি সিঁদূর কৌটো লাল চেলিতে মুড়ে লক্ষ্মীর রূপ দেওয়া হয়।
  • আবার কলার পেটোর তৈরি নৌকা লক্ষ্মী আরাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলিকে সপ্ততরী বলা হয়। বাণিজ্যিক নৌকার প্রতীক এই সপ্ততরী। অনেকেই পুজোর সময় এই সপ্ততরীতে টাকা, শস্য, হরিতকি, কড়ি, হলুদ রাখেন।

অন্য দিকে প্রকারভেদে সরায় পটচিত্রের সাহায্যেও লক্ষ্মীপুজো হয়। যেমন- ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি সরা, সুরেশ্বরী সরা ও শান্তিপুরি সরা। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ্মীরা আঁকা হয়। 

১. অঞ্চল ভেদে এই সরায় তিন, পাঁচ, সাতটি পুতুল আঁকা হয়। এতে থাকে লক্ষ্মী, জয়া ও বিজয়া-সহ লক্ষ্মী, রাধাকৃষ্ণ, সপরিবার দুর্গা ইত্যাদি। 

২. সুরেশ্বরী সরায় মহিষাসুরমর্দিনী আঁকা থাকেন আর এই সরার নীচের দিকে থাকেন সবাহন লক্ষ্মী। 

আবার কলার বের ও লক্ষ্মীর মুখ সমন্বিত পোড়া মাটির ঘটকেও লক্ষ্মী রূপে কল্পনা করে পুজো করা হয়। এই ঘটে চাল বা জল ভরে সেটিকে লক্ষ্মী মনে করে পুজো করা হয়।

বন্ধ করুন