বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > Covid-19 Updates: উনত্রিশ দিনে ডিগবাজি রাজ্যের, কার্যত নিধিরাম সর্দার হল অডিট কমিটি
কোটা ফেরত পড়ুয়াদের পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা (ছবি সৌজন্য এএফপি)
কোটা ফেরত পড়ুয়াদের পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা (ছবি সৌজন্য এএফপি)

Covid-19 Updates: উনত্রিশ দিনে ডিগবাজি রাজ্যের, কার্যত নিধিরাম সর্দার হল অডিট কমিটি

  • ডেথ অডিট কমিটি ঘিরে ক্রমশ বাড়ছিল সমালোচনার মাত্রা। দায় ঝেড়ে চেষ্টা করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

ডেথ অডিট কমিটি ঘিরে ক্রমশ বাড়ছিল সমালোচনার মাত্রা। দায় ঝেড়ে চেষ্টা করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তখনই কার্যত দেওয়াল লিখনটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তার কয়েকদিন পরই সেই কমিটিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। 

আরও পড়ুন : Lockdown 2.0: চার নয়, রেড জোনে রাজ্যের ১০ জেলা, দেখে নিন পূর্ণাঙ্গ তালিকা

স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, এবার থেকে শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও গবেষণার কাজে যুক্ত থাকবে কমিটি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) নিয়ম মেনে রাজ্যে করোনায় মৃত্যুর ঘোষণা করা হবে। তারপরই রাজ্যের দিকে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, এত ঢাকঢোল পিটিয়ে গঠনের পর কিনা মাত্র ২৯ দিনেই কার্যত ঢাল, তরোয়ালহীন নিধিরাম সর্দারে পরিণত করা হল কমিটিকে।

আরও পড়ুন : Lockdown 3.0: দেশের কোনও প্রান্তেই তৃতীয় দফার লকডাউনে এই কাজগুলি করতে পারবেন না

সেই ২৯ দিনে ডেথ অডিট কমিটি নিয়ে কী কী ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য, তা দেখে নিন একনজরে -

১) করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ঠিক কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে গত ৩ এপ্রিল ডেথ অডিট গঠন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২) রাজ্য সরকারের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, করোনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ধামাচাপা দিতে ডেথ অডিট কমিটি গড়েছে রাজ্য।

৩) মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কলকাতায় আসা কেন্দ্রীয় দলও। কোন ভিত্তিতে ডেথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা চিঠি লিখে গত ২২ এপ্রিল জানতে চান সেই দলের প্রতিনিধিরা। 

৪) সেই চিঠির দু'দিন পর অর্থাৎ ২৪ এপ্রিল রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানান, করোনার জেরে রাজ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা আক্রান্ত থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৯ জনের। অন্যান্য অসুস্থতায় ওই ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

৫) এরপর ডেথ কমিটি নিয়ে রাজ্যের উপর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। এরইমধ্যে গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি ডেথ অডিট কমিটি অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেননি। এমনকী কে কে সেই কমিটির সদস্য, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। পুরো বিষয়টি দেখছেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা।

৬) তারপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, বিতর্কের মুখে পড়ে কি নিজের ঘাড় থেকে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী? তাহলে কি কমিটির কাজের এক্তিয়ার কমানো হবে?

৭) পরদিন কমিটির পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যে করোনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। তিনি জানান, ১০৫ টি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখেছে কমিটি। মুখ্যসচিব বলেন, 'করোনার জেরে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। কো-মর্বিডিটির (একাধিক রোগে ভুগছিলেন) কারণে বাকি ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইনসিডেন্টালি (ঘটনাচক্রে) তাঁরা করোনাভাইরাস পজিটিভ ছিলেন।'

৮) পাশাপাশি, কী কারণে অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যসচিব। তিনি জানান, করোনা (Covid-১৯) একটি নতুন রোগ। সেজন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কীভাবে রোগ ছড়াচ্ছে, কীভাবে মানবদেহে প্রভাব ফেলছে, কীভাবে চরিত্র পরিবর্তন করছে, তা বিস্তারিতভাবে জানার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সেই কমিটি ডেথ সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখছে না। তারা শুধু ডেথ কেস অডিট করছে।

৯) সেই ব্যাখ্যার কিছুক্ষণের মধ্যে রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, এবার থেকে আর করোনা সংক্রান্ত সব মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখবে না কমিটি। তিনি লেন, 'কমিটি কাজ করবে। তবে সব মৃত্যুর ঘটনা তাদের কাছে পাঠানো হবে না। তারা কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা বেছে নিয়ে হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য চাইবে এবং রাজ্যকে সুপারিশ দেবে।'

১০) এরপর শুক্রবার রাজ্যের সেই শীর্ষ কর্তার সুরেই মুখ্যসচিব জানান, সব মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখবে না কমিটি। কয়েকটি ঘটনা বেছে নেবে তারা।

১১) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য দফতরের এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেন, ‘(ডেথ) কমিটি শিক্ষাঙ্গন ও গবেষণামূলক কাজ চালিয়ে যাবে। মৃত্যু ঘোষণার জন্য আর কমিটির মতামতের প্রয়োজন হবে না। আইসিএমআরের প্রটোকল মেনে মৃত্যু ঘোষণা করা হবে।’ 

১২) এবার থেকে ডেথ সার্টিফিকেট অনুযায়ী করোনায় মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা জানাবে রাজ্য। ডেথ সার্টিফিকেটে তিনটি বিষয়ের উল্লেখ থাকবে। সেগুলি হল - মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ কী, যে অবস্থার কারণে কারোর মৃত্যু হয়েছে এবং যে রোগ বা আঘাতের কারণে মরবিড কন্ডিশন শুরু হয়েছিল। 

স্বাস্থ্য দফতরের ওই কর্তা জানান, ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে করোনাভাইরাস লেখা থাকলে তবেই তা মহামারীর জেরে মৃত্যু হয়েছে বলে বিবেচনা করা হতে পারে।

বন্ধ করুন