বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > মমতার কাট-আউটের সামনে নীচের দিকে নেতাজির ছবি, ব্যানার বিতর্কে পালটা বিজেপি
মমতার কাট-আউটের সামনে নীচের দিকে নেতাজির ছবি, ব্যানার বিতর্কে পালটা বিজেপি। (ছবি সৌজন্য টুইটার)
মমতার কাট-আউটের সামনে নীচের দিকে নেতাজির ছবি, ব্যানার বিতর্কে পালটা বিজেপি। (ছবি সৌজন্য টুইটার)

মমতার কাট-আউটের সামনে নীচের দিকে নেতাজির ছবি, ব্যানার বিতর্কে পালটা বিজেপি

  • এবার শাহের সফরের মধ্যে সংস্কৃতি রাজনীতি চরমে উঠল।

কে বাংলার সংস্কৃতির বেসি সম্মান করে? কে বাংলার মনীষীদের মর্যাদা দেয়? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরের মধ্যে সেই তরজায় জড়াল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অবমাননা'-র জন্য বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পালটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট-আউটের সামনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি টুইট করে বিজেপি হুঁশিয়ারি দিল, 'বাঙালি মনীষীদের সম্মান করা নিয়ে আমাদের শেখাতে হবে না।'

রবিবার শাহের বোলপুর সফরের আগে বিজেপির ব্যানার ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। গেরুয়া ব্যানারের একবারে উপরে ছিল শাহের ছবি, মাঝের রেখায় আঁকা ছিল রবীন্দ্রনাথের ছবি। নীচে ছিল অনুপম হাজরার ছবি। তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। শান্তিনিকতনে‌ আশ্রমিকদের একাংশও সরব হন। তৃণমূলের অভিযোগ, রবীন্দ্রনাথের অপমান করেছে বিজেপি। টুইট করে ব্রাত্য বসু। সেই ব্যানারের প্রতি ‘ধিক্কার’ জানান তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

সেই সমালোচনার মুখে পালটা ছবি টুইট করে বিজেপি। সেই ছবিতে দেখা যায়, একটি গাছে মমতার কাট-আউট লাগানো আছে। সেই কাট-আউটের সামনে একটি বেদিতে নেতাজির ছবি রাখা হয়েছে। কাট-আউটের নীচের দিকে ছোটো ছবি আছে। ছবিতে মালাও দেওয়া হয়েছে। পাশে তৃণমূলের পতাকা। সেই ছবির সঙ্গে লেখা হয়, 'বাঙালি মনীষীদের সম্মান করা নিয়ে আমাদের শেখাতে হবে না। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হন, বাঙালির সংস্কৃতির প্রতি তৃণমূলের কর্মীদের শ্রদ্ধা নেই। নেতাজি বা কবিগুরুর মতো জাতীয় নায়কদের অসম্মান করে পিসিকে তোষামোদ করতে তাঁরা শুধু একে অপরের সঙ্গে লড়াই করতে জানেন।'

এমনিতেও আগামী বছর বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার সংস্কৃতির প্রতি ‘প্রেম’ তুলে ধরতে মরিয়া বিজেপি। তাতে প্রথমসারিতে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কখনও কবি মনমোহন বসুর কথা উল্লেখ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, কখনও বিশ্বকবির উক্তি শুনিয়েছেন। সেই কবিতা আবৃত্তির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্য যথেষ্ট ট্রোলের মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু তাতে দমেননি মোদী। বরং স্বামী বিবেকানন্দের শরণে গিয়েছেন। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রসঙ্গে মোদীর মুখে ঋষি অরবিন্দের নাম শোনা গিয়েছে। ‘লোকাল ফর ভোকাল’ তথা স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের জন্য কবি মনমোহন বসুর কবিতাও হিন্দিতে শুনিয়েছিলেন। সেই পথে হেঁটেছেন শাহও। তারইমধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভুল’ জন্মস্থান নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। এবার শাহের সফরের মধ্যে সংস্কৃতি রাজনীতি চরমে উঠল।

বন্ধ করুন