বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > সিএএ চালু হবেই, রাজ্যের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই:‌ ঠাকুরবাড়িতে কৈলাস বিজয়বর্গীয়
শান্তনু ঠাকুর ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বনগাঁর ঠাকুরবাড়িতে। ছবি সৌজন্য : টুইটার
শান্তনু ঠাকুর ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বনগাঁর ঠাকুরবাড়িতে। ছবি সৌজন্য : টুইটার

সিএএ চালু হবেই, রাজ্যের সহযোগিতার প্রয়োজন নেই:‌ ঠাকুরবাড়িতে কৈলাস বিজয়বর্গীয়

  • মমতাবালা ঠাকুর এদিন স্পষ্ট জানান, ‘‌আবদেন করে নাগরিকত্ব নেবে না মতুয়ারা। আমরা ভারতীয় নাগরিক। আগেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।’‌

‌রাজ্যে চালু হবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। সিএএ লাগু করতে রাজ্যের কোনও সাহায্যের প্রয়োজন নেই। শনিবার ঠাকুরনগরে মতুয়াদের ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপি–র সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। একইসঙ্গে রাজ্যে এনআরসি চালু হবে না বলেও এদিন দাবি করেছেন তিনি।

১৯ ডিসেম্বর বনগাঁয় আসার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহয়ের। তার আগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার বনগাঁয় যান বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। আর তার এই সফরের মধ্যেই তিনি গিয়েছিলেন ঠাকুরনগরে মতুয়াদের ঠাকুরবাড়িতে। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠক শুরুর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরেই ফের সিএএ–খোঁচা দিলেন কৈলাস।

পশ্চিমবঙ্গে সিএএ চালু হবেই বলে মন্তব্য করে এদিন কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘‌সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন চালু করতে গেলে যে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। রাজ্য সহযোগিতা করুক বা না করুক, এখানে সিএএ লাগু হবেই।’‌ তবে এনআরসি প্রসঙ্গে তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, এ রাজ্যে এনআরসি চালুর ব্যাপারে কোনওদিনই কিছু বলা হয়নি। এদিনের বৈঠকে শান্তনু ঠাকুরের পাশাপাশি ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সুব্রত ঠাকুর, মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুররা। যদিও ‘‌শিষ্টাচার রক্ষার জন্যই এই বৈঠক’‌ বলে এদিন জানিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

বেশ কয়েকদিন ধরে বিজেপি–র কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি অভিযোগ করছিলেন, ভোটে জেতার আগে তিনি মতুয়াদের কাছে কথা দিয়েছিলেন যে নাগরিকত্ব আইন লাগু হবে। কিন্তু এখনও তা চালু না হওয়ায় প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। এর পরই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, অতি দ্রুত পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব আইন চালু না হলে বিজেপি–কে নিয়ে ভাববেন মতুয়ারা।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তনু ঠাকুরের ক্ষোভ প্রশমনের উদ্দেশেই এদিন তাঁর সঙ্গে বৈঠক করলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বিজেপি–র কোনও দূরত্ব তৈরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এদিন তিনি বলেন, ‘শান্তনু ঠাকুর আমাদের একজন কর্মকর্তা। তাঁর সঙ্গে কোনও দূরত্ব নেই। বিরোধীরা এসব গুজব ছড়াচ্ছে।’‌ তাঁর আরও দাবি, ‘‌মতুয়া সমাজকে বিজেপি যা দিয়েছে, তার পর তাঁরা বিজেপি–কে ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন না।’‌

সিএএ চালু নিয়ে এদিন কৈলাস বিজয়বর্গীয় মন্তব্যে পাল্টা আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘‌ভোটের সময় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তরফ থেকে নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সিএএ–তে নাগরিকত্ব প্রদান নিঃশর্ত নয়।’‌ মমতাবালা ঠাকুর এদিন স্পষ্ট জানান, ‘‌আবদেন করে নাগরিকত্ব নেবে না মতুয়ারা। আমরা ভারতীয় নাগরিক। আগেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।’‌

বন্ধ করুন