বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘জাস্ট’ কথা হয়েছে,বাড়ির দলিল রেখে Student Credit Card-এ ঋণ নিয়ে সাফাই ব্যাঙ্কের

বাড়ির দলিল বন্ধক রাখতে হবে বা জমা রাখতে হবে এলআইসির কাগজ। তবেই মিলবে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ঋণ। এমনই অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী ও জেলাশাসককে চিঠি দিলেন কালনার বাসিন্দা বি.টেক পড়ুয়া আবির মিত্র। যদিও বর্ধমান সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনও নথি চাওয়া হয়নি। ‘জাস্ট আলোচনা হয়েছে।’

রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পাওয়ার জন্য পড়ুয়াদের কোনও গ্যারেন্টার লাগবে না। সরকারই হবে গ্যারেন্টার। যদিও কালনার বি.টেক পড়ুয়া আবিরের দাবি, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে ঋণের জন্য বর্ধমান সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কালনা শাখায় আবেদন জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এখন আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, তা জানতে গেলে ব্যাঙ্ক থেকে বাড়ির দলিল চাওয়া হচ্ছে। অথবা এলআইসির কাগজপত্র জমা রাখতে বলছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। 

আবির জানান, সেই ঋণ না পেলে তাঁর পড়াশোনা চালানো যাবে না। প্রতি সেমেস্টারে ৩০,০০০ টাকা লাগে। সেই টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই তাঁর বাবার। যিনি ওষুধের দোকানে কাজ করে কোনওক্রমে সংসার টানছেন। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কালনার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ, জেলাশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে কালনার বিধায়ক জানান, শুধু আবির একা নন, এরকম আরও কয়েকজনের থেকে বর্ধমান সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কালনা শাখায় বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছেন। সেখানে দুর্নীতি হচ্ছে। আমজনতার টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, '৩৪ বছর একটা সরকার ক্ষমতায় ছিল। কালনায় ১২২ জন যদি কর্মী থাকেন, তাহলে ১২২ জনই সিপিআইএমের দ্বারা পরিচালিত। ‘ব্যাঙ্কে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁরা সিপিআইএমের আমলে চাকরি পেয়েছেন। যাঁরা বামপন্থী ছিলেন, তাঁরা এখন সক্রিয় হনুমানের দলে গিয়েছেন। শুধুমাত্র সরকারকে কলঙ্কিত করার জন্য এই চেষ্টা করা হচ্ছে।’ বিধায়কের হুঁশিয়ারি, প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের সামনে মানববন্ধন তৈরি করা হবে। বিজেপি এবং সিপিআইএমের পালটা দাবি, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের পুরোটাই ভাঁওতা।

তারইমধ্যে বর্ধমান সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কালনা শাখার ম্যানেজার প্রদীপ কুমার অধিকারী দাবি করেছেন, দলিল রাখার কোনও বিষয় বলা হয়নি। ওটা শুধুমাত্র একটু আলোচনা করা হয়েছিল। লোনের ব্যাপারটা পুরোটাই বর্ধমান মেন শাখা দেখছে। মেন শাখাই বিষয়টি বলতে পারবে। তাঁর কথায়, দলিল এবং এলআইসির কাগজ নিয়ে ‘জাস্ট আলোচনা হয়েছে।’

বন্ধ করুন