বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > সরকারি চাকরির নামে হেনস্থা,অভিযোগ প্রত্যাহার করতে তরুণীকে ‘চাপ’ মন্ত্রীর স্ত্রীর
হুমায়ুন কবীর (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী)। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)
হুমায়ুন কবীর (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী)। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)

সরকারি চাকরির নামে হেনস্থা,অভিযোগ প্রত্যাহার করতে তরুণীকে ‘চাপ’ মন্ত্রীর স্ত্রীর

  • Humayun Kabir: তরুণীর অভিযোগ ছিল, কারিগরি শিক্ষা দফতরে অস্থায়ী চাকরি দেওয়ার নামে তাঁকে দিয়ে কসবায় নিজের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করাতেন মন্ত্রী। সেই মর্মে পুলিশে অভিযোগ করেছিলেন সবিতা লায়েক। এবার পুলিশে দায়ের করা সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করতে তরুণীর উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠল হুমায়ুনের স্ত্রী অনিন্দিতা দাসের বিরুদ্ধে।

রাজ্যের কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পুলিশে হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সবিতা লায়েক নামক এক তরুণী। তরুণীর অভিযোগ ছিল, কারিগরি শিক্ষা দফতরে অস্থায়ী চাকরি দেওয়ার নামে তাঁকে দিয়ে কসবায় নিজের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করাতেন মন্ত্রী। এই আবহে এবার পুলিশে দায়ের করা এই লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করতে তরুণীর উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠল হুমায়ুনের স্ত্রী অনিন্দিতা দাস কবীরের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নাম উঠেছে ডেবরার ব্রাহ্মণশ্মশান গ্রামের স্থানীয় কিছু তৃণমূল নেতারও। এই ব্রাহ্মণশ্মশান গ্রামেরই বাসিন্তা অভিযোগকারী সবিতা। যদিও সবিতার যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়েছেন মন্রীা হুমায়ুন কবীর। (আরও পড়ুন: রাজ্যসভায় যাচ্ছেন সৌরভ পত্নী ডোনা? জল্পনার মাঝে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ)

সবিতার অভিযোগ, মিথ্যা বয়ানে সই করানোর জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করছেন অনিন্দিতা এবং তৃণমূলের কিছু নেতা। তবে তিনি সেই বয়ানে সই করেননি। এদিকে তৃণমূল নেতাদের হুঁশিয়ারিতে আতঙ্কিত হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার দীনেশ কুমারের কাছে ইমেল করেছেন সবিতা। তিনি জানান, ৬ মে পুলিশ নিয়োগ পত্র দেওয়ার নাম করে থানায় নিয়ে যায় তাঁকে। সেখানে তৃণমূল নেতারা ছিলেন। তারপর তাঁকে ও তাঁর বাবা-মাকে কোলাঘাটের এক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী ও দলীয় নেতা অলোক আচার্য, আবু বক্স, প্রদীপ কর, শীর্ষেন্দু অধিকারী ছিলেন। তাঁরা মিথ্যা বয়ানে সই করতে চাপ সৃষ্টি করেন সবিতার উপর। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে অভিযোগকারীর দাবি ছিল, কারিগরি শিক্ষা দফতরে অস্থায়ী চাকরি দেওয়ার নামে তাঁকে দিয়ে কসবায় নিজের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করাতেন মন্ত্রী। তাঁকে দিয়ে ঘর ঝাঁট দেওয়া, মোছানো, কাপড় ধোয়া, কুকুরের মল পরিষ্কারের মতো কাজ করানো হত। কিছু ভুল ত্রুটি হলে তাঁকে জাত তুলে অপমান করতেন, গালি দিতেন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী। এদিকে কারিগরি শিক্ষা দফতরের থেকে প্রতি মাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকত বেতনের টাকা। এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর একদিন সবিতাকে মন্ত্রীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে ২০২১ সালের ১০ অগস্ট তাঁর কাছে চিঠি আসে কারিগরি শিক্ষা দফতর থেকে। তাতে লেখা, সবিতা নাকি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন। এরপর বেশ কয়েকদিন অপেক্ষা করেন সবিতা। তবে তাঁকে আর কাজে বহাল করা হয়নি। সেই নিয়ে হেনস্থার অভিযোগ জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সবিতা।

বন্ধ করুন