গ্রামবাসীদের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন সজনী দেবী (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
গ্রামবাসীদের হাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন সজনী দেবী (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

COVID-19 Updates: করোনা হিরো : নিজেদের সঞ্চয় ভাঙিয়ে গ্রামবাসীদের খাবার তুলে দিচ্ছেন বৃহন্নলারা

সজনীর আশা, তাঁদের দেখে আরও অনেকে এগিয়ে আসবেন।

দিনকয়েক আগে গ্রামে তাঁকে বাঁকা চোখে দেখা হত। উড়ে আসত আলপটকা মন্তব্য। লকডাউন পরিস্থিতিতে সেই তিনিই এখন মুর্শিদাবাদের ব্লকের মাঝপাড়া গ্রামের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন ত্রাতা।

আরও পড়ুন : কোয়ারেন্টাইন সেন্টার গড়তে বহু কষ্টে তৈরি হাসপাতালের দরজা খুলে দিলেন ক্যাবচালক

তিনি হলেন সজনী দেবী। একজন বৃহন্নলা। মূলত গ্রামবাসীদের থেকে টাকা নিয়েই চলত তাঁর সংসার। লকডাউনের জেরে সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরইমধ্যে কয়েকজন গ্রামবাসী তাঁর কাছে সাহায্য চান। সজনী বলেন, 'দিনকয়েক আগে মাঝপাড়া, সাহেবপাড়া ও পাহাড়িপাড়া গ্রামের কয়েকজন আমায় বলেন,আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে শুকনো খাবারের বন্দোবস্ত করতে পারি কিনা। আমাদের সংগঠনের নেটওয়ার্ক বড়। আমার সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে আলোচনা করি। তারপর খাবার কিনতে শুরু করি।'

আরও পড়ুন : Covid-19 এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ লাখ দান বৃদ্ধার

গত বুধবার মাঝপাড়ায় একটি ছোটো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের হাতে খাবার তুলে দেন সজনীরা। সামাজিক দূরত্ব বিধির কথা মাথায় রেখে এখন সজনীর বাড়ি থেকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, প্রত্যেককে তিন কেজি চাল, দেড় কেজি আলু, ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ, ৫০০ গ্রাম নুন, ২০০ গ্রাম মুড়ি ও একটি করে সোয়াবিনের প্যাকেট দিচ্ছেন সজনীরা। যা জেলার স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলির থেকেও বেশি।

আরও পড়ুন : COVID-19 Updates: বুকিং চালু থাকলেও ১৫ এপ্রিল থেকে ট্রেন চলা নিয়ে ধোঁয়াশা

অথচ লকডাউনের ধাক্কায় নিজেদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছ সজনীদেরে। তা সত্ত্বেও গ্রামবাসীদের সাহায্য করছেন সজনী। ভাঙিয়েছেন নিজের সঞ্চয়। তাঁর কথায়, 'বৃহনল্লাদের উপর লকডাউনের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আমরা সাহায্য চাইতে যেতে পারছি না। আমাদের কোনও উপার্জন নেই। আমি যা সঞ্চয় করেছিলাম, তা থেকে খরচ করছি। আপনি বলতে পারেন, যা মানুষের থেকে পেয়েছি, তাই ফিরিয়ে দিচ্ছি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৩০০ জনকে সাহায্য করেছি।'

আরও পড়ুন : COVID-19 Updates: করোনা নজরদারিতে রাজ্যে বিশেষজ্ঞের অভাব, বলে দিল কেন্দ্র

তবে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার জন্য কিছুটা ক্ষোভও ঝরে পড়ল সজনীর গলা থেকে। তিনি বলেন, 'সমাজের অধিকাংশ মানুষ আমাদের অন্য চোখে দেখেন। বিভিন্ন নামে ডাকেন। সমাজ সেইসব ব্যবসায়ীদের নিয়ে কিছু বলে না, যাঁরা এই সময়েও গরীবদের সাহায্য না করে মুনাফা করছেন। আমার আশা, আমাদের উদ্যোগ অনুপ্রাণিত হয়ে আরও অনেকে এগিয়ে আসবেন। '

আরও পড়ুন : Coronavirus Testing Labs in Bengal: রাজ্যে কোন কোন বেসরকারি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে, দেখে নিন তালিকা

আর বিপদের সময় সজনীরা এভাবে পাশে দাঁড়ানোয় নিজেদের ভুল শুধরে নিয়েছেন গ্রামবাসীরা। রহমত শেখ নামে এক গ্রামবাসী বলেন, 'করোনার আগে সজনী দেবী ও তাঁর মতো মানুষদের নিয়ে বাজে কথা বলতাম আমরা। সংকটের সময়ে প্রমাণিত হয়েছে, তাঁরা কতটা সহানুভূতিশীল এবং সংবেদনশীল হতে পারেন। এই শিক্ষাটা আমরা কখনও ভুলব না।'

আরও পড়ুন : করোনা রুখতে বাড়িতেই মাস্ক তৈরি করুন, শিখে নিন ধাপে ধাপে পদ্ধতি

লকডাউন অনেক কিছু নিয়ে গেলেও সজনীদের প্রাপ্র্য সম্মানটাও দিয়ে গেল।

আরও পড়ুন : COVID-19 Updates: চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ১০৩৫ আক্রান্তের হদিশ, মোট সংক্রামিত ৭৫০০ ছুঁইছুঁই

বন্ধ করুন