বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ত্রাণ বিলিয়েও ভোট টানতে পারবে না বামেরা, বলছে তৃণমূল-বিজেপি
আমফান তাণ্ডবের পরে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক অঞ্চলে ত্রাণ বণ্টনে তৎপর হয়েছে বাম দলগুলি।
আমফান তাণ্ডবের পরে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক অঞ্চলে ত্রাণ বণ্টনে তৎপর হয়েছে বাম দলগুলি।

ত্রাণ বিলিয়েও ভোট টানতে পারবে না বামেরা, বলছে তৃণমূল-বিজেপি

  • বামেদের দাবি, ত্রাণকাজের সঙ্গে ভোটবাক্সের কোনও সম্পর্ক নেই।

ত্রাণকাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেও তা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনী ফলে প্রতিফলিত হবে না বামেদের। এমনই মনে করছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপি। যদিও বামেদের দাবি, ত্রাণকাজের সঙ্গে ভোটবাক্সের কোনও সম্পর্ক নেই।

করোনা সংক্রমণের জেরে লকডাউনের সময় এবং তার পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক অঞ্চলে ত্রাণ বণ্টনে তৎপর হয়েছে বাম দলগুলি। ঘূর্ণিঝড় আমফানের পরেও বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌছে দিয়েছেন দলের নবীন কর্মী ও ছাট্র সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের এই উদ্যোগের পিছনে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটবাক্সের হাতছানি দেখতে পাচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপি। তবে তাদের দাবি, ত্রাণের জোরে নির্বাচন জেতার স্বপ্ন কখনই বাস্তবায়িত হবে না বামেদের।

এই তত্ত্ব অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘আমরা মানুষকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি এবং এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। দুর্গতদের সাহায্যে আমরা জনতার থেকে চাঁদা তুলেছি। ১৯৪৩ সালে বাংলার মন্বন্তরেও মার্কসবাদীরা এই কাজ করেছিলেন। অন্য দিকে, কেন্দ্রের দেওয়া ত্রাণ তহবিল নিয়ে রাস্তায় নামছে বিজেপি ও তৃণমূল এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।’

বিধানসভার ২৯৪টি আসনের ২৩টি বামেদের দখলে রয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে মাত্র তিনটি আসন জেতার পরে দল ভাঙানির সুবাদে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬ করেছে বিজেপি। অন্য দিকে, শাসক তৃণমূলের দখলে রয়েছে ২২৪টি আসন। 

তনময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বরাবরই দল ভাঙানোয় হাত পাকিয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার সে সব শুরু হবে। কেউ কেউ লোভের ফাঁদে পা দিলেও অধিকাংশই নীতির প্রতি আস্থা রাখবেন।’

বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ-সহ পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন অন্যান্য দলের বেশ কয়েক জন নেতা হেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও রাজ্যের ৪২টির মধ্যে ১৮টি আসন পেতে বিজেপিকে সাহায্য করেছেন তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতারাই। তবে দলের বেশিরভাগ ভোট এসেছে বাম সমর্থকদের সূত্রেই।

আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বামেদের ত্রাণ বণ্টন নিয়ে অবশ্য বিশেষ মাথাব্যথা নেই রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু জানিয়েছেন, ‘দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রায় ১২টি ব্লক আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বামেদের থেকে আমরা ওই সমস্ত এলাকায় অনেক বেশি কাজ করেছি। ওঁদের চেষ্টা নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলবে না। দেওয়াল লিখন তো পড়াই যাচ্ছে। আর গভীর ভাবে ভেবে দেখলে বুঝবেন, তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের গভীর আঁতাত রয়েছে।

অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য বণ্টন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবি, ‘মাটিতে নেমে মানুষের জন্য কাজ করছে তৃণমূল। বিরোধীদের কোথাও দেখাই যাচ্ছে না।’

কলকাতাবাসী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাখ্যা করেছেন, ‘সিপিএম-এর ভোট কমে সাত শতাংশে নেমেছে। এর চেয়ে খারাপ কিছু হতে পারে না। আদতে বাম ভোটার, যাঁরা ২০১৯ সালে বিজেপি-কে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ২০২১ সালে আবার পুরনো দলের প্রতি আস্থা দেখাতে পারেন।’

 

বন্ধ করুন