বাংলা নিউজ > ভাগ্যলিপি > Basant panchami 2023: আগামীকাল বসন্ত পঞ্চমী, জেনে নিন সরস্বতী পুজোর শুভ সময় ও মাহাত্ম্য

Basant panchami 2023: আগামীকাল বসন্ত পঞ্চমী, জেনে নিন সরস্বতী পুজোর শুভ সময় ও মাহাত্ম্য

আগামীকাল বসন্ত পঞ্চমীর উৎসব পালিত হবে। (ছবি সৌজন্যে এএনআই)

Basant panchami 2023: আগামীকাল পুজোর শুভ সময় কখন থেকে শুরু হবে, জেনে নিন এখান থেকে। 

আগামীকাল বসন্ত পঞ্চমীর উৎসব পালিত হবে। সারাদেশে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বসন্ত উৎসব। বসন্ত পঞ্চমীর দিনে সরস্বতী পুজো র বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, জ্ঞান, বিদ্যা, শিল্প, সাহিত্য ও সঙ্গীতের দেবী মা সরস্বতী মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন। 

বসন্ত পঞ্চমী তিথি হল একটি শুভ সময় যেখানে যে কোনও শুভ কাজ কোনও সময় ছাড়াই করা যায়। বসন্ত পঞ্চমীতে শিক্ষা শুরু করার রীতি আছে। বসন্ত পঞ্চমীর দিনে মা সরস্বতীর আরাধনা এবং মন্ত্র উচ্চারণ করা শুভ ও ফলদায়ক। আসুন আমরা পুজোর শুভ সময়, পুজো পদ্ধতি, শুভ যোগ সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিই। 

হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী দিনটিকে বসন্ত পঞ্চমীর উৎসব হিসেবে ধরা হয়। এবারের পঞ্চমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৫ জানুয়ারি দুপুর ১২.৩৪ মিনিট থেকে। পঞ্চমী তিথি শেষ হবে ২৬ জানুয়ারি সকাল ১০.৩৪ মিনিটে। উদয় তিথি অনুসারে, বসন্ত পঞ্চমী পালিত হবে শুধুমাত্র ২৬ জানুয়ারি। এদিন সকাল ০৭.১২টা থেকে দুপুর ১০.৩৪টা পর্যন্ত পুজোর শুভ সময় রয়েছে।

মা সরস্বতী হলুদ ও সাদা রং খুব পছন্দ করেন। সাদা রঙ পবিত্রতার প্রতীক এবং হলুদ রঙ ইতিবাচকতার প্রতীক। মা সরস্বতী রাজহাঁস এ চড়েন। রাজহাঁস সৌন্দর্য এবং নৃত্যের প্রতিনিধিত্ব করে। এই কারণে মা সরস্বতীকে হংসবাহিনী বলা হয়। মা সরস্বতীকে নদীর তীরে বসে থাকতে দেখা যায়। নদীই জীবনের অস্তিত্ব। দেবী সরস্বতী সর্বদা পদ্মের আসনে বসেন। শাস্ত্রমতে, পদ্ম ফুল জ্ঞান এবং বিশুদ্ধতার প্রতিনিধিত্ব করে। এছাড়া মায়ের হাতে বীণা ও বেদ শোভা পায়। বীণা এবং বেদ শিক্ষা, জ্ঞান, সঙ্গীত, নৃত্য এবং শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।

বসন্ত পঞ্চমী বিদ্যার দেবী মা সরস্বতীর আরাধনা এবং শুভ কাজের জন্য অত্যন্ত শুভ দিন বলে মনে করা হয়। এবার বসন্ত পঞ্চমীতে চারটি খুব শুভ যোগ তৈরি হচ্ছে। বসন্ত পঞ্চমীর দিনে শিব, গজকেশরী, হর্ষ ও শুভকর্তারী নামের শুভ যোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও এই দিনে দেবগুরু বৃহস্পতি এবং শনি নিজ নিজ রাশিতে উপস্থিত থাকবেন। বৃহস্পতি মীন রাশিতে এবং শনি কুম্ভ রাশিতে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী মা সরস্বতী বসন্ত পঞ্চমী তিথিতে আবির্ভূত হন। এই কারণে এই দিনে বিশেষ পুজো  করা হয়। মা সরস্বতীর উদ্ভবের পিছনে একটি গল্প আছে, ভগবান ব্রহ্মা যখন মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছিলেন, তখন সমগ্র বিশ্বে কোনও কণ্ঠস্বর বা শব্দ ছিল না। তখন ব্রহ্মা তাঁর কমন্ডুল দিয়ে পৃথিবীতে জল ছিটিয়ে দেন। জলের ফোঁটা পৃথিবীতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই একজন দেবী আবির্ভূত হলেন। যার হাতে ছিল বীণা, মালা, বেদ।

বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে, বসন্ত পঞ্চমীর উত্‍সবটিকে অবুজ মুহূর্ত হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে কারণ বসন্ত পঞ্চমীতে, সারা দিন ত্রুটিহীন যোগের সৃষ্টি হয়। বসন্ত পঞ্চমী বিবাহ এবং অন্যান্য সমস্ত শুভ কাজের জন্য শ্রেষ্ঠ দিন। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বসন্ত পঞ্চমীর দিন ভগবান শিব ও মাতা পার্বতীর পুজো এবং মন্ত্র উচ্চারণ করলে অবিবাহিতরা কাঙ্খিত জীবনসঙ্গী পায়।

বসন্ত পঞ্চমী শ্রী পঞ্চমী এবং বাগীশ্বরী জয়ন্তী নামেও পরিচিত। বসন্ত পঞ্চমীর দিনে হলুদ কাপড় পরা এবং কপালে হলুদ চন্দন লাগানোর প্রথা রয়েছে।

বসন্ত পঞ্চমীর উৎসবে মা সরস্বতীকে বিশেষভাবে আরাধনা করেন শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা। এই দিনে সকালে স্নান করে সাদা বা হলুদ কাপড় পরিধান করে ঘট  স্থাপন করুন। মা সরস্বতী সহ ভগবান গণেশ, সূর্যদেব, ভগবান বিষ্ণু এবং ভগবান শিবের পুজো  করুন। সাদা মালা সহ মাকে সিঁদুর ও অন্যান্য শৃঙ্গার সামগ্রী অর্পণ করুন। বসন্ত পঞ্চমীর দিনে মায়ের পায়ে আবির নিবেদনের বিধান রয়েছে। প্রসাদে মাকে হলুদ মিষ্টি বা ক্ষীর নিবেদন করুন।

বন্ধ করুন