বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > শুধু 'ভোট চাই, ভোট দাও' করলে হবে না, বিধায়ক পদে ইস্তফার পরদিন বললেন শুভেন্দু
তমলুকের নিমতৌড়িতে সভায় শুভেন্দু। (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)
তমলুকের নিমতৌড়িতে সভায় শুভেন্দু। (ছবি সৌজন্য ফেসবুক)

শুধু 'ভোট চাই, ভোট দাও' করলে হবে না, বিধায়ক পদে ইস্তফার পরদিন বললেন শুভেন্দু

  • শুভেন্দু বলেন, 'আমার নিজস্ব কিছু কাজ আছে।'

‘অরাজনৈতিক’ মঞ্চ থেকে ‘রাজনৈতিক’ কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না শুভেন্দু অধিকারী। কোনও দলের নাম না করে শ্লেষ মিশিয়ে বললেন, যাঁরা শহিদ ক্ষুদিরামের জন্মবার্ষিকী, তাম্রলিপ্ত সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবসের বিষয়ে জানেন না, তাঁদের নিজেদের পরিসর বাড়াতে হবে। শুধু ‘ভোট চাই, ভোট দাও’ করলে হবে না।

তাম্রলিপ্ত সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার তমলুকের নিমতৌড়িতে ‘অরাজনৈতিক’ ছিল শুভেন্দুর। প্রতি বছরই তা পালন করেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। কিন্তু এবার সেই অনুষ্ঠানের দিকে রাজনৈতিক মহলের বাড়তি নজর ছিল। বিশেষত বুধবার বিধায়ক পদে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পর সেই কর্মসূচিতে শুভেন্দু কী বলেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল।

তবে সেভাবে বিস্ফোরক কিছু বললেন না শুভেন্দু। বরং অনুষ্ঠানস্থলে এসে বিপ্লবীদের মূর্তিতে মাল্যদান করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সংক্ষিপ্ত ভাষণের শুরুটাও একেবারে ‘অরাজনৈতিক’ ভাবেই করেছিলেন। কিন্তু শেষের দিকে হালকা সুরে কটাক্ষ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, শহিদ ক্ষুদিরামের জন্মবার্ষিকী, তাম্রলিপ্ত সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবসের বিষয়ে জানেন না, ‘শুধুমাত্র ভোট চাই, ভোট দাও, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও করেন, (তাঁদের) পরিসর বাড়াতে হবে।’ সঙ্গে যোগ করেন, গণতন্ত্রে বহুদলীয় রাজনীতি থাকবে। কিন্তু তা বলে ক্ষুদ্র পরিসরে আটকে থাকলে হবে না। কারণ শহিদ ক্ষুদিরাম, সুশীল কুমার ধাড়াদের মতো বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের কারণে আজ তাঁরা এখানে আছেন বলে জানান শুভেন্দু।

কার উদ্দেশে শুভেন্দু সেই কটাক্ষ করেছেন, তা নিয়ে স্বভাবতই জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এখন স্বভাবতই শুভেন্দুর নিশানায় তৃণমূূল নেতানেত্রীরা আছেন। তাঁদেরই বার্তা দিতে চেয়েছেন। অনেকের আবার বক্তব্য, যে লাইনে শুভেন্দু কটাক্ষ করেছেন, সেই লাইনে বিজেপিও পড়ে। কটাক্ষের পাশাপাশি শুভেন্দু বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি ‘ভোটপাখি’ নন। শুধু ভোটের জন্য রাজনীতি করে ছোটো পরিসরে আটকে থাকেন না। বরং যে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য ‘এখানে আছেন’ তাঁরা, তাঁদেরও সম্মান জানাতে জানেন। আর দীর্ঘদিন ধরেই সেই কাজ করে আসছেন তিনি। 

পরে ‘জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম’ ধ্বনি তুলে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মিছিলে পা মেলান। তবে পুরো মিছিলে যে হাঁটবেন না তিনি, তাও জানান। বলেন, 'নিমতৌড়ি প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত যাব। তারপর প্রস্থান করব। আমার নিজস্ব কিছু কাজ আছে।'  তবে কী কাজের কথা বলেছেন শুভেন্দু, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বন্ধ করুন