বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > পুরুলিয়া কংগ্রেস–বিজেপিতে ব্যাপক ভাঙন, জেলা পরিষদ যেতে চলেছে তৃণমূলে
ভাঙন দেখা গেল পুরুলিয়া কংগ্রেসে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)
ভাঙন দেখা গেল পুরুলিয়া কংগ্রেসে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)

পুরুলিয়া কংগ্রেস–বিজেপিতে ব্যাপক ভাঙন, জেলা পরিষদ যেতে চলেছে তৃণমূলে

  • আর এই ভাঙন ধরার পর তা গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে মিশেছে। আর সেটাই এখন এই দুই দলের কাছে বেশ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জোট রেখে আগামীদিনে এগোনো হবে, নাকি হবে না?‌ এই প্রশ্ন নিয়ে যখন বামফ্রন্ট–কংগ্রেসে জোর চর্চা চলছে তখন ভাঙন দেখা গেল পুরুলিয়া কংগ্রেসে। সুতরাং সেখানে যেটুকু সংগঠন ছিল তা শেষ হয়ে গেল। অবশ্য বিজেপিতেও এখানে ভাঙন ধরেছে। আর এই ভাঙন ধরার পর তা গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে মিশেছে। আর সেটাই এখন এই দুই দলের কাছে বেশ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একুশের নির্বাচনের পর সংগঠন ধরে রাখতে না পারার বার্তাই ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র।

ঠিক কী ঘটেছে?‌ শনিবার একযোগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন পুরুলিয়ায় বিজেপির জেলা পরিষদের সদস্য অজিত বাউরী, মানিক চাঁদ কুমার এবং কংগ্রেসের রাজীব সাহু, তনুশ্রী বাউরি। এছাড়া এবারের নির্বাচনে পুরুলিয়ার কংগ্রেসের প্রার্থী তথা প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তালিকা এখানেই শেষ নয়। পুরুলিয়া শহর কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বরূপ পট্টনায়ক, পুরুলিয়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ববিতা কর্মকার, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আরতী পাণ্ডে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলর রাজীব দত্ত–সহ একাধিক বিজেপি এবং কংগ্রেস নেতা–নেত্রীরা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। যোগদানকারীদের হাতে পতাকা তুলে দেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক।

এই যোগদানের পর মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ‘‌বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্যই কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা আমাদের উপর ভরসা করেছেন। কোনও ভয় দেখিয়ে বা প্ররোচনা দিয়ে নয়, নিজে থেকেই সকলে এসেছেন।’‌ এই যোগদানের বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সম্পাদক পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‌তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আলাদা করে জাতীয় কংগ্রেসের কোনও পার্থক্য নেই। তাই আমরা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছি।’‌

উল্লেখ্য, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের চার সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করায় ৩৮টি আসনের মধ্যে ৩২টি শাসকদলের দখলে চলে এল। আর কয়েকদিনের মধ্যেই অনাস্থা আনতে পারে শাসকদল। তখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারলেই কাজ শেষ। এই বিষয়ে বিজেপি জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘‌লোভে পড়ে ওরা ঘাসফুল শিবিরে গিয়েছেন। ওঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিলেন।’‌

যদিও জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পুরুলিয়া জেলা পরিষদে কোনও অনাস্থা আনার প্রশ্নই নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সভাধিপতি পদে বহাল করেছেন। সেক্ষেত্রে দলের নির্দেশেই কাজ চলবে। এই যোগদান পর্বে মলয় ঘটক, রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি গুরুপদ টুডু উপস্থিত ছিলেন।

বন্ধ করুন