বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ৯০ বছরের শয্যাশায়ী বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে
প্রতিবেশী যুবকের যৌন লালসার শিকার ৯০ বছরের শয্যাশায়ী বৃদ্ধা!পলাতক অভিযুক্ত (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
প্রতিবেশী যুবকের যৌন লালসার শিকার ৯০ বছরের শয্যাশায়ী বৃদ্ধা!পলাতক অভিযুক্ত (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

৯০ বছরের শয্যাশায়ী বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে

অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

নব্বই বছরের শয্যাশায়ী বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। শুক্রবার গভীর রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়িতে। শনিবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার পরিবার। তারপর থেকেই অভিযুক্ত যুবক পলাতক। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

জলপাইগুড়ির পুলিশের ডিএসপি (‌সদর)‌ সমীর পাল জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামী মারা গিয়েছেন কয়েক বছর আগে। তারপর থেকে ছোটো ছেলের সঙ্গে থাকছিলেন নির্যাতিতা বৃদ্ধা। তাঁর ছেলে জানিয়েছে, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায়, গত কয়েক মাস ধরেই মা শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। নিজে থেকে চলাফেরা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন নির্যাতিতা নবতিপর বৃদ্ধা। তাঁর ছেলে পাশের ঘরেই থাকেন। 

নির্যাতিতা ওই বৃদ্ধার ছেলে আরও জানিয়েছেন, ঘটনার সময় রাত তখন একটা বেজেছিল। হঠাৎই মার চিৎকার শুনতে পাই। ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখি মার ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় রয়েছে। ঘরে উঁকি মেরে দেখি, মশারির নীচে প্রতিবেশী যুবক রয়েছে। ওই অবস্থায় অভিযুক্তকে টেনে হিচড়ে বিছানা থেকে নামান তাঁর ছেলে। মারধর করতেই ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। পর দিন সকালে পঞ্চায়েত সদস্যের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা বৃদ্ধার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও ওই যুবকের বিরুদ্ধে নানা দুষ্কর্মের অভিযোগ রয়েছে পঞ্চায়েতে। নির্যাতিতার পরিবারের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে সালিশি সভা ডাকা হয় গ্রামে। ঘটনা প্রসঙ্গে পঞ্চায়েতের এক সদস্য জানিয়েছেন, ওই পরিবারের অভিযোগ পেয়ে যুবককে ডেকে পাঠানো হয়। সালিশি সভায় এসে অভিযুক্ত যুবক রাতে নির্যাতিতা বৃদ্ধার ঘরে ঢোকার কথা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু শারীরিক সম্পর্কের কথা মানতে চায়নি অভিযুক্ত।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করে। সালিশি সভা মিটে যাওয়ার পর বাড়ি ফেরেন নির্যাতিতার ছেলে। তাঁর সন্দেহ তখন গাঢ় হয়, যখন তিনি অসুস্থ মায়ের ঘরে গিয়ে তাঁর বিছানার চাদর পরিষ্কার করতে যান। সেই চাদরের কিছু সন্দেহজনক দাগ নজরে পড়ে নির্যাতিতার ছেলের। তিনি বলেন, ‘‌ওই দাগ দেখেই আমরা নিশ্চিত হই যে, মাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।’‌ 

রাতেই কোতোয়ালি থানায় গিয়ে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার পরিবার। এদিকে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে জানতে পেরে, এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত যুবক। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

বন্ধ করুন