বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > বিজেপি–তে জিতেন্দ্র, মেনে নেওয়া অসম্ভব:‌ বাবুল ;‌ নিজেকে সংশোধন করব :‌ জিতেন্দ্র
জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও বাবুল সুপ্রিয়। ফাইল ছবি
জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও বাবুল সুপ্রিয়। ফাইল ছবি

বিজেপি–তে জিতেন্দ্র, মেনে নেওয়া অসম্ভব:‌ বাবুল ;‌ নিজেকে সংশোধন করব :‌ জিতেন্দ্র

  • বৃহস্পতিবারই প্রথমে আসানসোল পুর প্রশাসকের পদ ত্যাগ করেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। এবং পরে পাণ্ডবেশ্বরে তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ে হামলা চালানো হলে তিনি জেলা তৃণমূল সভাপতি–সহ দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

‌শনিবার অমিত শাহের সভায় জিতেন্দ্র তিওয়ারি বিজেপি–তে যোগ দেবেন কিনা তা নিয়ে খোলসা করে কিছু বলেননি তিনি। কিন্তু এ নিয়ে জল্পনা উঠেছে চরমে। আর সেই সম্ভাবনার আগেই ফেসবুকে তাঁর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তিনি তাঁর পোস্টে পরিষ্কার জানিয়েছেন যে জিতেন্দ্র তিওয়ারি বা আসানসোল–দুর্গাপুরের কোনও তৃণমূল নেতা যদি বিজেপি–তে যোগ দেন তা তিনি মন থেকে মেনে নিতে পারবেন না।

ফেসবুক পোস্টে বাবুলের বক্তব্য, ‘‌শীর্ষ নেতৃত্ব কী করেন, সেটা একেবারেই আলাদা ব্যাপার। সেই সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ। তাতে আমার কিছু বলার অধিকার নেই। কিন্তু এটাও ঠিক যে এতদিন ধরে চূড়ান্তভাবে আমার প্রচুর বিজেপি সহকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ আহত হয়েছেন, কারও মৃত্যুও হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভুয়ো কেসে জেলে রয়েছেন। আর এর নেপথ্যে র‌য়েছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি–সহ আসানসোল–দুর্গাপুরের তৃণমূল নেতারা। আর যাঁর নির্দেশে এ সব করা হয়েছে তিনি তৃণমূলের মাননীয়া নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এঁদের কারও বিজেপি–তে আসা আমি মন থেকে মেনে নিতে পারব না।’‌

এদিকে, বাবুল সুপ্রিয় এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার এক সংবাদ চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেছেন,‌ ‘‌তিনি আমাকে পছন্দ না–ই করতে পারেন। এই অধিকার তাঁর আছে। রাইট টু ডিজলাইক ও রাইট অফ এক্সপ্রেশন— দুটোই সংবিধানে বলা রয়েছে। তিনি আমাকে পছন্দ করেন না, সেটা জনসমক্ষে বলেছেন। ওঁর মনে হয়েছে এটা বলা উচিত তাই তিনি বলেছেন। ভবিষ্যতে চেষ্টা করব যাতে অন্য কোনও ব্যক্তির আমাকে নিয়ে এই ধারণা না হয়। কোথাও ভুল হচ্ছে, ঠিক করার চেষ্টা করব।’‌

বৃহস্পতিবারই প্রথমে আসানসোল পুর প্রশাসকের পদ ত্যাগ করেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। এবং পরে পাণ্ডবেশ্বরে তাঁর বিধায়ক কার্যালয়ে হামলা চালানো হলে তিনি জেলা তৃণমূল সভাপতি–সহ দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আর এতেই জিতেন্দ্রর বিজেপি–তে যোগ দেওয়ার জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে তাঁর সঙ্ঘাত বহু পুরনো। তাই যখন জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিজেপি–তে যোগদানের আওয়াজ ওঠে তখন তৃণমূলেরই একাংশ বলতে শুরু করেন যে নিশ্চয়ই বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে জিতেন্দ্রর কোনও রফা হয়েছে।

কিন্তু এমন কোনও রফার সম্ভাবনা কোনও কালেই ছিল না বলে অলিখিত দাবি করে বাবুল সুপ্রিয় তাঁর ফেসবুক পোস্টে বার্তা দিয়েছেন, ‘‌যাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এতদিন শাসকদেলর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, সেই সহকর্মীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমি কোনও গোপন আঁতাতে যাব না। আমার তেমন মানসিকতাও নেই। আশা করি এই লেখা সমস্ত গুজবের মৃত্যু ঘটাবে।’‌ একইসঙ্গে লিখিত পোস্টের পাশাপাসি একটি সাড়ে তিন মিনিটের ভিডিও পোস্ট করে জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়।

বন্ধ করুন