বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > বিডিও'র মানবিক মুখ, মাটিতে বসেই ৭৫ বছরের বৃদ্ধার বার্ধক্য ভাতার ফর্ম পূরণ করে ‘দুয়ারে সরকার'
বিডিওটর মানবিক মুখ, ৭৫ বছরের বৃদ্ধার বার্ধক্য ভাতার ফর্ম পূরণ করে ‘দুয়ারে সরকার'। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য টুইটার)
বিডিওটর মানবিক মুখ, ৭৫ বছরের বৃদ্ধার বার্ধক্য ভাতার ফর্ম পূরণ করে ‘দুয়ারে সরকার'। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য টুইটার)

বিডিও'র মানবিক মুখ, মাটিতে বসেই ৭৫ বছরের বৃদ্ধার বার্ধক্য ভাতার ফর্ম পূরণ করে ‘দুয়ারে সরকার'

  • আপ্লুত গ্রামবাসীরা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্য, বাংলার সমস্ত প্রান্তের মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। রাজ্যের সকল প্রান্তিক মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তিনি নিয়ে এসেছেন ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। বিভিন্ন এলাকার শিবিরগুলিতে পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা। জেলাশাসকের নির্দেশ রয়েছে শিবিরে যাতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয় আমজনতাকে। কারণ এখনও রাজ্যে রয়েছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সফল করতে রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকরা লাগাতার কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে সরকারি কর্মীদের সেই মানবিক ছবি ধরা পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরে। এই জেলার পটাশপুর–২ ব্লকের বিডিও স্বয়ং নিজেই মাটিতে বসে নিজের হাতে ৭০ বছর এক অসহায় বৃদ্ধার বার্ধক্যভাতার আবেদন পূরণ করে দিলেন। সুতরাং মানুষের ‘দুয়ারে সরকার’ এল এই বার্তা সফল বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের। আর বিডিও’র এই মানবিক পদক্ষেপে অবাক লম্বা লাইনে দাঁড়ানো গ্রামের মানুষরা।

 ‘ঝামেলার’ এলাকা বলে পরিচিতি পটাশপুর–২ ব্লকের চকভবানি হাইস্কুল প্রাঙ্গণ। সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির বসেছিল চকভবানি হাইস্কুলের প্রাঙ্গণে। সেই শিবির পর্যবেক্ষণ করেছিলেন পটাশপুর–২ ব্লকের বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস। শিবিরে স্বাস্থ্যসাথী ও বার্ধক্যভাতার টেবিলে মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে বিডিও শঙ্কু বিশ্বাসের। লাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ–বৃদ্ধা এমনকী শিশু কোলে মহিলাও। এই পরিস্থিতি দেখে হঠাৎ বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস নিজেই কলম হাতে বসে পড়েন মাটিতে।

আর মাটিতে বসে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের আবেদনপত্র পূরণ করতে শুরু করেন। লাইনের শেষের দিকে দাঁড়ানো ৭৫ বছরের লক্ষীপ্রিয়া ঘোড়াইকে ডেকে মাটিতে বসেই পূরণ করে দেন তাঁর আবেদনপত্র। বিডিও নিজেই তাঁর আবেদনপত্র পূরণ করে তাঁকে স্বাক্ষর করিয়ে জমা দিয়ে দেন। চকমথুরি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষীপ্রিয়া ঘোড়াই বিডিও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘‌যা বড় লাইন পড়েছিল, উনি না থাকলে আমাদের বোধহয় বার্ধক্য ভাতার আবেদন পূরণ করে জমা আর দিতে পারতাম না।’‌

আর বিডিও শঙ্কু বিশ্বাস বলেন, ‘লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছিল। বয়স্কদের ও মহিলাদের যাতে হয়রানি না হয়, তাই নিজেই আবেদনপত্র পূরণ করে দিয়েছি। আমরা চাই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়ে কেউ শিবির থেকে ঘুরে না যান।’ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলার বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মৃণালকান্তি দাস, পটাশপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দনকুমার সাউ, ব্লকের কৃষি আধিকারিক সৌরভ মাইতি প্রমুখ। শুধু পটাশপুর নয়, এগরা, কাঁথি, তমলুক, হলদিয়াতে ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরগুলিতে ভিড় দেখা যায়।

বন্ধ করুন