বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > দার্জিলিং থেকে প্রথম মহিলা পাইলট, বয়স মাত্র ২৩, কীভাবে স্বপ্নপূরণ করলেন?

দার্জিলিং থেকে প্রথম মহিলা পাইলট, বয়স মাত্র ২৩, কীভাবে স্বপ্নপূরণ করলেন?

সাক্ষী প্রধান, মহিলা পাইলট। সংগৃহীত ছবি, ফেসবুক

ইতিমধ্যেই তিনি ভারতীয় কমার্সিয়াল এয়ারক্রাফট পাইলটের লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছেন। তিনি এ-৩২০ এয়ারক্রাফট টাইপ রেটিং ট্রেনিংও সম্পন্ন করেছেন। আরব আমিরশাহীর আবু ধাবি থেকে তিনি এই ট্রেনিং নিয়েছেন।

দার্জিলিংয়ের কন্যা ২৩ বছর বয়সী সাক্ষী প্রধান পাহাড়ের প্রথম বাসিন্দা যিনি প্রথম মহিলা পাইলটের আসনে বসলেন। তিনি দার্জিলিংয়ের ডিবি গিরি রোড এলাকার বাসিন্দা। গত ১৫ মার্চ গুরুগ্রামে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের A-20 জুনিয়র ফার্স্ট অফিসার হিসাবে নিয়োজিত হয়েছেন তিনি।

স্কাইবর্ন এভিয়েশন লিমিটেডের মাধ্যমে তিনি প্রথম ইন্ডিগো ক্য়াডেট পাইটল ট্রেনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি পাশ করেছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি এই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে নিউ দিল্লিতে তিনি গ্রাউন্ড ট্রেনিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। পরে তিনি আমেরিকার ফোনিক্সে চলে যান। সেখানে তিনি এফএএ ও কমার্সিয়াল এয়ারক্রাফট পাইলট লাইসেন্স পান। মাল্টি ইঞ্জিন ও ইনস্ট্রুমেন্ট রেটিং প্রোগ্রামেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। সেটা ছিল ২০২০ সাল। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর বাবা রুকেশ মানি।

একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষী প্রধান জানিয়েছেন, সেই ছোট্টবেলা থেকে আমি স্বপ্ন দেখতাম পাইলট হব। আর আজ সেই স্বপ্ন আমি পূরণ করতে পেরেছি। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে আমি দিল্লিতে থাকছি। বর্তমানে চেক সেশনের মধ্য দিয়ে আমায় যেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৯টি চেক সেশন হয় আমাদের। মোটামুটিভাবে ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে আমি জুনিয়র ফার্স্ট অফিসার পদে উন্নীত হব। তখন আমায় বেঙ্গালুরুতে থাকতে হবে।

এদিকে ইতিমধ্যেই তিনি ভারতীয় কমার্সিয়াল এয়ারক্রাফট পাইলটের লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছেন। তিনি এ-৩২০ এয়ারক্রাফট টাইপ রেটিং ট্রেনিংও সম্পন্ন করেছেন। আরব আমিরশাহীর আবু ধাবি থেকে তিনি এই ট্রেনিং নিয়েছেন।

ওই তরুণীর বাবা দার্জিলিংয়ে একটি অফসেট প্রিন্টিং প্রেস চালান। আর তাঁর মা সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা।

ছোটবেলা থেকে দার্জিলিংয়েই পড়াশোনা করেছেন সাক্ষী। দার্জিলিংয়ের বেথানি স্কুল থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন। এরপর দার্জিলিংয়ের লরেটো কনভেন্ট স্কুল থেকে তিনি আইসিএসই পাস করেন। সেটা ছিল ২০১৬ সাল। এরপর তিনি শিলিগুড়িতে দিল্লি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি এআই এসএসসি তিনি পাস করেন।

সাক্ষীর এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি ও গর্বিত তার পরিবার। মেয়ে যে তার স্বপ্নকে ছুঁতে পেরেছে এটা ভেবে আপ্লুত পাহাড়ের বাসিন্দারা। অনেকেই সুযোগের অভাবে হারিয়ে যান। কিন্তু তবুও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও লড়াই করে এগিয়ে যান সাক্ষীর মতো তরুণীরা। তার বাবা জানিয়েছেন, পাহাড়ের কোন তরুণী এর আগে পাইলট হননি। এই এলাকার প্রথম মহিলা পাইলট হিসাবে তিনি কমার্সিয়াল এয়ারক্রাফট পাইলট লাইসেন্স পেয়েছেন।

 

বন্ধ করুন