বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > Durga Puja 2022: ৪ দিন ধরে চলে মুখোশ নাচ, ৫০০ বছরের পুরনো প্রথা মেনে এখনও পূজিত হন দেবী দুর্গা
উদগ্রামের দুর্গাপুজো ৫০০ বছরের পুরনো। প্রতীকী ছবি

Durga Puja 2022: ৪ দিন ধরে চলে মুখোশ নাচ, ৫০০ বছরের পুরনো প্রথা মেনে এখনও পূজিত হন দেবী দুর্গা

  • বহু প্রাচীন এই দুর্গাপুজোর একটি ইতিহাস রয়েছে। কথিত রয়েছে, অবিভক্ত দিনাজপুরের রাধিকাপুরে জমিদার জগদীশচন্দ্র রায় বাহাদুর এই দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন। সেই সময় কামনের তোপে দুর্গাপুজোর সূচনা করা হতো। তারপর বহু বছর কেটে গিয়েছে। বাংলা ভাগ হয়ে গিয়ে। অনেকেই চলে গিয়েছেন ওপার বাংলায়।

এক সময় কামানের তোপে দুর্গাপুজোর সূচনা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রথা বিলোপ হয়েছে। তবে সেই দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য এখনও ধরে রেখেছেন গ্রামবাসীরা। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ ব্লকের উদগ্রামের দুর্গা মন্দিরের দুর্গাপুজো এভাবেই ৫০০ বছর ধরে ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছে।

আরও পড়ুন: বাহন সিংহের ডেরায় দেবী দুর্গার আরাধনা, আফ্রিকার মাসাইমারায় হচ্ছে পুজো

বহু প্রাচীন এই দুর্গাপুজোর একটি ইতিহাস রয়েছে। কথিত রয়েছে, অবিভক্ত দিনাজপুরের রাধিকাপুরে জমিদার জগদীশচন্দ্র রায় বাহাদুর এই দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন। সেই সময় কামনের তোপে দুর্গাপুজোর সূচনা করা হতো। তারপর বহু বছর কেটে গিয়েছে। বাংলা ভাগ হয়ে গিয়ে। অনেকেই চলে গিয়েছেন ওপার বাংলায়। তারপর থেকে এই পুজোর উৎসাহ কিছুটা কমে যায়। বাংলা ভাগ হয়ে যাওয়ার পর সেই পুজোর প্রথা আগের মত আর নেই। তবে স্থানীয়রা এখনও পুরনো কিছু নিয়ম মেনে সেই পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন।

কমান দাগার রীতি এখন আর নেই। তবে এই গ্রামে পুরনো কাঠামো দিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি হয়। জন্মাষ্টমীতে এই গ্রামে দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। পরে কাঠামো জল থেকে তুলে রেখে দেওয়া হয় এবং তাতে মাটির প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয় দুর্গা প্রতিমা। ৫০০ বছর আগেও এই পুজোয় চার দিন মুখোশ নাছর এবং চণ্ডীপাঠের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। মূলত গ্রামবাসীদের অশুভ শক্তির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এই প্রথা চালু হয়েছিল। 

এখনও সেই প্রথা মেনে মুখোশ নাচ এবং চণ্ডীপাঠ করা হয়। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস এই দুর্গা মন্দিরটি অত্যন্ত জাগ্রত। গ্রামের কোনও মেয়ের বিয়ে হলে যেমন দুর্গা মন্দিরে গিয়ে দেবী দুর্গাকে প্রণাম করা হয়, তেমনি গ্রামে কোনও নববধূ এলে দেবী দুর্গাকে প্রণাম করে শ্বশুর বাড়িতে প্রবেশ করেন। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন মন্দিরের বেশ কিছু জমি রয়েছে। সেখানে চাষবাস করে যে ফসল বিক্রি হয় তা থেকেই মন্দিরের রক্ষণা বেক্ষণ এবং দুর্গাপুজোর খরচ বহণ করা হয়।

বন্ধ করুন