বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > প্রতিদিন মিলবে ৪ শতাংশ সুদ! হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারিত ৯ হাজার মানুষ
প্রতিদিন মিলবে ৪ শতাংশ সুদ!হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারিত ৯ হাজার মানুষ। ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য : রয়টার্স
প্রতিদিন মিলবে ৪ শতাংশ সুদ!হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারিত ৯ হাজার মানুষ। ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য : রয়টার্স

প্রতিদিন মিলবে ৪ শতাংশ সুদ! হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারিত ৯ হাজার মানুষ

  • এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ২ জনের নাম জানতে পেরেছে।

টাকা দিলেই মিলবে মোটা অঙ্কের সুদ। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই এভাবে আয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে পারেননি অনেকেই। আর প্রতারকদের এই ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই খুঁইয়ে বসলেন লক্ষাধিক টাকা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় ৯ হাজার মানুষ প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নেমেছে সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানা এলাকাতেই প্রায় ১২০০ জন মানুষ প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ২ জনের নাম জানতে পেরেছে। এই দু'জন হল স্বরূপ সুন্দর সুটাইয়া এবং শংকর প্রসাদ মাইতি। পুলিশ জানতে পেরেছে এই দুজনেই কাকদ্বীপ থানা এলাকার বাসিন্দা। তবে তাদের এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মনে করা হচ্ছে এই দু'জন প্রতারণা চক্রের মূল পান্ডা।

কীভাবে চলতো এই প্রতারণা চক্র?

অভিযোগকারীদের বয়ান অনুযায়ী, এই প্রতারণা চক্র চলত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বহু মানুষকে একসঙ্গে এড করার পর তাদের ১০০ টাকার ভিত্তিতে প্রতিদিন ৪ শতাংশ সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেওয়া হত। এর জন্য গ্রুপে জয়েন করতে গেলে ৪০০ টাকা নেওয়া হত। তার ভিত্তিতে ৪ শতাংশ সুদ প্রতিদিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত। এর জন্য আরও একটি অ্যাপ ব্যবহার করা হত। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেই সেই অ্যাপের লিঙ্ক পাঠিয়ে দেওয়া হত। তবে যে অ্যাপের লিঙ্ক পাঠানো হত সেটি গুগুল স্টোরে পাওয়া যেত না। সেটি ব্রাউজার থেকে ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হত। সেই অ্যাপেই টাকা লেনদেন করতে হতো গুগুল পে, ফোন পে বা হোয়াটসঅ্যাপ পে'র মাধ্যমে।

প্রতারিত ব্যাক্তিদের অভিযোগ, প্রথমে তাদের অল্প টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হত। বিনিয়োগ মত তারা সুদ পেতেন। কিন্তু, যখনই সেই টাকার পরিমান ৫০ হাজারের মধ্যে চলে যেত তখন তাদের সুদের টাকা দেওয়া হত না। তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সুদের টাকা ঢুকে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কেউই টাকা পাননি। পরে তারা জানতে পারেন যে সংস্থাটি ভুয়ো। এরপরেই ওই সমস্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা এই ঘটনার তদন্ত করছে।

বন্ধ করুন