বাড়ি > ভাগ্যলিপি > আজ রথযাত্রা, জানুন জগন্নাথ মন্দিরের কিছু আশ্চর্যজনক তথ্য
এখানে জগন্নাথ নিজের বড় ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে বিরাজ করেন।
এখানে জগন্নাথ নিজের বড় ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে বিরাজ করেন।

আজ রথযাত্রা, জানুন জগন্নাথ মন্দিরের কিছু আশ্চর্যজনক তথ্য

  • চারধামের অন্যতম জগন্নাথদেবের পুরী। কথিত আছে, অন্য তিনটি ধামে তীর্থযাত্রা সম্পূর্ণ করে তবেই পুরীধামে আসা উচিত।

২৩ জুন অর্থাৎ আজ রথযাত্রা। অতিমারীর জেরে শর্তসাপেক্ষে পুরীতে রথযাত্রা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তার আগে জানুন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য।

পুরীর জগন্নাথ মন্দির বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রসিদ্ধ হিন্দুমন্দির। জগন্নাথ মন্দিরকে মর্ত্যলোকের বৈকুন্ঠ বলা হয়। এই স্থানকে শাকক্ষেত্র, নীলাঞ্চল ও নীলগিরিও বলা হয়। ভারতে চারধামের মধ্যে একটি জগন্নাথ পুরী। কথিত আছে, অন্য তিনটি ধাম তীর্থের পর এখানে আসা উচিত। এখানে জগন্নাথ নিজের বড় ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রার সঙ্গে বিরাজ করেন। তিনটি দেবপ্রতিমাই কাঠের তৈরি। ১২ বছর অন্তর এই মূর্তি পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। 

বেদ অনুযায়ী, ভগবান হলধর ঋগ্বেদের স্বরূপ, শ্রী হরি (নৃসিংহ) সামবেদ ও সুভদ্রা যজুর্বেদ স্বরূপ। আবার সুদর্শন চক্রকে অথর্ববেদের স্বরূপ মনে করা হয়। 

সমুদ্র তীরে গড়ে ওঠা এই মন্দিরের দৈব চমৎকারের সামনে বিজ্ঞানের যুক্তিও কাজ করে না। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি রহস্য হল—

  • মন্দিরের চূড়ার ধ্বজা সবসময় হাওয়ার প্রতিকূলে ওড়ে। আবার এই ধ্বজা রোজ বদলানো হয়। যে ব্যক্তি এই ধ্বজা বদলে থাকেন, তিনিও উল্টো উপরে ওঠেন।
  • মন্দিরের চূড়ায় অষ্টধাতু নির্মিত সুদর্শন চক্র রয়েছে। এই চক্রকে নীল চক্রও বলা হয়। এর দর্শন শুভ মনে করা হয়। যে কোন দিক দিয়ে দেখলে চক্র সবসময় আপনার সামনে ও সোজা মনে হবে।
  • জগন্নাথ মন্দিরের রসুইঘরকে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রসুই মনে করা হয়। এখানে প্রায় ৫০০ জন রান্নার ঠাকুর ও প্রায় ৩০০ জন সহযোগী মিলে ভোগ-প্রসাদ তৈরি করেন। মন্দিরে প্রবেশের পূর্বে ডান দিকে আনন্দ বাজার ও বাঁ দিকে জগন্নাথ মন্দিরের পবিত্র ও বিশাল হেঁশেল রয়েছে। ভোগ রান্নার জন্য সাতটি বাসন একে অপরের ওপরে রাখা হয়।। মাটির পাত্রে, কাঠের উনুনে ভোগ রান্না হয়। আশ্চর্যের বিষয় হল, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ওপরের পাত্রের ভোগ সবার আগে তৈরি হয়, তার পর নীচের দিকে এক এক করে। রোজ ২৫ হাজারের বেশি দর্শনার্থীরা এই ভোগ গ্রহণ করেন। এখানে কখনও প্রসাদ উদ্বৃত্ত থাকে না বা কম পড়ে না।
  • মন্দিরের সিংহদ্বারে প্রবেশ করা মাত্র সমুদ্রের ঢেউয়ের কোলাহল শুনতে পাওয়া যায় না। বিশেষত সন্ধে নাগাদ আরও ভালো ভাবে এই বিষয় লক্ষ্য করতে পারবেন।
  • মন্দিরের চূড়ার ওপর দিয়ে কখনও কোনও বিমান যায় না। এমনকি কোনও পাখিও ওড়ে না বা এর ওপর বসে না।
  • সূর্যরশ্মি থাকলেও দিনের কোনও সময়েই মন্দিরের ছায়া পড়তে দেখা যায় না।
  • সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে দিনের বেলায় হাওয়া সমুদ্র থেকে ভূমির দিকে ও সন্ধে নাগাদ ভূমি থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। কিন্তু জগন্নাথ মন্দিরের ক্ষেত্রে ঠিক এর উল্টোটাই ঘটে। সকালে হাওয়া ভূমি থেকে সমুদ্রের দিকে এবং সন্ধে বেলায় সমুদ্র থেকে মন্দিরের দিকে প্রবাহিত হয়।

বন্ধ করুন