বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ব্যারেজ বিপর্যয়ে দুর্গাপুর, বাঁকুড়ায় জলকষ্ট, মেজিয়ায় বিঘ্নিত বিদ্যুৎ উৎপাদন
বালির বস্তা ফেলে জল আটকানোর চেষ্টা চলছে দুর্গাপুর ব্যারেজে। ছবি : সংগৃহীত
বালির বস্তা ফেলে জল আটকানোর চেষ্টা চলছে দুর্গাপুর ব্যারেজে। ছবি : সংগৃহীত

ব্যারেজ বিপর্যয়ে দুর্গাপুর, বাঁকুড়ায় জলকষ্ট, মেজিয়ায় বিঘ্নিত বিদ্যুৎ উৎপাদন

  • স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার থেকে স্বাভাবিকভাবে জল পাচ্ছেন না তাঁরা। জলের ট্যাঙ্কার থেকে দুই বালতি জলেও দেওয়া হচ্ছে না। দুর্গাপুরের মেয়র দিলীপ অগস্তি বলেন, আমার ঘরেও জল নেই। তবু চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সবাই পানীয় জলটা অন্তত পাক।

দু’‌দিন কেটে গেলেও এখনও শুরু হয়নি দুর্গাপুর ব্যারেজের লকগেট মেরামতির কাজ। জমা জল সম্পূর্ণ না সরায় এই কাজ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়াররা। জলশূন্য করার পর লকগেট মেরামতির কাজ শুরু করা যাবে। আপাতত বালির বস্তা ফেলে জল আটকানোর চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত লকগেট মেরামতির জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জলশূন্য করা হচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারেজ।

ইতিমধ্যে পাইপলাইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় জল সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। আর তার দেরে দুর্গাপুর ও বাঁকুড়ায় দেখা দিয়েছে পানীয় জলের সঙ্কট। মঙ্গলবারের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জলের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহতেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। দুর্গাপুর ব্যারেজ জলশূন্য করার লক্ষ্যে আগে থেকেই মাইথন জলাধার থেকে জল ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুর্গাপুর থেকেও জল আসা বন্ধ। তাই জলের অভাবে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এর জেরে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হবে বলে জানা গিয়েছে।

দুর্গাপুর পুরনিগম এলাকার পাশাপাশি বাঁকুড়ার ১ ও ২ নম্বর ব্লক ও বড়জোড়া ব্লকে ইতিমধ্যে জলকষ্ট দেখা দিয়েছে। জলের পাউচ সরবরাহ করে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছে প্রশাসন। বাঁকুড়ায় তিনটি মোবাইল ট্রিটমেন্ট ইউনিট কাজে করছে। এগুলিতে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ হাজার জলের পাউচ তৈরি করা যায়। আপাতত ৪০ হাজার জলের পাউচ তৈরি করে রেখেছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়াল বলেন, ‘‌একই ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালে। তা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার যাতে সাধারণ মানুষ জলসঙ্কটে না ভোগেন তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের ট্যাঙ্কার পাঠানোর পাশাপাশি প্রায় ১ লক্ষ জলের পাউচ তৈরি করা হয়েছে। মোট ৩৬টি ট্যাঙ্কার ঘুরছে বিভিন্ন এলাকায়।’‌

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার থেকে স্বাভাবিকভাবে জল পাচ্ছেন না তাঁরা। জলের ট্যাঙ্কার থেকে দুই বালতি জলেও দেওয়া হচ্ছে না। দুর্গাপুরের মেয়র দিলীপ অগস্তি বলেন, আমার ঘরেও জল নেই। তবু চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সবাই পানীয় জলটা অন্তত পাক।

বন্ধ করুন