বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > পুলিশি ‘নিগ্রহ’-এর প্রতিবাদ, আগামিকাল উত্তরবঙ্গে ১২ ঘণ্টা বনধের ডাক BJP-র
বিজেপির উত্তরকন্যার অভিযানে রণক্ষেত্র (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
বিজেপির উত্তরকন্যার অভিযানে রণক্ষেত্র (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

পুলিশি ‘নিগ্রহ’-এর প্রতিবাদ, আগামিকাল উত্তরবঙ্গে ১২ ঘণ্টা বনধের ডাক BJP-র

  • আগামিকাল কৃষক সংগঠনগুলির ডাকেও ভারত বনধ আছে।

উত্তরকন্যা অভিযানে ‘বর্বরোচিত আচরণ’ করেছে পুলিশ। তার জেরে মৃত্যু হয়েছে এক কর্মীর। এমনই অভিযোগ তুলে আগামিকাল ১২ ঘণ্টার উত্তরবঙ্গ বনধের ডাক দিল বিজেপি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আগামিকাল কৃষক সংগঠনগুলির ভারত বনধের ডাক দিয়েছে। যে বনধে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছিল শিলিগুড়িতে। যত বেলা গড়িয়েছে, উত্তাপ তত বেড়েছে। আগেভাগেই শিলিগুড়িতে ঢোকার অধিকাংশ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন রাস্তায় চলছিল নাকা চেকিং। তিনবাতি মোড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল সংখ্যক পুলিশ। ব্যারিকেড তৈরি রাখা হয়েছিল।

তা উপেক্ষা করেই ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যেতে থাকেন বিজেপি কর্মীর। মিছিল আটকাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। জলকামানও ব্যবহার করা হয়। পালটা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকেন বিজেপিকর্মীরা। ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। বিজেপির অভিযোগ, কর্মীদের উপর লাঠি চালানো হয়েছে। হেনস্থা করা হয়েছে মহিলা কর্মীদের। মৃত্যু হয় উলেন রায় নামে এক বিজেপি কর্মীর। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, পুলিশের দিক থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। নন্দীগ্রামের মতো পুলিশের সঙ্গে দুষ্কৃতীরা মিশে থাকতে পারে। পাখি মারার বন্দুক থেকে গুলি চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেন দিলীপ। 

সেই মৃত্যু এবং পুলিশি ‘নিগ্রহ’-এর প্রতিবাদে আগামিকাল ১২ ঘণ্টার উত্তরবঙ্গ বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার অভিযোগ করেন, পুলিশ ‘বর্বরোচিত আচরণ’ চালিয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০ জন। সকাল থেকেই কৃত্রিম উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। রাস্তার চারপাশের বাড়ির ছাদে তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ছিল বলেও অভিযোগ তোলেন।

কিন্তু আগামিকাল তো কৃষক সংগঠনগুলির ডাকে ভারত বনধ ডাকা হয়েছে। তাতে কি মানুষ বিভ্রান্ত হবেন? জয়প্রকাশের দাবি, কৃষক বনধের ‘কাউন্টার’ বনধ ডাকা হয়নি। মানুষ বুঝতে পারবেন, কী কারণে বনধ ডাকা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘উত্তরবঙ্গের মানুষ তৃণমূলকে ছুটি দিয়েছেন। বাই বাই করে দিয়েছেন।’

যদিও গুলি চালানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। টুইটারে জানানো হয়েছে, ‘সংযম’ দেখিয়ে পুলিশ গুলি চালায়নি বা লাঠিচার্জ করেনি। বরং হিংসা চালিয়েছে ‘একটি রাজনৈতিক দল’। তবে একজনের মৃত্যুর খবর স্বীকার করে নিয়েছে পুলিশ। টুইটারে বলা হয়েছে, 'তবে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর' মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।'

বন্ধ করুন