বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > জল ছাড়ার পরিমাণ কমাল দুর্গাপুর ব্যারেজ, পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি দক্ষিণবঙ্গে
বানভাসী দক্ষিণবঙ্গ।
বানভাসী দক্ষিণবঙ্গ।

জল ছাড়ার পরিমাণ কমাল দুর্গাপুর ব্যারেজ, পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি দক্ষিণবঙ্গে

  • জানা গিয়েছে, এখন মাইথন ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাঞ্চেত জল ছাড়ছে ৫৫ হাজার কিউসেক।

নাগাড়ে বৃষ্টিপাত এখন কমেছে। আর এমন হবে বলেও কোনও পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওযা দফতর। সুতরাং এখন অনুকূল পরিবেশ থাকছে বলা চলে। এই পরিস্থিতি বুঝে জল ছাড়ার পরিমাণ আরও কমাল দুর্গাপুর ব্যারেজ। একধাক্কায় প্রায় ৮ হাজার কিউসেক জল কম ছাড়ল দুর্গাপুর ব্যারেজ। অনেকেই বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জল ছাড়া নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়তেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সকালে এই ব্যারেজ থেকে ১ লক্ষ ১২ হাজার ১০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। আর তারপর বিকেলে জল ছাড়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৪০০ কিউসেক।

কিন্তু জল কম ছাড়ার প্রকৃত কারণ কী?‌ দুর্গাপুর ব্যারেজ সূত্রে খবর, একদিকে বৃষ্টি হওয়া বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে নতুন করে বৃষ্টি হচ্ছে না। তাই কমানো হচ্ছে জল ছাড়ার পরিমাণ। সেচ দফতর সূত্রে অবশ্য খবর, বৃষ্টি আর না হলে, আরও কমানো হবে জল ছাড়ার পরিমাণ। তার জেরে বানভাসী পরিস্থিতির উন্নতি হবে দক্ষিণবঙ্গে।

জানা গিয়েছে, এখন মাইথন ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাঞ্চেত জল ছাড়ছে ৫৫ হাজার কিউসেক। এই দু’টি মিলিয়ে মোট জল ছাড়ার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার কিউসেক। তবে তাতে খুব সমস্যা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে ডিভিসি আর দুর্গাপুর ব্যারেজের জল ছাড়ার জেরে পুজোর মুখে প্লাবিত হয়ে পড়ে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমের বিস্তীর্ণ এলাকা।

এই নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‌ঝাড়খণ্ডে যেহেতু অনেক বৃষ্টি হয়েছে ওরা আমাদের না বলে রাত ৩টের সময় আসানসোলে জল ছেড়ে দেয়। ফলে আসানসোল পুরো ডুবে যায়। একই সঙ্গে বাঁকুড়া, পুরুলিয়াও। সমস্যা হচ্ছে, ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলে আমাদের ফেস করতে হচ্ছে, বিহারে বৃষ্টি হলে আমাদের ফেস করতে হচ্ছে। ওরা যদি ওদের ট্যাঙ্কগুলো, ড্যামগুলো একটু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখে, তা হলে কিন্তু অনেক জল জলাধারে ধরতে পারে। কিন্তু ওরা দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কোনও পরিষ্কার করে না। কোনও ড্রেজিং করে না। ফলে ওদের খেসারতটা আমাদের দিতে হচ্ছে। এটা ম্যান মেড ফ্লাড।’‌

বন্ধ করুন