বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > রাতভর করোনায় মৃতের দেহ পড়ে থাকল বাড়ির উঠনে! আতঙ্ক ছড়াল মালদায়
রাতভর করোনায় মৃতের দেহ পড়ে থাকল বাড়ির উঠনে!আতঙ্ক মালদায়(‌ছবি স্ক্রিনগ্র‌্যাব)‌
রাতভর করোনায় মৃতের দেহ পড়ে থাকল বাড়ির উঠনে!আতঙ্ক মালদায়(‌ছবি স্ক্রিনগ্র‌্যাব)‌

রাতভর করোনায় মৃতের দেহ পড়ে থাকল বাড়ির উঠনে! আতঙ্ক ছড়াল মালদায়

  • ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে বাড়ির উঠোনে পড়ে থাকল করোনায় আক্রান্ত রোগীর দেহ!‌ এমনকী, আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন পরিবারের লোকেরা। বিষয়টি জানতে পেরেও প্রয়োজনীয় কোনও পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কানে গেলে, রোগীর দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে ‌গোটা রাত কেটে পর দিন দুপুর গড়িয়ে যায়।

আর হাসপাতালে নয়, এবার বাড়িতেই করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের গড়িমসির অভিযোগ তুলছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, কোথাও করোনা আক্রান্তের দেহ ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে। আবার কোথাও রাতভর বাড়িতেই দেহ পড়ে থাকছে। তবে প্রশাসনের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই বলেই অভিযোগ করছেন এলাকার বাসিন্দারা।

এবার মালদায় এমন আরেকটি ঘটনা প্রকাশ্যে এল। ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে বাড়ির উঠোনে পড়ে থাকল করোনায় আক্রান্ত রোগীর দেহ!‌ এমনকী, আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন পরিবারের লোকেরা। বিষয়টি জানতে পেরেও প্রয়োজনীয় কোনও পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কানে গেলে, রোগীর দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে ‌গোটা রাত কেটে পর দিন দুপুর গড়িয়ে যায়।

শুক্রবার দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদা থানার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কালিতলা বাজারে। ঘটনাটি জানতে পেরে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ান সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উকিল মণ্ডল। এ বিষয়ে তিনি ব্লক প্রশাসন, স্বাস্থ্য দফতর ও পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুপুর দুটো নাগাদ মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়। এরপরই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন এলাকার বাসিন্দারা।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই ব্যক্তি পেশায় আইসক্রিম বিক্রেতা রাজকুমার দাস(‌৫০)‌।তিনি কালিতলা বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ওই ব্যক্তির একাধিক কোমর্বিডিটি রোগ ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি তাঁর হালকা জ্বরের উপসর্গও দেখা দেয়। এরপরই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তাঁর। চিকিৎসকদের পরামর্শে ১১ দিন আগেই মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করেন তিনি। সেই রিপোর্টে তাঁর পজিটিভ ধরা পড়ে।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, একাধিক কোমর্বিডিটি রোগ থাকার সত্ত্বেও মেডিক্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দেয়। সেই মতো বাড়িতেই ছিলেন তিনি। তবে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তৎক্ষণাৎ তাঁকে স্থানীয় মৌলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠে, হাসপাতালে তাঁকে ভরতি নেওয়া হয়নি। সেখান থেকে এসে বাড়িতে ঢোকার সময়ে উঠনেই রাজকুমারবাবুর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর গোটা রাত দেহ ওই উঠনেই পড়ে থাকে বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। শুক্রবার দুপুরে ওই দেহ উদ্ধার করে প্রশাসন।

 

বন্ধ করুন