বাংলা নিউজ > ভাগ্যলিপি > কখন করবেন নীলষষ্ঠীর পুজো? কখন হবে শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকার বিবাহ?
শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিবাহ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় এদিন। 
শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিবাহ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় এদিন। 

কখন করবেন নীলষষ্ঠীর পুজো? কখন হবে শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকার বিবাহ?

  • নীলষষ্ঠীর সারাদিন উপবাস করেন মায়েরা। সন্ধেবেলা শিবের জলাভিষেক করে পুজো করা হয়।

সন্তানের মঙ্গল কামনার জন্য পুজো ও উপবাসের দিন নীলষষ্ঠী। এদিন সন্তানবতী মহিলারা নীলের উপবাস করেন এবং ঈশ্বরের কাছে নিজের সন্তানের দীর্ঘ জীবন, সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন। সন্ধেবেলা শিবের জলাভিষেক করে পুজো করা হয়। এর পর একে একে বেলপাতা, ফুল ও ফল অর্পণ করতে হয়। এ সবই কিছুক্ষণ শিবের মাথায় ছুঁয়ে রাখতে হয়। তার পর আকন্দ বা অপরাজিতার মালা পরিয়ে সন্তানের মঙ্গল কামনা করুন। পুজোর পর সন্তানের নামে বাতি জ্বালাতে হয়। 

সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তির চড়ক উৎসবের আগের দিন নীলপুজো অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছর ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ, ১৩ এপ্রিল নীল ষষ্ঠীর পুজো। বাংলার তারিখ, ৩০ চৈত্র ১৪২৭। এখানে জানুন নীল পুজোর নিয়ম।

নীল পুজোর উপকরণ:

নীল পুজোয় দরকার গঙ্গামাটি বা শুদ্ধ মাটি। বেলপাতা, গঙ্গাজল, দুধ, দই, ঘি, মধু, কলা, বেল, বেলের কাটা ও শিবের পছন্দের ফুল, যেমন ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা দিয়ে শিবের পুজো করতে হয় এদিন।

নীল ব্রত পালনের নিয়ম:

নীলষষ্ঠীর সারাদিন উপবাস থেকে  সন্ধেবেলা শিবের জলাভিষেক করে পুজো করা হয়। এর পর একে একে বেলপাতা, ফুল ও ফল অর্পণ করতে হয়। তার পর আকন্দ বা অপরাজিতার মালা পরিয়ে সন্তানের মঙ্গল কামনা করুন। পুজোর পর সন্তানের নামে মোমবাতি জ্বালতে হয়। 

পুজোর পর বাড়ি গিয়ে উপবাস ভঙ্গ করা উচিত। তবে এদিন ভাত কিংবা আটার তৈরি খাবার খেতে নেই। পরিবর্তে ফল, সাবু ও ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়া উচিত। অনেকে আবার সন্ধৈব নুন দিয়ে তৈরি খাবারও খেয়ে থাকেন।

উল্লেখ্য, শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিবাহ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় এদিন। নীলপূজার আগের দিন অধিবাস, অধিক রাত্রে হয় হাজরা পূজা অর্থাৎ বিয়ে উপলক্ষে সকল দেবতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

নীলপুজোর দিনে শিবকে গঙ্গাজলে স্নান করিয়ে নতুন লালশালু কাপড় পরিয়ে কমপক্ষে সাতটি বাড়িতে ঘোরানো হয়।

এদিন নীলসন্ন্যাসীরা একইরকম লাল কাপড় পরে নীলকে সঙ্গে করে এই মিছিল করেন। এদের দলপতিকে বলা হয় বালা। সাথে থাকে ঢাক-ঢোল, বাঁশী বাজনদারের দল এবং শিব-দুর্গার সাজে সঙেরা। গৃহস্থ মহিলারা উঠানে আল্পনা দিয়ে শিবকে আহ্বান জানান, বরাসনে বসিয়ে তার মাথায় তেলসিঁদুর পরিয়ে দেন। 

এরপর নীলের গান শুরু হয়:

শুন সবে মন দিয়ে হইবে শিবের বিয়ে
      কৈলাসেতে হবে অধিবাস।
(ও) তাতে নারদ করে আনাগোনা কৈলাসে বিয়ার ঘটনা
       বাজে কাঁসী বাঁশী, মোহন বাঁশরী।

(ও) নারদ চলল গিরি রাজের গৃহেতে।
আর একদিনেতে শূলপাণি, নারদকে বলেন বাণী
শুনো নারদ শুনো আমার সাধ,
আমি দুই পাশে দুই বালিশ দিয়ে, মধ্যিখানে থাকি শুয়ে
উশিপুসি করে কাটাই রাত।।
(ও) নারদ চললো গিরি রাজের গৃহেতে।।
আর ওই শিব কয় কৈলাসে যেয়ে, দেখে এসেছি মেয়ে
শীঘ্র করো বিয়ের আয়োজন,
(ও) নারদ চললো গিরি রাজের গৃহেতে।।
চলিলেন নারদ মুনি, চলিলেন নারদ ধনি
উপনীত গিরি পুরে যেয়ে।
কইলেন মেনকা রানী, আইলেন নারদ মুনি
দেখা পেয়ে এল মুনির ঠাঁই।।
(ও) নারদ চললো গিরি রাজের গৃহেতে।।
শোনো ওগো গিরি রাজা, হইবা আমার আজা
জামাই তোমার হবে দিগম্বর।।

আবার বিয়ের ঘটক ভাগিনেয় নারদ মুনির কাছে শিব আর্তি জানান,

ভাইগনা যদি উপকারী হও।
তবে বিয়া দিয়া আমার প্রাণ বাঁচাও।।

গ্রাম বাংলায় এ ভাবেই পালিত হয়ে আসছে নীল পুজো।

বন্ধ করুন