বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > দার্জিলিংয়ের তিনধারিয়ার শতবর্ষের দুর্গাপুজোয় ঢাক বাজাবেন অশীতিপর কোহর সিংহ দাস
কোহর সিংহ দাস
কোহর সিংহ দাস

দার্জিলিংয়ের তিনধারিয়ার শতবর্ষের দুর্গাপুজোয় ঢাক বাজাবেন অশীতিপর কোহর সিংহ দাস

  • কোহর সিংহ দাসের কথায়, ‘‌যদি ২০১৩–র টানা ধর্মঘটের মধ্যেও মানুষ তিনধারিয়ার এই পুজোর আয়োজন করতে পারে। তবে পৃথিবীর কোনও শক্তিই এই পুজো থামাতে পারবে না। এটা আমার জীবনের অঙ্গ।’‌

৮২ বছর বয়স। কাঁধ কিছুটা অশক্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ঢাকের ভার হেসেখেলেই নিতে পারেন দার্জিলিংয়ের কোহর সিংহ দাস। সেই ১৯৬২ সাল থেকে তাঁর ঢাকের তালে কোমর দুলোচ্ছেন পাহাড়বাসী। দুর্গাপুজো, কালীপুজোয় এখনও ডাক পড়ে তাঁর। অশতিপর ওই বৃদ্ধ বললেন, ‘‌যতদিন বাঁচব ততদিন ঢাক বাজাব আমি।’‌

আর এ বছরের পুজো তাঁর কাছে কাঁধে ঢাক তুলে নেওয়ার অন্যতম বড় কারণ। চলতি বছরে শতবর্ষে পা দিয়েছে দার্জিলিংয়ের তিনধারিয়ার শঙ্কর নিবাসের দুর্গাপুজো। উনবিংশ শতকে কয়েকজন বাঙালি পুরোহিত মিলে পাহাড়ে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। রীতি মেনে এখানে কালীপুজোও অনুষ্ঠিত হয়। আর দুটি উৎসবেই গত ৫৮ বছর ধরে ঢাক বাজিয়ে আসছেন অশীতিপর কোহরবাবু।

করোনা আবহে সারা দেশ জুড়ে উৎসবের আমেজে খানিক ভাটা পড়লেও পাহাড়–ঘেরা দার্জিলিংয়ের ছোট শহর তিনধারিয়া দুর্গাপুজো নিয়ে এখনই মাতোয়ারা। পুরনো ঐতিহ্য বজায় রেখে এবার পুজোর স্থলেই গড়া হয়েছে দশভূজার মূর্তি। সেই ১৯৬২ সালে শেষ শঙ্কর নিবাসে মূর্তি গড়ে পুজো হয়েছিল। তার পর থেকে শিলিগুড়ি থেকে বায়না দেওয়া প্রতিমা এনেই পুজোর রেওয়াজ চালু হয়।

কয়েকজন বাঙালি পুরোহিত মিলে এই পুজোর সূচনা করলেও এখন বিভিন্ন ভাষাভাষি, সম্প্রদায়ের লোকজন তিনধারিয়ার এই পুজোর অঙ্গ। এমনই জানালেন উদ্যোক্তারা। তাঁরা জানান, এটি এই অঞ্চলের তৃতীয় প্রাচীন দুর্গাপুজো। দার্জিলিংয়ের নৃপেন্দ্র নারায়ণ বেঙ্গলি হিন্দু হলে যে দুর্গাপুজোটি হয় সেটি এবার ১০৬তম বর্ষে পদার্পণ করল। এটিই সবচেয়ে প্রাচীণ। আর কার্শিয়াংয়ের রাজ রাজেশ্বরী হলে যে পুজোটি হয় তার বয়স ১০৪ বছর।

তবে তিনধারিয়ার তুলনায় অন্যগুলিতে এ বছর মহামারীর জেরে জাঁকজমক কম। ওই পুজোগুলোয় এবার ভোগও দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনধারিয়ার দুর্গা ও কালীপুজো কমিটির সম্পাদক নওরাজ ছেত্রি বলছিলেন, ‘‌কোভিড প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করে আমরা এবার আরও আন্তরিকতার সঙ্গে পুজো করব বলে ঠিক করেছি। এই করোনা পরিস্থিতি দ্রুত দূর করতে মায়ের কাছে প্রার্থনা করব আমরা।’‌

এই পুজোর প্রধান পুরোহিত কেশরীপ্রসাদ বন্দোপাধ্যায় কলকাতায় থাকেন। তবে প্রতি বছর পুজোর সময় ঠিক পাহাড়ে চলে আসেন। ২০১৩ সালে যখন গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা টানা ১০৪ দিন ধর্মঘট করে, সে বারও ছোট করে হলেও এই পুজো হয়েছিল। এবং সে পরিস্থিতিতেও পুজোর কাজ সম্পন্ন করতে দার্জিলিংয়ে এসেছিলেন কেশরীপ্রসাদ বন্দোপাধ্যায়।

সে বছরও ঢাক বাজিয়েছিলেন কোহর সিংহ দাস। তাঁর কথায়, ‘‌যদি ২০১৩–র টানা ধর্মঘটের মধ্যেও মানুষ তিনধারিয়ার এই পুজোর আয়োজন করতে পারে। তবে পৃথিবীর কোনও শক্তিই এই পুজো থামাতে পারবে না। এটা আমার জীবনের অঙ্গ।’‌

বন্ধ করুন