বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ভরসা শাহ, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিধানসভা ভোটের সলতে পাকানো শুরু BJP-র
অমিত শাহ (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
অমিত শাহ (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

ভরসা শাহ, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বিধানসভা ভোটের সলতে পাকানো শুরু BJP-র

  • লোকসভা ভোটের নীতিতেই হাঁটছে বিজেপি।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন।সেই মহাযুদ্ধের ১০ মাস আগেই কার্যত ভোটের প্রচার শুরু করতে চলেছেন বিজেপি নেতা অমিত শাহ। তারই অঙ্গ হিসেবে মঙ্গলবার দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল র‌্যালিতে ভাষণ দেবেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি।

বিজেপির শিবিরের বক্তব্য, গত লোকসভা ভোটে শাহ যে ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তা আরও মজবুত করবেন তিনি। সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ‘ব্যর্থতা’ এবং বিজেপি সরকারের ‘সাফল্য’ তুলে ধরবেন। সদ্য বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি পদে বসা সৌমিত্র খাঁ বলেন, ‘এখানে প্রচণ্ড রাগ এবং হতাশা তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলা হোক বা ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর ত্রাণকাজ হোক, রাজ্য সরকারের দুর্বল পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছেন মানুষ। কেন্দ্র যে পদক্ষেপ করেছে, তার তুলনায় রাজ্য সরকার মানুষকে হতাশ করেছে। কীভাবে বাংলাকে বিজেপি আত্মনির্ভর হতে এবং তৃণমূল সরকারের তৈরি করা সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে বানাতে সাহায্য করবে, তা (কেন্দ্রীয়) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেবে এই র‌্যালি।’

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শাহের বক্তৃতা রাজ্যের কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি। তা থেকে কার্যত স্পষ্ট, বিধানসভা ভোটেও বাংলার দায়িত্ব নিজের বিশ্বস্ত লোকের হাতেই সঁপেছেন নরেন্দ্র মোদী। বিশেষ করে গেরুয়া শিবিরের অন্দরের মতে, লোকসভা ভোটে বাংলায় গেরুয়া ঝড়ের অন্যতম কাণ্ডারী ছিলেন শাহ। তাই বিধানসভা নির্বাচনে তিনিই দলের রণনীতি ঠিক করবেন। 

এক বিজেপি কর্মকর্তা বলেন, ‘২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে উনি (শাহ) রাজ্যে বিজেপির প্রচারের ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং দল ৪২ টির মধ্যে ১৮ টি আসন জিতেছিল। যখন নতুন একটি টিম তৈরি হয়েছে এবং দলের কর্মীদের যেভাবে নিশানা করা হচ্ছে যে মহামারীর সময়ে তাঁদের ত্রাণ বিলিও করতে দেওয়া হচ্ছে না, তখন শাহ-যোগ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’  

গেরুয়া শিবিরের অপর এক কর্মকর্তার বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার মতো পূর্ব ভারতের রাজ্যে বিজেপির সুযোগ আছে দেখে বাড়তি নজর দিচ্ছেন শাহ। ফলস্বরূপ দু'রাজ্যে বিজেপির শক্তিও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এমনকী মমতাও (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) শাহকে বেশি আক্রমণের উপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, মোদীকে টার্গেট করে হিতে বিপরীত হচ্ছে, তাই শাহকে টার্গেট করছেন।’ অর্থাৎ ইঙ্গিতটা স্পষ্ট, লোকসভা নির্বাচনের মতো মোদী-শাহ জুটিতেই বিধানসভা ভোটের বৈতরণী পার করতে চাইছে বিজেপি। আর যথারীতি সেই ঘুঁটি সাজাবেন শাহ।

যদিও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মতে, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যখন উত্তরোত্তর বাড়ছে, তখন এভাবে ‘ভোটের প্রচার’ শুরু করা বিরূপভাবে নিতে পারে বাংলার মানুষ। তবে কীভাবে বাংলার মানুষ নেবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও ১০ মাস।

বন্ধ করুন