বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > বেঁচে থাকতে বাংলায় এনআরসি ও এনআরপি চালু করতে দেব না, তোপ মমতার
যাঁরা বাংলায় থাকেন, তাঁরা সকলেই বাঙালি এবং নাগরিক। মঙ্গলবার রানিগঞ্জে এই দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই। (PTI)
যাঁরা বাংলায় থাকেন, তাঁরা সকলেই বাঙালি এবং নাগরিক। মঙ্গলবার রানিগঞ্জে এই দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই। (PTI)

বেঁচে থাকতে বাংলায় এনআরসি ও এনআরপি চালু করতে দেব না, তোপ মমতার

  • এনআরসি ও এনপিআর প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গে বিভেদ সৃষ্টির খেলায় নেমেছে বিজেপি, অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।

এনআরসি ও এনপিআর প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গে বিভেদ সৃষ্টির খেলায় নেমেছে বিজেপি। মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জে সরকারি অনুষ্ঠানে এসে এই অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা (বিজেপি) বলছে এনআরসি ও এনপিআর বলবৎ করা হবে। নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ওরা আপনার ঠাকুরদার বার্থ সার্টিফিকেট চাইবে। আমি জানি না আমার মা কবে জন্মেছিলেন। আগে এমনই চলত সব কিছু। শিশু প্রসব হত বাড়িতে। তাই মানুষ সার্টিফিকেট পেত না। যাঁরা বাংলায় থাকেন, তাঁরা সকলেই বাঙালি এবং নাগরিক।’

মমতা বলেন, ‘আমি বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না। গুজরাত ও গান্ধীর জন্য আমার শ্রদ্ধা রয়েছে, কিন্তু বাংলা বাংলাতেই থাকবে। এ ব্যাপারে আমরণ আমি সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’

হিন্দিভাষী বাসিন্দা অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গের শিল্পতালুক আসানসোল-রানিগঞ্জ এলাকায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ একাধিক সংস্থা রয়েছে, যাদের মধ্যে অগ্রণী কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত ইস্টার্ন কোলফিল্ডস বা ইসিএল। এই কারণে ভাষণের বহু অংশ এ দিন হিন্দিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। 

এখনও পর্যন্ত ইসিএল বেসরকারিকরণের ঘোষণা করেনি কেন্দ্র, যদিও মমতা ভাষণে বলেন, ‘ওরা ইসিএল-কে বেসরকারি হাতে দিতে চায়। এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিকরা তা হলে কোথায় যাবেন? আধিকারিকরা কোথায় যাবেন? ওরা (কেন্দ্রীয় সরকার) রেলও বিক্রি করে ছাড়বে। এমনকী (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকার সময়) যে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কসকে বাঁচিয়েছিলাম এবং পরে যেখানে ঘণ্টায় ১৮০ কিমি গতিবেগের রেল ইঞ্জিন তৈরি হয়েছিল, তাও ওরা বেচে দেবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে  কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ঘোষণা করেন, ভারতীয় রেলের চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস থেকে ঘণ্টায় ১৮০ কিমি গতিবেগ সম্পন্ন হাই স্পিড রেল ইঞ্জিন তৈরি করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাবে বঙ্গ বিজেপি-র সহ-সভাপতি রীতেশ তিওয়ারি বলেন, ‘আজকাল উনি মিথ্যা বলার কৌশল মেনে চলছেন এবং বার বার সেই মিথ্যা কথার পুনরাবৃত্তি করছেন। এর পরেই মানুষেকে ভুল প্ররোচনা দেওয়া এবং খুনের রাজনীতি চলেছে। সাম্প্রতিক কালে কোনও শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতা এনপিআর ও এনআরসি সম্পর্কে মন্তব্য করেননি।’

তিওয়ারির কথায়, ‘রানিগঞ্জে বিপুল সংখ্যক মুসলিমদের বাস বলেই তিনননি এই বিষয়টটটি   তুলে ধরেছেন। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের সভায় তো এ নিয়ে কথা বলেননি? রাজ্যে ৪০% ভোট নিশ্চিত করে ফেলেছে বিজেপি। আমরা ক্ষমতায় আসছি বুঝে উনি খুব ভয় পেয়েছেন।’

গতকাল অন্ডাল বিমানবন্দর ও সংলগ্ন টাউনশিপ নির্মাণের স্বার্থে জমি হারানো কয়েক হাজার জমি-মালিককে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও জমির দলিল বণ্টন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই প্রকল্পে সরকার ২৭% থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৪৮% মালিকানা কায়েম করেছে বলেও ঘোষণাকরেন মমতা।

বন্ধ করুন