লকডাউনের আগে পরীক্ষা (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
লকডাউনের আগে পরীক্ষা (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

COVID-19 Updates: বিনা পরীক্ষায় পরের সেমেস্টার-দ্বাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ, রয়েছে ধোঁয়াশাও

  • শিক্ষামহলের মতে, আগে কখনও এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি। ফলে অসুবিধা হওয়াটা স্বাভাবিক।

করোনাভাইরাসের জেরে থমকে গিয়েছে দেশের সব রাজ্যের শিক্ষা ব্য়বস্থা। এই অবস্থায় রাজ্য সরকার জানাল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের পরীক্ষা ছাড়াই সেমেস্টারে পাশ করিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকের যে তিনদিনের পরীক্ষা বাকি আছে, তা জুনে হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : করোনার পরিপ্রেক্ষিতে Class 10-12 পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিল CBSE

বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পরবর্তী সেমেস্টারে তুলে দেওয়া হবে। ফলে তাঁদের বছর নষ্ট হবে না। যে পড়ুয়ারা ফাইনাল সেমেস্টার দেবেন, শুধুমাত্র তাঁদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : করোনা হটস্পট দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, তালিকার শীর্ষে তামিলনাড়ু

রাজ্যের সিদ্ধান্তে পড়ুয়া ও অভিভাবকরা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও একাধিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যেমন যে বিষয়গুলিতে প্র্যাকটিক্যাল নেই, সেই বিষয়ের পড়ুয়াদের অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে না হয় সিলেবাস শেষ করা হবে। কিন্তু রয়াসন, জীববিদ্যা, ভূগোলের মতো প্র্যাকটিক্যাল নির্ভর বিষয়গুলির ক্ষেত্রে শুধু অনলাইন ক্লাসে হবে না। ফলে সেই প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের খামতি কীভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন : COVID-19 Updates: হয়তো হাজার বছরে একবার, বাদুড় থেকে মানবদেহে করোনা সংক্রমণ নিয়ে বলল ICMR

তবে একটি অংশের মতে, পরীক্ষা মরশুমের কয়েকদিন আগে ক্লাস বন্ধ হয়েছে। ফলে সেই সেমেস্টারের পড়া অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। হয়েছে প্র্যাকটিক্যাল। করোনা পরিস্থিতিতে যেটুকু সুযোগ মেলেনি, সেটার অভাব নয়া সেমেস্টারে পুষিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু নয়া সেমেস্টারে আবার নতুন প্র্যাকটিক্যাল থাকবে। পুরনো কাজ শেষ করে নতুন প্র্যাকটিক্যাল করা কি আদৌও সম্ভব হবে? বিশেষত সেমেস্টারের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হল সময়।

আরও পড়ুন : আক্রান্ত আরও ১৮, কেন্দ্রের খাতায় রাজ্যে করোনা পজিটিভ ২৩১

এদিকে, ১০ জুন পর্যন্ত রাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে রাজ্য। কিন্তু ততদিনে আদৌও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কিনা, তাতে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। কবে ফের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ফলে পরবর্তী সেমেস্টারেও হাতে কতদিন সময় পাওয়া যাবে, তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে।

আরও পড়ুন : রাজ্যে ১৫% কর্মী দিয়ে জুটমিল চালুর নির্দেশ মমতার, আশঙ্কার প্রহর গুনছে শিল্পমহল

একই ধন্দ রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও। বাকি তিনটি পরীক্ষা জুনে শেষের পর এত পড়ুয়ার খাতা দেখার ন্যূনতম সময় প্রয়োজন। স্বাভাবিকভাবেই খুব তাড়াতাড়ি হলেও ফল বেরোতে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ হবে। তারপর কলেজে ভরতির প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে - তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

আরও পড়ুন : করোনা রোগীকে চিকিত্সার জন্য ছাড়তে নারাজ বাসিন্দারা, আক্রমণে মাথা ফাটল ডাক্তারের

শিক্ষামহলের মতে, আগে কখনও এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি। ফলে অসুবিধা হওয়াটা স্বাভাবিক। বিশ্বের সর্বত্রই সামঞ্জস্য বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজ্যেও তার ব্যতিক্রম নয়। পাশাপাশি, পরিস্থিতি পুরোপুরি কবে স্বাভাবিক হবে, তাও বলা কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে দীর্ঘকালের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে এগোনোই শ্রেয়।

আরও পড়ুন : লকডাউনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে? শ্রমিক-রোগী-পর্যটকদের টাকা পাঠাবে রাজ্য


বন্ধ করুন