বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ক্ষোভের মুখে দিদির দূত জুন মালিয়া, দুপুরের খাবার দেখে শতাব্দীর পথেই কি হাঁটলেন?

ক্ষোভের মুখে দিদির দূত জুন মালিয়া, দুপুরের খাবার দেখে শতাব্দীর পথেই কি হাঁটলেন?

পটাশপুরের গ্রামে জুন মালিয়া। 

গ্রামের মানুষের দাবির কথা জুন মালিয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে পঞ্চায়েত ভোটের মুখে সেই আশ্বাসে বাস্তবে সাধারণ মানুষের মন কতটা ভিজবে তা নিয়ে প্রশ্নটা থেকেই গিয়েছে।

জেলায় জেলায় দিদির দূত কর্মসূচিকে সামনে রেখে ঘুরছেন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা। আর অধিকাংশ জায়গাতেই ক্ষোভের মুখে পড়ছেন তাঁরা। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল জুন মালিয়ার নাম। শনিবার তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে গোকুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দিদির দূত কর্মসূচিতে এসেছিলেন। আর সেখানেই ক্ষোভের মুখে পড়লেন তিনি। সাধারণ গ্রামবাসীরা এদিন তাঁকে দেখে ক্ষোভ উগরে দেন।

মূলত রাস্তা সারাই কেন হচ্ছে না, কেন দিনের পর দিন ধরে তাঁদের এভাবে ভাঙা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সেই প্রশ্ন তোলেন গ্রামবাসীরা। এদিন গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, ১০-১২ বছর কেটে গেল। রাস্তার কোনও উন্নয়ন হল না। বার বার এনিয়ে পঞ্চায়েতকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হল না। বর্ষা এলেই এক হাঁটু কাদার উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বার বার রাস্তা সংস্কারের ব্যাপারে উপরমহলে বলা হয়েছে। কিন্তু রাস্তার সংস্কার কিছুতেই করা হচ্ছে না। এরপর জুন মালিয়া গ্রামবাসীদের ক্ষোভের কথা নিজেই মোবাইলে রেকর্ডিং করেন। তিনি এরপর বলেন, আপনাদের রাস্তা নিয়েই শুধু অভিযোগ? তখন গ্রামবাসীরা বলেন, প্রচুর সমস্যা রয়েছে। কত আর বলব!

তবে জুন মালিয়া অবশ্য এদিন গ্রামের উঠোনে বেশ তৃপ্তিভরেই মাটিতে বসে খাওয়াদাওয়া করেন। এদিকে শুক্রবারই সাংসদ শতাব্দী রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তিনি গ্রামের বাড়িতে না খেয়েই উঠে পড়েছিলেন। সাজানো থালার সামনে থেকে তিনি উঠে পড়েছিলেন। এনিয়ে নিন্দার ঝড় রাজ্য জুড়ে। তবে এদিন অবশ্য় জুন মালিয়া সেই পথে হাঁটেননি। তিনি জানিয়েছেন বেশ তৃপ্তিভরেই খাওয়াদাওয়া করেন।

গ্রামের মানুষের দাবির কথা তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে পঞ্চায়েত ভোটের মুখে সেই আশ্বাসে বাস্তবে সাধারণ মানুষের মন কতটা ভিজবে তা নিয়ে প্রশ্নটা থেকেই গিয়েছে।

তবে বাসিন্দাদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী তথা তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি জুন মালিয়া জানিয়েছেন, ক্ষোভ দেখানো তো ভালো। রাস্তা যদি খারাপ থাকে তবে তারা তো বলবেনই। তারা তো বলতে পারবেন না রাস্তাটা মসৃন। রাস্তা যে ভালো নয় সেটা আমরাও দেখলাম। আমরা পৌঁছে যাচ্ছি। আমরা শুনতে চাইছি কী প্রবলেম রয়েছে। আমরা তো প্রশংসা শুনতে আসিনি। আমরা প্রবলেম শুনতেই এসেছিলাম।

 

বন্ধ করুন