বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘‌আবার আমরা বেকার হয়ে গেলাম’‌, পুর নোটিশে বন্ধ হল স্ট্রিট ফুডের দোকান
স্ট্রিট ফুড। প্রতীকী ছবি : ইনস্টাগ্রাম  (Instagram)

‘‌আবার আমরা বেকার হয়ে গেলাম’‌, পুর নোটিশে বন্ধ হল স্ট্রিট ফুডের দোকান

  • করোনাভাইরাসের জেরে লকডাউন চলেছে দেশের সর্বত্র। তাতে কাজ হারিয়ে বেশ কয়েকজন যুবক রাস্তার ধারে দোকান দিয়েছিল।

শেষ আশার আলোটাও যেন ঝপ করে নিভে গেল! মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল বেকার যুবকদের। তাহলে এবার কী হবে?‌ হৃদয়ে ডুগড়ে উঠেছে প্রশ্ন। রাস্তায় খাবার দোকান দিয়ে সংসার চালাতেন কয়েকজন যুবক। বেশ সুস্বাদু খাবার মিলত এখানে। কিন্তু আর হয়তো মিলবে না। কারণ‌ বন্ধ হয়ে গেল অশোকনগরের স্ট্রিট ফুডের দোকান।

কোথায় এই দোকানগুলি?‌ করোনাভাইরাসের জেরে লকডাউন চলেছে দেশের সর্বত্র। তাতে কাজ হারিয়ে বেশ কয়েকজন যুবক রাস্তার ধারে দোকান দিয়েছিল। খাবার স্বাদে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগরের চৌরঙ্গি থেকে গোলবাজার যাওয়ার পথে বানিপীঠ গার্লস হাইস্কুলের পাশে রাস্তায় কিছু অস্থায়ী ফাস্ট ফুডের দোকান বসেছিল। এখানের রেস্তোরাঁ ছেড়ে এই স্ট্রিট ফুডের দোকানগুলিতে ভিড় উপচে পড়ত। আর মঙ্গলবার হঠাৎই দোকান বন্ধ করার নোটিশ ধরাল অশোকনগর পুরসভা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এই যুবকরা লকডাউনে কাজ হারিয়ে রাস্তার ধারে ফাস্ট ফুডের দোকান খুলেছিল। প্রায় ১০–১৫ জন বেকার যুবক এভাবেই সংসার টানছিলেন। বিরিয়ানি, ফুচকা, মোমো, পাওভাজি, মাশরুমের মতো খাবার পাওয়া যেত। কম দামে প্রতিটি খাবারই ছিল সুস্বাদু। যা অনেক রেস্তোরাঁর খাবারকেও ব্যাকফুটে ফেলেছিল। নতুন প্রজন্মের কাছে তা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল।

হঠাৎ করে দোকান তোলার নোটিশ কেন? পুরসভার নোটিশে বলা হয়েছে, এই দোকানগুলির জন্য এলাকা দূষিত হচ্ছে। স্কুলের সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় যানজটও হচ্ছে। আর স্ট্রিট ফুড স্টল মালিকদের অভিযোগ, ‘‌সস্তা ও ভালো খাবারের জেরে মার খাচ্ছিল রেস্তোরাঁগুলি। তাই পুরসভার কাছে নালিশ ঠুকেছিল। আবার আমরা বেকার হয়ে গেলাম।’‌ এই বিষয়ে অশোকনগরের পুরপ্রশাসক উৎপল তালুকদার বলেন, ‘বেআইনিভাবে সরকারি জায়গা দখল করে দোকানগুলি চলছিল। পুজোর পরে উঠে যেতে বলা হয়েছিল।’

এই কঠিন সময়ে নিজেদের উদ্যোগে কাজ খুঁজে নিয়েছিলেন ওই বেকার যুবকেরা। সেখানে মানবিকতার বদলে মিলল ফের বেকারত্ব। বিকল্প কোনও কর্মসংস্থান মিলল না। শেষ আশার আলো হারানো যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক বলে আওয়াজ উঠেছে। এখন কিভাবে চলবে সংসার?‌ ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা।

বন্ধ করুন