বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ১৫ বছর পাহাড়কে ঠকিয়েছে বিজেপি:‌ পাহাড়ে ফিরে মমতার ওপরই আস্থা রাখলেন‌ রোশন গিরি
রোশন গিরি ও কার্শিয়াংয়ে রবিবারের জনসমাগম। ছবি সৌজন্য :‌ টুইটার
রোশন গিরি ও কার্শিয়াংয়ে রবিবারের জনসমাগম। ছবি সৌজন্য :‌ টুইটার

১৫ বছর পাহাড়কে ঠকিয়েছে বিজেপি:‌ পাহাড়ে ফিরে মমতার ওপরই আস্থা রাখলেন‌ রোশন গিরি

  • বিনয়–অনীতদের জমানায় জিটিএ–তে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে। এদিন এমন অভিযোগ তুলে রোশন গিরি বলেন, ‘‌গুরুংদের জিজেএম–এর মূল দাবি এখন বিক্রি করে দিয়েছে বিনয় তামাং, অনীত থাপারা। পাহাড়ে বছরের পর বছর ধরে তাঁরা দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।’‌

বিজেপি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু পরে ধোঁকা দিয়েছে। অন্যদিকে মমতা বন্দোপাধ্যায় যা বলেন, তা–ই করে দেখান। সাড়ে ৩ বছর পর পাহাড়ে ফিরে একথা বলেই মমতার ওপর আস্থা রাখলেন বিমল গুরুংপন্থী গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (জিজেএম) নেতা রোশন গিরি। কিন্তু তিনি এদিন কার্শিয়াঙের মোটর স্ট্যান্ডের সভা থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, মোর্চার অন্য অংশ বিনয় তামাং এবং অনীত থাপার সঙ্গে এক মঞ্চে তাঁদের কখনওই দেখা হবে না।

ভোটের আগে মোর্চা ও তাদের গোর্খাল্যান্ডের স্বার্থে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে শীতের পাহাড়ে বাড়ছে উত্তাপ। রবিবার সেই তাপমাত্রাই কিছুটা বাড়িয়ে দিলেন রোশন গিরি। এদিন তিনি গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে বলেন, ‘‌১৫ বছর ধরে পাহাড়ের মানুষকে ঠকিয়েছে বিজেপি। কথা দিয়ে কথা রাখেনি। আমরা আর ওদের সঙ্গে নেই।’‌ রোশন গিরি এদিন জানান, ‘‌২০২৪–এর নির্বাচনে আমাদের গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে যে দল সমর্থন করবে তাদেরই সমর্থন করব আমরা।’‌

২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ওপর তাঁদের পূর্ণ সমর্থনের কথা এদিন জানিয়ে দেন রোশন গিরি। তাঁর কথায়, ‘‌কংগ্রেসের আমলে জিটিএ তৈরি হয়েছে। আগে ছিল দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ (ডিজিএইচসি)। ইউপিএ জমানাতেই সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেয়েছে নেপালি ভাষা। বিজেপি নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুধুই ধোঁকা দিয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দোপাধ্যায় যা বলেন, তা–ই করে দেখান।’

বিনয়–অনীতদের জমানায় জিটিএ–তে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে। এদিন এমন অভিযোগ তুলে রোশন গিরি বলেন, ‘‌গুরুংদের জিজেএম–এর মূল দাবি এখন বিক্রি করে দিয়েছে বিনয় তামাং, অনীত থাপারা। পাহাড়ে বছরের পর বছর ধরে তাঁরা দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।’‌ রোশন গিরির অভিযোগ, ‘‌পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য জিটিএ–কে যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে তার ৭০ শতাংশ টাকা ঢুকেছে পকেটে। আর বাকি ৩০ শতাংশ টাকার কাজ হয়েছে।’‌ এই দুর্নীতি ধরতে এদিন অডিটের দাবি জানিয়েছেন রোশন গিরি। তিনি এদিন পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘‌বিনয়, অনীতের সঙ্গে এক মঞ্চে কখনওই দেখা হবে না। ওদের মতো আমরা গোর্খাল্যান্ডের দাবি বিক্রি করব না। জলাঞ্জলিও দেব না।’‌

উল্লেখ্য, কার্শিয়াংয়ে এদিনের সভায় ব্যাপক জমায়েত হয়েছিল। এদিন কার্যত অনীত থাপার খাসতালুক গুরুংপন্থী মোর্চা সমর্থকদের দখলে চলে যায়। পাহাড়ে ফিরেই রোশন গিরি জানিয়েছিলেন যে ৬ ডিসেম্বর শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে বিমল গুরুং সভা করতে পারেন। এদিন তিনি দাবি করেন, ‘‌রবিবারের সভায় সমর্থকদের ভিড় ছিল ট্রেলার। আসল ছবি দেখা যাবে বিমলের সভায়।’‌

বন্ধ করুন