বাংলা নিউজ > ভাগ্যলিপি > জানুন মকর সংক্রান্তিতে কী দান করলে লাভ করবেন অক্ষয় ফল
শাস্ত্র মতে, গুড় ও তিল দান করলে কোষ্ঠিতে সূর্য ও শনি শক্তিশালী হয়।
শাস্ত্র মতে, গুড় ও তিল দান করলে কোষ্ঠিতে সূর্য ও শনি শক্তিশালী হয়।

জানুন মকর সংক্রান্তিতে কী দান করলে লাভ করবেন অক্ষয় ফল

  • মকর সংক্রান্তিতে দানের গুরুত্ব অপরিসীম। এদিনের দান অক্ষয় ফল প্রদান করে থাকে।

১৪ তারিখ মকর রাশিতে প্রবেশ করবে সূর্য। কিন্তু এই রাশিতে সূর্যকে স্বাগত জানাতে, আগে থেকেই উপস্থিত থাকছে অন্য চারটি গ্রহ। শনি, বৃহস্পতি, বুধ ও চন্দ্র এ সময় মকর রাশিতে বিরাজ করছে। সূর্যের প্রবেশের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে পঞ্চগ্রহী যোগের। 

মকর সংক্রান্তিতে দানের গুরুত্ব অপরিসীম। এদিনের দান অক্ষয় ফল প্রদান করে থাকে। আবার যে ব্যক্তি শনি, বৃহস্পতি, বুধ ও চন্দ্রের দ্বারা প্রভাবিত বা যাঁদের কোষ্ঠিতে এই গ্রহগুলির অন্তর্দশা চলছে, তাঁদের জন্য দান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আবার এমন কিছু দ্রব্য সামগ্রী রয়েছে, যা দান করলে দ্বিগুণ ফল লাভ করা যায়। 

  • যে ব্যক্তি শনির সাড়ে সাতি বা আড়াই বছরের দশায় প্রভাবিত তাঁরা অন্ন দানের পাশাপাশি অবশ্যই ব্রাহ্মণদের ভোজন করাবেন। অন্নদানের সঙ্গে কালো তিল, বিউলির ডালও দান করুন। মন্দির প্রাঙ্গনে শমী চারা রোপণ করলেও মনবাঞ্ছিত ফল লাভ করতে পারেন। আবার তামার বাসনে কালো তিল ভরে দরিদ্রদের দান করলে শনি দোষ দূর হয়, কার্য-ব্যবসায় উন্নতি হয় ও সমস্যার সমাধান হয়।
  • বৃহস্পতিবারের দিন সংক্রান্তি হওয়ায় বনস্পতি দানের সুফল পাওয়া যাবে। রোগগ্রস্ত ব্যক্তিরা অন্ন ও ঘী দান করুন এবং বেল চারা রোপণ করুন। আবার আর্থিক সমস্যা দূর করার জন্য এ দিন ঘী দান করুন। এর ফলে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ সম্ভব হয়।
  • রোজগার ও ধন বৃদ্ধির জন্য অন্ন ও সাদা চন্দনের কাঠ দান করুন। মন্দির বা কোনও স্থানে কলা গাছও লাগাতে পারেন।
  • বার বার কোনও কাজে অসফল হলে অন্ন ও গুড় দান করুন এবং শমী গাছের চারা রোপণ করুন।
  • যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অধিক সংঘর্ষ করতে হয়, বা দোটানায় থাকেন, তাঁরা অন্ন দানের পাশাপাশি মন্দিরে কর্পূর ও উপবীত দান করুন এবং তুলসীর চারা রোপণ করুন।
  • সর্বকল্যানের জন্য পুরোহিতকে অন্নের সঙ্গে মিষ্টি, মধু, ঘী ও সুগন্ধী দান করুন।
  • পারিবারিক সুখ-শান্তির জন্য খিচুড়ি দান করলে সুফল পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যের ওপরও এর শুভ প্রভাব পড়ে। উল্লেখ্য, মকর সংক্রান্তির দিনে প্রসাদ হিসেবে খিচুড়ি বিতরণের প্রথা প্রচলিত রয়েছে।
  • সময় খারাপ চললে নুন দান করুন।
  • দরিদ্র, অসহায়দের অন্ন দান করলে অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ লাভ হয়। এর ফলে ঘর ধন-ধান্যে ভরে থাকে।
  • মকর সংক্রান্তির দিনে তিল বা তিল দিয়ে তৈরি সামগ্রী দানের ফলে পুণ্য লাভ করা যায়। এ ছাড়া, এদিন তিল দিয়ে বিষ্ণু, সূর্য ও শনির পুজো করা হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, নিজের ক্ষুব্ধ পিতা সূর্যকে কালো তিল দিয়ে পুজো করেছিলেন শনি। এর পর সূর্য প্রসন্ন হয়ে যান। তাই তিলের দানের ফলে শনি দোষ দূর হয়।
  • অসহায়, দরিদ্র ব্যক্তিদের কম্বল দান করলে রাহুর অশুভ প্রভাব কাটিয়ে ওঠা যায়।
  • সংক্রান্তির দিনে দরিদ্র, অসহায়দের নতুন বস্ত্র দান করলে ঘর-পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধির বৃদ্ধি হয়। এদিন বস্ত্রদান মহাদান হিসেবে স্বীকৃত।
  • গুড় বিষ্ণুর প্রিয় বস্তু। আবার চলতি বছর বৃহস্পতিবার মকর সংক্রান্তি। তাই এদিন গুড় দান করলে বৃহস্পতির আশীর্বাদ লাভ সম্ভব। শাস্ত্র মতে, এ দিনে গুড় ও তিল দান করলে কোষ্ঠিতে সূর্য ও শনি শক্তিশালী হয়। সমাজে মান-সম্মান বৃদ্ধি পায় ও কার্যসিদ্ধি হয়। তিল ও গুড় দিয়ে তৈরি লাড্ডু খেতে পারেন। এদিন গুড় খাওয়াও শুভ।

বন্ধ করুন