পুশিশের সঙ্গে সংঘর্ষের আগে বাদুড়িয়ায় বিক্ষোভরত গ্রামবাসীরা। 
পুশিশের সঙ্গে সংঘর্ষের আগে বাদুড়িয়ায় বিক্ষোভরত গ্রামবাসীরা। 

বাদুড়িয়া কাণ্ডে জড়িত বিজেপি, দাবি জ্যোতিপ্রিয়র

  • সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয়বাবুর দাবি, ‘এই ঘটনায় প্রমাণিত যে বিজেপি চুপচাপ বসে নেই। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও তারা মানুষকে উসকানি দিচ্ছে।

বাদুড়িয়ায় জনতার মারে ওসির মাথা ফাটার ঘটনায় চরমে রাজনৈতিক তরজা। শাসক তৃণমূলের দাবি, মানুষকে উসকাচ্ছে বিজেপি। পালটা বিজেপির অভিযোগ, ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই কিল মারার গোঁসাই। ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

ত্রাণ বিলিকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে অশান্ত হয়ে ওঠে বাদুড়িরা তারাগনিয়া এলাকা। অভিযোগ, বাদুড়িয়া পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ওই এলাকায় বেছে বেছে দলীয় কর্মীদের ত্রাণ দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর অরিত্র ঘোষ। বঞ্চিত পরিবারগুলি বুধবার সকালে ত্রাণের দাবিতে অবরোধে বসে বঞ্চিত পরিবারের সদস্যরা। মছলন্দপুর – খোলাপোতা সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। অভিযোগ, তখন বাদুড়িয়া থানার ওসির  গ্রামবাসীদের ওপর লাঠি চালায় পুলিশ। পালটা পুলিশের ওপর হামলা করেন গ্রামবাসীরা। মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয় ওসিকে। ইট ও লাঠির ঘায়ে ওসির মাথা ফাটে। 

খবর পেয়ে বসিরহাটের SDPO-র নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল বাহিনী। অভিযোগ, তাদের লক্ষ্য করেও ইট ছোড়েন স্থানীয়রা। এর পর তারাগনিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। পুরুষশূন্য হয়ে যায় গ্রাম। সন্ধ্যে পর্যন্ত এই ঘটনায় ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  

এই ঘটনায় বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি বলেন, ‘বাদুড়িয়া পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিত্র ঘোষ দাসপাড়া ও জোড়া অশ্বত্থতলায় ৭০টা পরিবারকে ত্রাণ দেবে বলেছিল। কিন্তু ৫০টি পরিবারকে দিতে পেরেছে। বাকিদের ত্রাণ দিতে পারেনি। তাদের নিয়ে রাস্তা অবরোধে নেতৃত্ব দিয়েছিল বিজেপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা রাম দাস। তাঁর নেতৃত্বেই পুলিশকে মারধর ও ওসির মাথা ফাটানো হয়েছে। আমি এই ঘটনায় পুলিশ সুপারকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলেছি। সঙ্গে যে পরিবারগুলি ত্রাণ পায়নি তাদের জিআর-এর চাল দিতে বলেছি।‘ 

সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয়বাবুর দাবি, ‘এই ঘটনায় প্রমাণিত যে বিজেপি চুপচাপ বসে নেই। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও তারা মানুষকে উসকানি দিচ্ছে। সেই উসকানির ফলেই আজ ওসির মাথা ফাটল।‘ 

অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘যে কোনও ঘটনা ঘটলেই সরকার বিজেপির দিকে আঙুল তোলা ছাড়া আর কিছু করতে পারছে না। জনরোষকে সামাল দিতে পারছে না সরকার। এটা একটা রাজনৈতিক চক্রান্ত। ওসির মাথা ফাটুক এটা আমরা চাই না। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। মানুষের রোষ যদি সরকার সামলাতে না পারেন তবে তা তাঁদের ব্যর্থতা।‘ 

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, খাবারের দাবিতে পথে নেমেছিল সাধারণ মানুষ। তাদের সমস্যার সমাধান না করে লাঠি চালায় পুলিশ। পালটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন গ্রামবাসীরা। 

বন্ধ করুন