বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘‌কেন্দ্র পাহাড় নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করছে’‌, বিজেপি সাংসদের মন্তব্যে তোলপাড়
দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত। ছবি সৌজন্য–এএনআই।
দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত। ছবি সৌজন্য–এএনআই।

‘‌কেন্দ্র পাহাড় নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করছে’‌, বিজেপি সাংসদের মন্তব্যে তোলপাড়

  • ইতিমধ্যেই জিটিএ নির্বাচনের দাবি তুলেছে পাহাড়ের দলগুলি। সেখানে মোর্চা নেতৃত্ব জানিয়ে দেয় তারা প্রস্তুত রয়েছে।

উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য করার ধুয়ো কয়েকদিন আগেই তুলেছিলেন বিজেপির সাংসদ জন বারলা। তা নিয়ে তোলপাড় হয়ে উঠেছিল রাজ্য–রাজনীতি। এবার দার্জিলিংয়ের সাংসদের মন্তব্যে শৈলশহরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত বলেন, ‘‌জিটিএ গোর্খাদের জন্য ক্ষতিকর। পাহাড়ে জিটিএ নির্বাচন নিয়ে বিজেপির কোনও চিন্তাভাবনা নেই। এই নির্বাচনে বিজেপি অংশ নেবে না।’‌ এই মন্তব্যের পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

ইতিমধ্যেই জিটিএ নির্বাচনের দাবি তুলেছে পাহাড়ের দলগুলি। সেখানে মোর্চা নেতৃত্ব জানিয়ে দেয় তারা প্রস্তুত রয়েছে। এদিন কার্শিয়াং লাইব্রেরি হলে বৈঠক করেন সাংসদ রাজু বিস্ত। বৈঠক শেষে বলেন, ‘‌জিটিএ নিয়ে বিজেপি চিন্তাভাবনা করছে না। কারণ জিটিএ গোর্খা জাতিদের জন্য ক্ষতিকর। কেন্দ্র পাহাড় নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করছে। জিটিএ নির্বাচনের পরিস্থিতি আসার আগেই কেন্দ্রীয় সরকার পাহাড় নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু পাহাড়ে পুরসভা নির্বাচন কিংবা পঞ্চায়েত নির্বাচন হলে আমরা অবশ্যই লড়াই করব।’‌ তাহলে কী এটাকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে দেওয়া হবে?‌ নাকি জিটিএ নির্বাচনে বিজেপি হেরে যাবে বুঝতে পেরে এমন কথা বলছে?‌ উত্তর মেলেনি সাংসদের পক্ষ থেকে।

এই বিষয়ে বিমল পন্থী মোর্চা নেতা রোশন গিরি বলেন, ‘‌আমরা পাহাড়ে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চাই। কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পালন করেনি। তাই ওরা নির্বাচনে লড়াই করবে না। কারণ মানুষ এখন আর ওদের বিশ্বাস করে না।’‌

উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে তৎকালীন পাহাড়ি নেতা সুভাষ ঘিসিংকে পদচ্যুত করে পাহাড়ে পৃথক রাজ্যের আন্দোলনে নতুন মুখ হয়েছিলেন বিমল গুরুং। তখন থেকেই বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে পাহাড়ে আন্দোলনের বাড়তে থাকে। ২০১২ সালে যখন পৃথক রাজ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড় উত্তপ্ত, তখন পাহাড়কে শান্ত করতে তৎকালীন কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের সঙ্গে রাজ্যের সহমতের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমলে পাহাড়ের উন্নয়নে তৈরি হয় গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(জিটিএ)। নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ডের প্রথম চেয়ারম্যান হন বিমল গুরুং।

এই আন্দোলন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করার পর পাহাড় ছাড়েন বিমল গুরুং–সহ মোর্চা নেতাদের অনেকেই। কিন্তু তখন নির্বাচনের পরিস্থিতি না থাকায় বিনয় তামাংকে চেয়ারম্যান করা হয়। পরে ২০১৯ সালে উপ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য বিনয় ইস্তফা দেন। তখন দায়িত্ব দেওয়া হয় অনীত থাপাকে। তিনি চেয়ারম্যান হয়ে জিটিএ চালাচ্ছিলেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তাঁকেও ইস্তফা দিতে হয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে। এখন জিটিএ–এর মুখ্যসচিব সুরেন্দ্র গুপ্তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বন্ধ করুন