বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > সুস্থ হয়ে সদ্যোজাতকে নিয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন হাওড়ার করোনা আক্রান্ত বধূ
হাওড়ায় সমীক্ষা করছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। পিটিআই-এর ছবি। (PTI)
হাওড়ায় সমীক্ষা করছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। পিটিআই-এর ছবি। (PTI)

সুস্থ হয়ে সদ্যোজাতকে নিয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন হাওড়ার করোনা আক্রান্ত বধূ

  • শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় মায়ের মুখ ঢাকা হয়েছিল মাস্কে, তাঁর চোখে সানগ্লাস, হাতে গ্লাভস ও সারা দেহ স্যানিটাইজ করা হত।

সুস্থ হযে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন হাওড়ার করোনা আক্রান্ত প্রসূতি। গত ১৩ এপ্রিল গর্ভধারণের ৩৮ তম সপ্তাহে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। 

জানা গিয়েছে, বছর চব্বিশের ওই বধূর দেহে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়ার দিনই করোনায় মৃত্যু হয় তাঁর শ্বশুরের। সংক্রমণ নিয়ে এখনও হাসপাতালে বরতি তাঁর দেওর। এই অবস্থাতেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন যুবতী। চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুর নামকরণ করেছেন আরমান, যার অর্থ আশা।

হাসপাতাল থছেকে ঠছুটি পাওয়ার দিন মা ও শিশুকে দাঁড়িয়ে থেকে অভিনন্দন জানান হাসপাতালের সমস্ত কর্মী। সমবেত কণ্ঠে তাঁরা গেয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথের ‘আমি ভয় করব না, ভয় করব না’ সংগীত। 

হাসপাতালে মা ও সদ্যোজাতকে একই ঘরে রাখা হলেও শিশুকে সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে ৬ ফিটের ব্যবধান বজায় রাখা হয়েছিল। শিশুকে স্তন্যপান করানোর সময় মায়ের মুখ ঢাকা হয়েছিল মাস্কে, তাঁর চোখে সানগ্লাস, হাতে গ্লাভস ও সারা দেহ স্যানিটাইজ করা হত বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বধূর শরীর ঢাকা রাখা থাকত পিপিই-তে। 

ছাড়া পেয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বধূ বলেন, শিশু ও তার মা-কে সুস্থ রাখতে নিরন্তর যত্ন নিয়েছেন সকলে। ছেলের শরীরে সংক্রমণের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হলেও তাঁকে সর্বদা আশ্বাস দিয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। আর শিশুর চিন্তাই তাঁকে দ্রুত সেরে ওঠার শক্তি দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন যুবতী। 

গত ২৭ ও ৩০ এপ্রিল নেগেটিভ প্রমাণ হওয়ার পরে বধূকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, বাড়ি ফিরে সুস্থই রয়েছেন তিনি এবং তাঁর শিশু সন্তান।  

বন্ধ করুন