বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘‌আমার প্রেমিককে খুঁজে এনে দিন’‌, কাঁটাতার পেরিয়ে আসা তরুণীর আর্জি পুলিশকে
কোচবিহার বিএসএফের হাতে পাকড়াও হলেন তরুণী। (ছবি সৌজন্যে পিটিআই) (HT_PRINT)

‘‌আমার প্রেমিককে খুঁজে এনে দিন’‌, কাঁটাতার পেরিয়ে আসা তরুণীর আর্জি পুলিশকে

  • কোনও প্রমাণপত্র ছাড়াই ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে কোচবিহার বিএসএফের হাতে পাকড়াও হলেন তরুণী।

প্রেম তো কোনও বাধা মানে না। তা তো দুরন্ত। বরং সব বাধা ভেদ করেই মিলিত হয় প্রেমিক–প্রেমিকা। সেখানে কাঁটাতার টপকানো তো বাঁ–হাতের খেল। বাস্তবে ঘটলও তাই। বাংলাদেশের এক তরুণী এই প্রেমের টানেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকলেন কাঁটাতার পেরিয়ে। কোনও প্রমাণপত্র ছাড়াই ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে কোচবিহার বিএসএফের হাতে পাকড়াও হলেন তরুণী।

বিষয়টি ঠিক কী ঘটেছে? বিএসএফকে দেওয়া তরুণীর বয়ান অনুযায়ী,‌ বাংলাদেশের বগুড়ার বাসিন্দা ওই তরুণী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যুবকের সঙ্গে প্রেম হয় তাঁর। প্রেমের সাগরে মনের জাহাজ ভাসিয়ে তরুণী জানতে পারেন ওই যুবক কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা। তারপর দু’জনের প্রেম ঢেউ পেরিয়ে এগোতে থাকে। তারই মধ্যে বাড়িতে অন্য এক যুবকের সঙ্গে বিয়ের ঠিক করে ফেলে তরুণীর পরিবার। এই পরিস্থিতিতে পড়ে প্রেমিকের খোঁজে ভারতে আসেন প্রেমিকা।

বিএসএফ সূত্রে খবর, এই প্রেমের কাহিনী চোখে জল নিয়ে আসে। কিন্তু এই তরুণীর কাছে পাসপোর্ট, ভিসা কিছুই নেই। বিএসএফের ১২৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা তাঁকে আটক করেন। এরপর সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তরুণীকে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয় তাঁর। রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে জামিন খারিজ হয়ে যায়। সুতরাং ১৪ দিন হাজতে থাকতে হবে ওই তরুণীকে। কিন্তু প্রেম যখন করেছেন তখন বাধা–বিপত্তি তো মেনে নিতেই হবে।

পুলিশ সূত্রে খবর, তরুণীর প্রেমিকের এখনও খোঁজ মেলেনি। তরুণী আদৌ সত্যি কথা বলছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তরুণী পুলিশকে বলেছেন, ‘‌আমি ফিরতে চাই না। আমার প্রেমিককে খুঁজে এনে দিন। তাতে যতদিন জেলে অপেক্ষা করতে হয় করব।’‌ এই বয়ান শুনে পুলিশও হতবাক। তবে সবপক্ষই মানছেন জয়ী হবে প্রেমই।

বন্ধ করুন