বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > বাবা–মা বকবে, ভয়ে অপহরণের গল্প ফাঁদল বালক, কাঁথির ঘটনায় আলোড়ন
বালক অপহরণ। (ছবি, সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

বাবা–মা বকবে, ভয়ে অপহরণের গল্প ফাঁদল বালক, কাঁথির ঘটনায় আলোড়ন

  • রাত পর্যন্ত খুঁজে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার বাবা।

কাঁথির অন্তর্গত ভূপতিনগর থানার অধীনে মাধাখালি এলাকার এক বালক হঠাৎ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে তার উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল অভিযোগ তুলে পুলিশকে জানিয়েছিল ওই বালক। এই কথোপকথনের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এই ভিডিয়ো’‌র সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা ডিজিটাল। পুলিশ অবশ্য এই অপহরণের অভিযোগ মানতে চায়নি। এই অপহরণের গল্প ফাঁদা হতে পারে বলে অনুমান ছিল তাঁদের।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মাধাখালি সংলগ্ন আঙ্গারবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ওই বালক গত বুধবার মাধাখালি বাজারে সাইকেল সারাতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। রাত পর্যন্ত খুঁজে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার বাবা। আর বৃহস্পতিবার ওই বালককে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে বালকের কথোপকথনের যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে বালক দাবি করেছে, মাধাখালি বাজারে সাইকেলটি রেখে বল কেনার জন্য সে রাস্তা পেরচ্ছিল। তখন একটি মারুতি গাড়ি তার কাছে এসে দাঁড়ায়। আর তাকে জোর করে তুলে নেয়। তাদের মুখ কালো কাপড়ে বাঁধা ছিল। তার চোখ–মুখও কালো কাপড় দিয়ে এবং হাতও বেঁধে দেওয়া হয়।

ওই বালক ভিডিয়ো–তে আরও দাবি করেছে, অপহরণের পর খেজুরির হেঁড়িয়ায় এক নার্সিংহোমের কাছে পরিত্যক্ত জায়গায় একটি ঘরে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। ভোররাতে বাঁধন কেটে সেখান থেকে পালিয়ে আসে সে। তারপর পায়ে হেঁটে মাধাখালিতে আসে এবং সেখানে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দেখা করে। বাড়ির লোকজনই তাকে মাধাখালি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনা সত্য নয়। কারণ সত্যিই অপহরণ হলে আশপাশের লোকজন দেখতে পেত, কিংবা ওই বালক চিৎকার করত। দুটোর কোনওটাই ঘটেনি। ওই বালক মাধাখালিতে সাইকেল সারাতে এসে খেজুরির কৃষ্ণনগর এলাকায় শ্মশানকালী পুজো উপলক্ষ্যে মেলা দেখতে চলে গিয়েছিল। তারপর রাতে আর কোনও কারণে বাড়ি ফিরতে পারেনি। রাতে বাড়ি না ফেরায় বাবা–মায়ের মারধর ও বকুনির হাত থেকে রক্ষা পেতে সে এমন গল্প ফেঁদেছে। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয় দোকানদারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অপহরণের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বন্ধ করুন