বাৎসরিক আয়ের ৪০%  উঠে আসে ফার্স্ট ফ্লাশ পাতা বিক্রি করে।
বাৎসরিক আয়ের ৪০%  উঠে আসে ফার্স্ট ফ্লাশ পাতা বিক্রি করে।

লকডাউনে মার খেয়েছে ফার্স্ট ফ্লাশ, বড়সড় ক্ষতির মুখে দার্জিলিঙের চা শিল্প

  • ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল ফার্স্ট ফ্লাশ পাতা তোলার মরশুম। ব্যবসায়ে বাৎসরিক আয়ের ৪০%  উঠে আসে ফার্স্ট ফ্লাশ পাতা বিক্রি করে।

লকডাউন ও বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার জেরে মার খেতে পারে দার্জিলিঙের ভুবনবিখ্যাত ফার্স্ট ফ্লাশ চা ব্যবসা। এই আশঙ্কায় ভুগছেন বাংলার চা বাগান মালিকরা।

দেশ-বিদেশের বাজারে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয় দার্জিলিঙের ফার্স্ট ফ্লাশ চা পাতা। মরশুমের বিক্রিবাটার উপরেই নির্ভর করে জেলার ৮৭টি চা বাগানে কর্মরত ৫৫,০০০ স্থায়ী শ্রমিকের বছরভর গ্রাসাচ্ছাদন। 

১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল ফার্স্ট ফ্লাশ পাতা তোলার মরশুম। গোটা বছরে রকমারি গোত্রের ৮০ লাখ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয় দার্জিলিঙের চা বাগানগুলিতে। কিন্তু বাৎসরিক আয়ের ৪০%  উঠে আসে ফার্স্ট ফ্লাশ পাতা বিক্রি করে। মান ও চাহিদার ভিত্তিতে বাজারে প্রতি কেজির দাম পড়ে ১,২০০ থেকে ২০,০০০ টাকা।

 লকডাউনের জেরে এবার ছেদ পড়েছে দুটি পাতা একটি কুঁড়ি তোলায়। শেষ পর্যন্ত চা শিল্পের কথা ভেবেই ১২ এপ্রিল লকডাউনে পাতা তোলায় ছাড় দেওয়া হয়, কিন্তু তত দিনে প্রয়োজনের তুলনায় বেড়ে গিয়েছে চা গাছ। তার ফলে বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন দার্জিলিঙের চা শিল্প।

পাহাড়ের পাদদেশের বাগানে প্রথমে দেখা যায় ফার্স্ট ফ্লাশের উপযোগী পাতা ও কুঁড়ি। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চতা অনুযায়ী এই ফলন দেখা দিতে থাকে। এই কারণে এবার শুধুমাত্র পাহাড়ের নীচের দিকের বাগানগুলি থেকেই ফার্স্ট ফ্লাশ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। 

শুধু তাই নয়, পাতা তুলতে গেলে আগে নমুনা পাঠাতে হয় চা সংস্থার প্রধান দফতরে, যার বেশিরভাগই কলকাতায় অবস্থিত। লকডাউনে ক্যুরিয়ার পরিষেবা বন্ধ থাকায় এবার সেই কাজও সময় মতো সারা যায়নি, জানিয়েছেন রোহিনী ও গোপালধারা চা বাগানের ডিরেক্টর ঋষি সারিয়া।   

এই কারণেই চামং টি এক্সপোর্টস সংস্থার চেয়ারম্যান অশোক লোহিয়া দাবি করেছেন, ফার্স্ট ফ্লাশ থেকে আয় এবার উল্লেখযোগ্য হারে  কমবে। এখন একমাত্র ভরসা ইউরোপের চা বাজার, মনে করছেন দার্জিলিঙের চা ব্যবসায়ীরা।  

বন্ধ করুন