বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > Gobordanga Hospital: অর্ধেক মাস ডাক্তার নেই গোবরডাঙা হাসপাতালে, বিপাকে পড়েছেন একাধিক রোগী

Gobordanga Hospital: অর্ধেক মাস ডাক্তার নেই গোবরডাঙা হাসপাতালে, বিপাকে পড়েছেন একাধিক রোগী

গোবরডাঙা হাসপাতাল

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে হাসপাতালের গোটা পরিকাঠামো নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। ২০১৪ সালে জেলা পরিষদ নোটিশ দিয়ে ইন্ডোর পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে করোনাভাইরাসের সময় স্বাস্থ্যদফতর এটিকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলে। ৫০ বেডের এই হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসক, সাতজন নার্স নিয়োগ করা হয়েছিল।

করোনাভাইরাস যখন জাঁকিয়ে বসেছিল রাজ্যে তখন কোটি টাকা খরচ করে সংস্কার করা হয়েছিল হাসপাতাল। কিন্তু এখন করোনাভাইরাস মুক্ত বাংলা হলেও চিকিৎসকের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ গোবরডাঙা হাসপাতালে বলে অভিযোগ। এমনকী গত ১৫ দিন (‌অর্ধেক মাস)‌ ধরে বন্ধ পরিষেবা। যার জেরে চরম বিপাকে গোবরডাঙা–সহ গাইঘাটা এবং স্বরূপনগরের বাসিন্দারা। উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে জেলা পরিষদ পরিচালিত এই হাসপাতাল বন্ধ। তবে জেলা পরিষদ জানিয়েছে, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্যদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

ঠিক কী জানাচ্ছে জেলা পরিষদ?‌ এই সমস্যা নিয়ে এখন সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তবে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতি চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘একমাত্র চিকিৎসক অবসর নেওয়ায় হাসপাতাল আপাতত বন্ধ। বিষয়টি জেলাশাসক ও স্বাস্থ্যদফতরকে জানানো হয়েছে। এমনকী স্বাস্থ্যদফতরকে হাসপাতাল অধিগ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছি। আর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে ওপিডি চালানোর চেষ্টা চলছে।’

আর কে, কি বলছেন?‌ এই সমস্যা নিয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, ‘প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে। দ্রুত ওই হাসপাতালের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ গোবরডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর দত্ত সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে গত ১৫ দিন ধরে গোবরডাঙা গ্রামীণ হাসপাতাল বন্ধ। বিষয়টি সর্বস্তরে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’ এখানের একমাত্র চিকিৎসক জর্জ অগস্টিন গত ডিসেম্বর মাসে অবসর নেন। তারপর থেকে গোবরডাঙা হাসপাতাল বন্ধ রয়েছে।

আর কী জানা যাচ্ছে?‌ ১৯৫৭ সালে প্রায় ৬ বিঘা জমির উপর গোবরডাঙা স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হয়েছিল। পরিকাঠামোর উন্নতি হলে সেটি আধুনিক হাসপাতালে বদলে যায়। ২০০১ সালে হাসপাতালটি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অধীনে আসে। তারপর থেকেই পরিষেবার মান খারাপ হতে থাকে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। এই হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ার্টার রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার এবং প্যাথলোজিক্যাল পরীক্ষার পরিকাঠামোও রয়েছে। শুধু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে হাসপাতালের গোটা পরিকাঠামো নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে জেলা পরিষদ নোটিশ দিয়ে ইন্ডোর পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে করোনাভাইরাসের দাপটের সময় স্বাস্থ্যদফতর এটিকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলে। ৫০ বেডের এই হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসক, সাতজন নার্স ছাড়াও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছিল। এখন হাসপাতালটি বন্ধ হয়েছে।

বন্ধ করুন