মিড ডে মিল বিলির প্রস্তুতির জন্য রবিবার খোলা থাকবে স্কুল (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
মিড ডে মিল বিলির প্রস্তুতির জন্য রবিবার খোলা থাকবে স্কুল (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

'জনতা কার্ফু'-র দিন শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নোটিশ প্রত্যাহারের আর্জি ধনখড়ের

  • শিক্ষকদের একটাই চিন্তা, রবিবার রাস্তায় বাস-গাড়ি পাওয়া যাবে তো!

রবিবার 'জনতা কার্ফু' পালনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পড়ুয়াদের মিড ডে মিল দেওয়ার প্রস্তুতির জন্য সেদিনই শিক্ষকদের স্কুলে আসার আর্জি জানাল রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন : বারো যাত্রী করোনা আক্রান্ত, ট্রেনে যাত্রা করবেন না, আর্জি না রেলের

করোনাভাইরাস সতর্কতায় নবান্নের তরফে রাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছে। যতদিন স্কুল বন্ধ থাকবে, ততদিনের মিড ডে মিলের সামগ্রী (চাল ও আলু) পড়ুয়াদের দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন : করোনা পরিস্থিতি: মধ্যে বিনামূল্যে ৬ মাস চাল দেবে রাজ্য

সেইমতো গত ২০ মার্চ ব্যারাকপুরের জেলা পরিদর্শক (ডিআই) অফিসের তরফে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা জেলার সব উচ্চ প্রাথমিক, উচ্চ, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। তা স্কুল শিক্ষা দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির নির্দেশে বলে জানানো হয়েছে। সেই চিঠি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাতে এসেছে। তাতে চাল ও আলু সরবরাহের প্রস্তুতির জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার স্কুলগুলি শনি ও রবিবার খোলা রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। মিড ডে মিল বিলির যাবতীয় প্রস্তুতি রবিবারের মধ্যে সেরে রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

সেই নোটিশ (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)
সেই নোটিশ (ছবি সৌজন্য সংগৃহীত)

মালদার ডিআই অফিসের তরফে শুক্রবার একই নোটিশ জারি করা হয়েছে। শনিবার ও রবিবার স্কুল খোলা রাখার নোটিশ দিয়েছে কলকাতার ডিআই অফিসও।

আরও পড়ুন : Coronavirus Queries- WhatsApp-এ এই নম্বরে মেসেজ করলেই মিলবে উত্তর

প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি মাসে পড়ুয়াদের দু'কেজি চাল ও আলু দেওয়া হচ্ছে। তবে পড়ুয়াদের স্কুলে আসতে হবে না। অভিভাবকদের হাতে তা তুলে দেওয়া হবে। আর সেই সামগ্রী বিলির জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় বাজার থেকে শনিবার ও রবিবার ১৮ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে হবে।

আরও পড়ুন : রাজ্যে করোনা আক্রান্ত বেড়ে ৩, এবার স্কটল্যান্ড ফেরত যুবতীর শরীরে ভাইরাস

যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যথারীতি বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে 'জনতা কার্ফু'-র দিন বেছে নিয়েছে শিক্ষা দফতর। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, 'জঘন্য রাজনীতির স্বার্থে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) অনেকের জীবন বিপন্ন করছেন।' এনিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিরও পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির।

আরও পড়ুন : Rail ticket cancellation: এই দিন পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট বাতিল করলে মিলবে পুরো টাকা

তবে বিজেপির এই অভিযোগে পাত্তা নিতে রাজি নন শাসকদলের নেতারা। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র স্নেহাশিস চক্রবর্তী বলেন, 'আমি ভয় পাচ্ছি যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ভালো করে শোনেননি রাজ্যের বিজেপি নেতারা। মোদী একবারও বলেননি যে জরুরি পরিষেবা বন্ধ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকরা জরুরি পরিষেবা প্রদান করছেন। কারণ রাজ্যের অনেক পড়ুয়ার পরিবারই মিড ডে মিলের উপর নির্ভরশীল।'

আরও পড়ুন : Community spread? তামিলনাড়ুর যুবক, পুনের মহিলার করোনার উত্স জানে না প্রশাসন

এদিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আর্জি জানান রাজ্যপাল। শনিবার রাত ১০টা নাগাদ টুইটবার্তায় তিনি বলেন, 'আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্তরিকভাবে আবেদন করছি, এই (নোটিশ) পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে প্রত্যাহার করুন। করোনাভাইরাস মহামারীর পরিস্থিতিতে আমাদের সকলের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। নরেন্দ্র মোদীর ডাকে সারা বিশ্ব প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এবং তা জাতীয় স্বার্থে।'

এখানেই অবশ্য থামেননি ধনখড়। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের একটি টুইটের স্বপক্ষে তিনি লেখেন, 'এরকম বিশ্বজনীন সংকটের সময় নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসনীয় রাজত্বের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এরকম পদক্ষেপ খাপ খায় না। তাঁকে (মমতা) এই পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনা করার আর্জি জানিয়েছি। কারণ তা করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইকে পরাজিত করে। '

আরও পড়ুন : গার্গেল করলে কি সারবে করোনা, রাজ্যপালের দাবির সত্যতা জেনে নিন

রাত পর্যন্ত অবশ্য সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ফলে আদৌও নোটিশ প্রত্যাহার করা হবে কিনা, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে তাঁদের চিন্তা, রবিবার রাস্তায় বাস-গাড়ি পাওয়া যাবে তো! বিকল্প হিসেবে ট্রেনের ভরসায় থাকতে পারছেন তাঁরা। কারণ ইতিমধ্যে রেল জানিয়ে দিয়েছে, জরুরি কিছু ট্রেন চলবে। কখন চলবে তা অবশ্য এখনও জানানো হয়নি। যদিও রাজ্য পরিবহন দফতর জানিয়েছে, সরকারি বাস, ট্রাম এবং ভেসেল বন্ধ রাখার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আর পাঁচটা রবিবার যেমন পরিষেবা পাওয়া যায় 'জনতা কার্ফু'-র দিনও তার ব্যতিক্রম হবে না। রাস্তায় গাড়ি নামানোর আগে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হবে বলে জানান দফতরের এক কর্তা।

বন্ধ করুন