বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি, বন্ধু বিনোদের শ্রাদ্ধের যাবতীয় খরচ বহন মহম্মদের
হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি, বন্ধু বিনোদের শ্রাদ্ধের যাবতীয় খরচ বহন মহম্মদের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি, বন্ধু বিনোদের শ্রাদ্ধের যাবতীয় খরচ বহন মহম্মদের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি, বন্ধু বিনোদের শ্রাদ্ধের যাবতীয় খরচ বহন মহম্মদের

বন্ধুর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যবস্থা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ২০০ জন লোককে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

ফের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির। গরিব হিন্দু বন্ধুর পরিবারকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলেন এক মুসলিম প্রৌঢ়। দৃষ্টান্তমূলক এই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল মালবাজারের ওদলাবাড়ি এলাকা।

জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে কিডনির অসুখে ভুগছিলেন ওদলাবাড়ির বাসিন্দা বিনোদ উড়িয়া। বিনোদের পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। কিছুদিন আগে বিনোদ জানতে পারে, তাঁর দুটি কিডনিই খারাপ হয়ে গিয়েছে। এরপর তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় গত ৫ জুলাই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। বিনোদ শ্রমিকের কাজ করতেন। পরিবারে একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন তিনি। বিনোদের মৃত্যু হওয়ায় অথৈ জলে পড়েন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কী করবেন কিছুই ভেবে উঠতে পারেন না। শেষ পর্যন্ত তাঁকে সাহায্যের জন্য পাশে এসে দাঁড়ালেন প্রতিবেশি বন্ধু মহম্মদ সাবলু। বন্ধুর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যবস্থা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ২০০ জন লোককে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন তিনি। খাওয়ানোর যাবতীয় খরচ নিজেই বহন করেছেন সাবলু।

শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতেও যাতে বিনোদের পরিবারের সদস্যদের কোনও অসুবিধা না হয়, সেই ব্যবস্থাও করে গিয়েছেন সাবলু। তাঁর কথায়, ‘‌বিপদের দিনে মানুষের পাশে থাকা তাঁর কর্তব্য। এই সময় তাঁদের পাশে না দাঁড়ালে ঠিকমতো শ্রদ্ধানুষ্ঠানও হত না।’‌ একইসঙ্গে তিনি জানান, বিনোদের বড় মেয়ে আছে। তাঁদের পরিবারকে বলেছি, ভাল ছেলের সন্ধান পেলে আমাকে জানাবেন। মেয়ের বিয়ের দায়িত্বও আমি নেব। বিপদের দিনে এভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসায় কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে ভোলেননি বিনোদের স্ত্রী সুশীলা। তাঁর কথায়, ‘‌যেভাবে সাবলুদা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তা কোনওদিনও ভুলব না। সারাদিন আমাদের বাড়িতে থেকে সমস্ত কাজ দেখাশোনা করেছেন তিনি। আমার মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব পর্যন্ত নিয়েছেন। ওনাকে অনেক ধন্যবাদ।’‌

বন্ধ করুন