বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ৪ বছর বন্দি থাকার পর অসমের ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে বিষ্ণুপুরে ফিরলেন 'বিদেশি'
অসমের গোয়ালপাড়া জেল (ছবি সৌজন্যে টুইটার)

৪ বছর বন্দি থাকার পর অসমের ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে বিষ্ণুপুরে ফিরলেন 'বিদেশি'

  • দীর্ঘ চারবছর পর শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়ে বিষ্ণুপুরে নিজের বাড়ি ফিরলেন 'বিদেশি' গঙ্গাধর।

ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেওও দীর্ঘ চারবছর অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে কাটাতে হয় বিষ্ণুপুরের রাধানগরের যুবক গঙ্গাধর পরামানিককে। নিজের দেশেই বিদেশি তকমা পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন গঙ্গাধর। কোনও ভাবেই তিনি অসমের প্রশাসনকে বোঝাতে পারেননি যে তিনি বাংলাদেশি নন বরং তিনি ভারতীয়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ চারবছর পর শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়ে বুধবার বাড়ি ফিরলেন বিষ্ণুপুরে 'বিদেশি' যুবক।

পঞ্চম শ্রেণি পাশ গঙ্গাধর বেশি উপার্জনের জন্য রাজ্যের বাইরে গিয়েছিলেন। ১৬ বছর আগে পেট চালানোর তাগিদে তিনি পৌঁছেছিলেন গুয়াহাটি। ভোটারকার্ড, আধারকার্ড বা জন্মের শংসাপত্র ছাড়াই ১৭ বছর বয়সে অসমে কাজ করা শুরু করেন গঙ্গাধর। একটা হোটেলে বাসন ধোয়ার কাজ শুরু করেন। তবে পর্যাপ্ত টাকা পেতেন না গঙ্গাধর। তারপরই ধীরে ধীরে বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়। কালের প্রভাবে ঠিকানাও গুলিয়ে ফেলেন গঙ্গাধর।

২০১৭ সালে গঙ্গাধরেরই এক সহকর্মী তাঁর নামে পুলিশে নালিশ করে বলে জানা গিয়েছে। এরপর পুলিশ গঙ্গাধরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর থেকে পরিচয়পত্র চায়। তবে কোনও নথি না দেখাতে পেরে ঠাঁই হয় গোয়ালপাড়ার ডিটেনশন ক্যাম্পে।

তিন মাস আগে গোয়ালপাড়ার ক্যাম্পে 'সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস' নামক এক সংগঠন সমীক্ষা করতে গেলে গঙ্গাধরের বিষয়ে জানতে পারে। ফেসবুকের মাধ্যমে গঙ্গাধরের স্কুলের প্রাক্তনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন সংগঠনের সদস্যরা। তারপর বিষ্ণুপুরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক স্বপন ঘোষ গঙ্গাধরের পরিবারের খোঁজ দেন সংগঠনটিকে। এরপরই ফরেনার্স ট্রাইবুনালে জামিনের আবেদন জানান গঙ্গাধর। গত মঙ্গলবার ছাড়া পান গঙ্গাধর। তারপরই বাড়ির ট্রেন ধরে বিষ্ণুপুরে ফেরা। ট্রাইবুনালের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে গঙ্গাধর নিয়মিত বিষ্ণুপুর থানায় হাজিরা দেন।

বন্ধ করুন