বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > গরুপাচার মামলা: ২০১৯ সালে বেজেছিল ‘‌ঢাক’‌, অনুব্রত গ্রেফতারে এবার ‘‌চড়াম’‌ শব্দ

গরুপাচার মামলা: ২০১৯ সালে বেজেছিল ‘‌ঢাক’‌, অনুব্রত গ্রেফতারে এবার ‘‌চড়াম’‌ শব্দ

অনুব্রত মণ্ডল।

এই তদন্ত চলাকালীন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিবিআইয়ের পেশ করা চার্জশিটে চক্রের মূলপান্ডা এনামূল হক, বিএসএফ আধিকারিক সতীশ কুমার, গুলাম মুস্তাফা, আনারুল শেখ–সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর একদা তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা তথা ব্যবসায়ী ‘বেপাত্তা’ বিনয় মিশ্রের ভাইকে জেরা করে সিবিআই।

গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হতেই তাঁর নাম কোন সূত্রে পাওয়া গেল এই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই এই গরুপাচার মামলা নিয়ে তৎপরতা শুরু করে ইডি–সিবিআই। এই মামলার তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত এনামুল হককে নয়াদিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেখান থেকেই জট খুলতে শুরু করে।

এই এনামুল হককে জেরা করে সায়গল হোসেনের নাম পায় সিবিআই। সায়গল হোসেন ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী। তাঁকে এর আগেও বেশ কয়েকবার জেরা করেছে সিবিআই। সেখান থেকে বহু তথ্য পায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সায়গল হোসেন অবশেষে গ্রেফতার হন। ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর আসানসোলের সিবিআই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এনামুল হক। পরে গ্রেফতার হয় সিবিআইয়ের হাতে। প্রায় দু’বছর জেলবন্দি ছিল সে। মাঝে ২০২১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করে এনামুল। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। গত জানুয়ারি মাসে তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

২০১৮ সালের গরু পাচার কাণ্ডে বিএসএফ কমান্ডান্ট জেবি ম্যাথুকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তখন ম্যাথু মালদায় কর্মরত ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এই জেবি ম্যাথু সিবিআইকে এনামুল হকের নাম বলেছিলেন। তারপর থেকে এই মামলায় তদন্ত গতি পেতে শুরু করে। গরু পাচার মামলায় হাজিরা দেন অভিনেতা–সাংসদ দেব। এনামুল হক দেবকে কোনও উপহার দিয়েছিল বলে জানতে পারে সিবিআই। তার জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এই তদন্ত চলাকালীন অভিযোগ ওঠে, সীমান্তে পাহাড়ায় রয়েছে বিএসএফ। যাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। আর এই নিয়ে রমাপ্রসাদ সরকার নামের এক আইনজীবী গরু পাচার চক্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। মামলার পক্ষ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে। স্বাভাবিকভাবেই এবার গরু পাচার মামলায় নাম জড়িয়ে যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তারপর তদন্ত আরও গতি পায়।

এরপর এনামুলের কাছ থেকে আবদুল বারিক বিশ্বাসের নাম জানতে পারে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁকে নিআম প্যালেসে জেরা করা হয়। এই পরিস্থিতিতে গরু পাচার মামলার তদন্ত চলাকালীন কলকাতায় সিবিআইয়ের ইস্ট জোনের যুগ্ম অধিকর্তাকে বদল করা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ইস্ট জোনের যুগ্ম অধিকর্তা (জয়েন্ট ডিরেক্টর) হন এন বেণুগোপাল। আগে এই পদে আসীন ছিলেন পঙ্কজ শ্রীবাস্তব।

এবার সিবিআই অফিসারেরা তদন্তে নামতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এনামুলের সঙ্গে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমারের যোগ পায় সিবিআই। আর মধ্য কলকাতার রেস্তোরাঁ–কফিশপগুলিতে যাতায়াত লেগে থাকত এনামূল হক, আনারুল শেখ এবং মহম্মদ মোস্তাকদের। বিএসএফ কর্তা সতীশ কুমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক গরু পাচার চক্রের মাথা এনামূল হকের যোগাযোগ পরিষ্কার হয়ে যায়।

এই তদন্ত চলাকালীন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিবিআইয়ের পেশ করা চার্জশিটে চক্রের মূলপান্ডা এনামূল হক, বিএসএফ আধিকারিক সতীশ কুমার, গুলাম মুস্তাফা, আনারুল শেখ–সহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর একদা তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা তথা ব্যবসায়ী ‘বেপাত্তা’ বিনয় মিশ্রের ভাইকে জেরা করে সিবিআই। গরু এবং কয়লা পাচার–কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে বিনয়ের। এখান থেকে সিবিআই নাম পায় অনুব্রত মণ্ডলের। সেই তথ্য নিশ্চিত হতে কলকাতায় এনামুল হকের দু’টি অফিসে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তথ্য নিশ্চিত হতেই থআ ধইয়ে দেওয়া হয় সিবিআইকে। আর আজ তাঁকে বোলপুরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বন্ধ করুন