বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার মা–ছেলের দগ্ধ দেহ, পাশের ঘরে ঘুমন্ত বাবা টের পেলেন না কিছুই!
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার মা–ছেলের দগ্ধ দেহ, পাশের ঘরে ঘুমন্ত বাবা টের পেলেন না কিছুই!

  • প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ছেলেকে নিয়ে মায়ের মানসিক অবসাদ থেকে ঘরের দরজা, জানালা ভিতর থেকে বন্ধ করে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁরা।

২৭ বছরের ছেলে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। এ নিয়ে মানসিক অশান্তিতে ছিলেন মা। সেই মা ও ছেলের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হল ফ্ল্যাটের ঘর থেকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে হাওড়ার ব্যাঁটরা থানা এলাকার নরসিংহ দত্ত রোডে। মৃত দু’জনের নাম মমতা কুণ্ডু (৫৮) ও আবির কুণ্ডু (২৭)। আবিরের বাবা তপন কুণ্ডু অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ছেলেকে নিয়ে মায়ের মানসিক অবসাদ থেকে ঘরের দরজা, জানালা ভিতর থেকে বন্ধ করে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, ১১০/১, নরসিংহ দত্ত রোডের আবাসন সত্যম কমপ্লেক্সের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে বেশ কয়েক বছর ধরেই বাস করছেন তপনবাবুরা। একমাত্র সন্তানের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তাঁরা মনকষ্টে ভুগতেন। অন্যান্য দিনের মতো এদিনও দুপুরে একসঙ্গে খাওয়া–দাওয়া সেরে পাশের ঘরে ঘুমোতে চলে যান তপনবাবু। আর মা–ছেলে ছিলেন তাঁদের ঘরে।

সন্ধেবেলা বেশ কিছুক্ষণ সময় কেটে যাওয়ার পরও দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় তপনবাবুর। তিনি প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে আসেন। এর পর ঘরের দরজা ভেঙে খুলতেই দেখা যায়, মা ও ছেলের আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে। ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ব্যাঁটরা থানার পুলিশ। দেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে তাদের অনুমান, গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়েছেন মা ও ছেলে। কিন্তু ঘটনার সময় পাশের ঘরেই ঘুমোচ্ছিলেন তপনবাবু। অগ্নিদগ্ধ হওয়ায় যন্ত্রণা, গোঙানির আওয়াজ হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু পাশের ঘরে ঘুমিয়ে কোনও কিছুই কি টের পেলেন না গৃহকর্তা?‌ এ ব্যাপারটি ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। তারা গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখছে। পাশাপাশি ঘটনায় স্তব্ধ, হতবাক পাড়াপড়শিরা।

বন্ধ করুন