বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘‌দিলীপ ঘোষের ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যে সংঘর্ষ বাড়ছে’‌, জেলা সভাপতির মন্তব্যে ঝড়
দিলীপ ঘোষ। ফাইল ছবি
দিলীপ ঘোষ। ফাইল ছবি

‘‌দিলীপ ঘোষের ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যে সংঘর্ষ বাড়ছে’‌, জেলা সভাপতির মন্তব্যে ঝড়

  • এই সংঘর্ষের পিছনে দিলীপ ঘোষের ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য রয়েছে বলে মনে করছেন জেলা বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ।

একুশের নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপির ভরাডুবি জন্য জেলার নেতারা রাজ্য সভাপতিকে কাঠগড়ায় তুলছেন। আজ একটি অডিও ক্লিপও ফাঁস হয়েছে দিলীপ ঘোষকে ঘিরে। ফলে দলের অন্দরে চোরাস্রোত তৈরি হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে সংগঠন মজবুত করতে জেলায় জেলায় বৈঠক করছেন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। হারের কারণ জানতে নজর দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। শনিবার আরামবাগের দলীয় বৈঠক সেরে বেরোবার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন দিলীপ। তখন মেজাজ হারিয়ে কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‌আপনারা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিন।’‌ এই ঘটনার ঠিক পরেরদিন রবিবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেস–বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তারকেশ্বরের দত্তপুকুর এলাকা। এই সংঘর্ষের পিছনে দিলীপ ঘোষের ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য রয়েছে বলে মনে করছেন জেলা বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার বিজেপি কর্মী বিশ্বজিৎ কর্মকারের বাড়ির পাঁচিল নিয়ে প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষক কাঞ্চন চক্রবর্তীর সঙ্গে বচসা শুরু হয়। বচসা থেকে উভয়পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। বিজেপির অভিযোগ, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা বিশ্বজিৎবাবু ও তাঁর মা–বাবাকে মারধর করে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি পলাশ লোহার অভিযোগ করেন, দুই প্রতিবেশীর মধ্যে অশান্তি থামাতে গেলে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মারধর করে বিজেপি কর্মীরা।

এই পরিস্থিতির মধ্যে আরামবাগের সাংগঠনিক বিজেপি জেলা সভাপতি গণেশ চক্রবর্তীর দাবি, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যের জেরেই তৃণমূল কংগ্রেস–বিজেপি সংঘর্ষ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘‌সবেমাত্র একমাস হল নতুন সরকার এসেছে। সব শান্ত হয়ে গিয়েছিল। আমাদের কর্মীরা বাড়ি ফিরতেও শুরু করেছিল। কিন্তু ফের অশান্তি শুরু হল।’‌ বিজেপি নেতা গণেশবাবু আরও বলেন, ‘‌আমাদের রাজ্য সভাপতির কাছে কর্মীরা অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি বলেন, ‘বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস করুন’। একজন সাধারণ কর্মীকে বলছেন, ‘তেল বেড়েছে তোমার, তেল কেড়ে নেব।’ এটা কি রাজ্য সভাপতির মুখের কথা হওয়া উচিত! দিলীপবাবুর এই সব মন্তব্যের জন্যই সন্ত্রাস বাড়ছে।’‌

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন চূঁচূড়ায় বৈঠক করতে এসে কর্মীদের উপর ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন রাজ্য সভাপতি। সেদিন দিলীপবাবু বলেছিলেন, বিজেপি করলে মার খেতে হবে। আমিও খেয়েছি। মার না খেতে পারলে দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিন। কর্মীদের উদ্দেশে এমন বাক্যবাণ মেনে নিতে পারেনি জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।

বন্ধ করুন