বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > 'কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ', জমি বিতর্কে বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে চিঠি অমর্ত্য সেনের
অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)
অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। (ফাইল ছবি, সৌজন্য ফেসবুক)

'কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ', জমি বিতর্কে বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে চিঠি অমর্ত্য সেনের

বিশ্বভারতীতে অবৈধভাবে জমি দখল রাখা নিয়ে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী যে ‘মিথ্যা অভিযোগ করেছেন’, অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে বলেছেন তিনি।

এবার আইনি পদক্ষেপ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। আর বিশ্বভারতীতে অবৈধভাবে জমি দখল রাখা নিয়ে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী যে ‘মিথ্যা অভিযোগ করেছেন’, অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে বলেছেন তিনি। তাঁর আইনজীবী ইতিমধ্যেই উপাচার্যকে বিষয়টি জানিয়েছেন। উপাচার্যকে একটি চিঠিও লিখেছেন নোবেলজয়ী।

চিঠিতে উপাচার্যকে অমর্ত্য সেন লিখেছেন, ‘‌আকাশকুসুম কল্পনাপ্রসূত অভিযোগের সমর্থনে আপনি কোনও যুক্তি দেখাতে পারেননি। এখন বলছেন, ১৯৪০ সালে আমার বাবা বিশ্বভারতীর কাছ থেকে যে জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়েছিলেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য আপনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রতীচীর জমি মেপে দেখার অনুরোধ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অশোক মাহাতো হুমকি দিয়েছেন, অতিরিক্ত জমি দখল করে থাকলে (আমার বিরুদ্ধে) আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’‌

এই প্রতীচী বাড়িতে লিজের অতিরিক্ত ১৩ ডেসিমেল জমি থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে চিঠিতে অমর্ত্য সেন জানান, বিশ্বভারতীর কাছ থেকে নয়, বাজার থেকে তাঁর বাবা অনেকটা জমি কিনেছিলেন। যা তাঁদের বসতজমির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেই জমি কেনার রেকর্ড রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল সুরুল মৌজায়। কেনা জমির জন্য প্রতি বছর তিনি খাজনা ও পঞ্চায়েতের কর দিয়ে থাকেন। তাই লিজ নেওয়া জমির বাইরে অতিরিক্ত জমির খোঁজ মিললে আইনি পদক্ষেপের যে হুমকি বিশ্বভারতীর রেজিস্ট্রার দিয়েছেন, তা ‘দুরভিসন্ধিমূলক’।

উল্লেখ্য গত মাসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমর্ত্য সেনের কাছে গোটা রাজ্যের হয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে ওই অভিযোগ থেকে সরে আসতে দেখা যায়নি। উপাচার্যকে লেখা চিঠিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ লিখেছেন, ‘‌আমি জানি না, আপনি আপনার সহকর্মীদের সঙ্গে কী ব্যবহার করেন, তবে আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, ছলচাতুরিতে আমি ক্লান্ত।’‌

উদাহরণ হিসেবে অমর্ত্য সেন উল্লেখ করেন, 'উপাচার্য দাবি করেছিলেন, আমি নাকি জুন (২০১৯) মাসে শান্তিনিকেতন থেকে তাঁকে ফোন করেছিলাম।' জুনের ২ বা ১৪‒ এমন দু’টি তারিখও উল্লেখ করেন তিনি। আর বলেন, 'আমি নাকি নিজেকে ভারতরত্ন বলে পরিচয় দিয়েছি, যা অকল্পনীয়। যখন জানানো হল, গোটা জুন মাসটাই আমি বিদেশে ছিলাম, তখন উপাচার্যের দফতর চটজলদি গল্পটা বদলে দিয়ে দাবি করে, জুন কিংবা জুলাইয়ে ফোন করেছিলাম।'

চিঠির শেষে প্রবীণ অর্থনীতিবিদ লিখছেন, ‘‌মিথ্যা সাজিয়ে নিজেদের অপরাধবোধ আর না বাড়িয়ে বিশ্বভারতীর উচিত, আমার আইনজীবী যেমনটি বলেছেন, সেই মতো মিথ্যা অভিযোগগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।’‌ এখনও অবশ্য এই চিঠির পালটা উত্তর আসেনি বলেই খবর।

বন্ধ করুন